নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চুরির মামলায় গ্রেপ্তারের পর সে ভবানীপুর থানাকে বলেছিল, তার নাম মহম্মদ জসিম। ওই নামেই ছিল তার আধার কার্ড। হাওড়ার গোলাবাড়ি থানা এলাকায় ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিল সে। সেই মামলায় গ্রেপ্তারের পর নিজেকে মহম্মদ ইমরান বলে পরিচয় দিয়েছিল অভিযুক্ত। ওই নামেও তার আধার কার্ড ছিল, তবে তা জাল। দু’টি কার্ডেই বাবার নাম আলাদা। হাওড়া সংশোধনাগারে থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাওড়া হাসপাতালে ভরতি করা হয়। সেখান থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। এরপর নাম বিভ্রাটের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন নিজের বাড়িতেই ঘাপটি মেরে বসেছিল অভিযুক্ত। কিন্তু তাতে শেষরক্ষা হল না। প্রেসিডেন্সি ও হাওড়া সংশোধনাগারের ফিঙ্গার প্রিন্টই জানিয়ে দিল, ভবানীপুর ও গোলাবাড়ি এলাকা থেকে ধৃত যুবক আসলে একই ব্যক্তি। অবশেষে পাঁচ বছর ধরে পলাতক জসিমকে গ্রেপ্তার করল হাওড়া সিটি পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২০ সালে ভবানীপুর এলাকায় একটি বাড়িতে চুরি হয়। ওই ঘটনার তদন্তে নেমে বেনিয়াপুকুরের বাসিন্দা মহম্মদ জসিমকে গ্রেপ্তার করে ভবানীপুর থানার পুলিশ। তার ঠাঁই হয় প্রেসিডেন্সি জেলে। সেখানে তার ফিঙ্গার প্রিন্ট নেওয়া হয়েছিল। জেল কর্তৃপক্ষের কাছে সে যে আধার কার্ড জমা দিয়েছিল, তাতে বাবার নাম ছিল নাসিম। মাস খানেকের মধ্যেই জেল থেকে বেরিয়ে কলকাতায় ফের কয়েকটি অপরাধ করে। এরমাঝেই সে জাল আধার ও ভোটার কার্ড বানিয়ে ফেলে। ২০২১ সালে কোভিডের সময় ডাকাতির পরিকল্পনা করতে গিয়ে ধরা পড়ে হাওড়ার গোলাবাড়ি থানার হাতে। তখন সে নিজেকে মহম্মদ ইমরান ও বাবার নাম ইসমাইল বলে জানিয়েছিল। ওই নামেই তার আধার কার্ড জমা পড়েছিল হাওড়া সংশোধনাগারে।
তার খোঁজ করতে বেনিয়াপুকুর এলাকায় যায় পুলিশ। কিন্তু হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আসা ইমরানের খোঁজ কেউ দিতে পারেননি। কারণ ওই এলাকার মানুষ তাকে ইমরান নয়, জসিম নামে চিনত। জট খুলতে শেষমেশ প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার সহ বিভিন্ন সংশোধনাগারের ডেট বেস থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ছবি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখা যায়, এক সময় হাওড়া সংশোধনাগারে বন্দি থাকা ইমরানের সঙ্গে প্রেসিডেন্সিতে থাকা জসিমের মুখের মিল রয়েছে। দুই জেল থেকে অভিযুক্তের ফিঙ্গার প্রিন্টের নমুনা জোগাড় করে মেলানো হয়। তা থেকেই প্রমাণ হয়, দু’জন আসলে একই ব্যক্তি। এরপর হাওড়া সিটি পুলিশের অফিসাররা বেনিয়াপুকুর থানাকে সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে বাড়ি থেকে জসিমকে পাকড়াও করে। এরপর সংশোধনাগারে নিয়ে গিয়ে তার ফিঙ্গার প্রিন্টের নমুনা মেলাতেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা যায়, সে পরিচয় গোপন করতেই জাল আধার কার্ড বানিয়েছিল। সেটি জমা দিয়েছিল হাওড়া সংশোধনাগারে। যাতে নাম বিভ্রাটের কারণে পুলিশ তাকে ধরতে না পারে।