Bartaman Logo
৩০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

তিনি বিদ্ধ হলেন

নেতাজি ‘দেশদ্রোহী’! সম্প্রতি একথা বলে বাঙালির চক্ষুশূল হয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ। নেতাজিকে পরোক্ষে ‘গুন্ডা’ আখ্যা দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্যও। বঙ্গে পালাবদলের পর ‘নেতাজি সুভাষ রোড’ নাম বদলে হয়েছে ‘ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী রোড’। অবশ্য শুধু এখন নয়, দশকের পর দশক বারে বারে এমন আক্রমণে বিদ্ধ হয়েছেন নেতাজি।

তিনি বিদ্ধ হলেন
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

জয়ন্ত চৌধুরী: আপনি কোন বোসের উত্তরসূরি?

Advertisement

প্রশ্নকর্তা অর্থশাস্ত্রের কিংবদন্তি শিক্ষক পল স্যামুয়েলসন। তরুণ গবেষক কৌশিক বোস তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন। প্রশ্ন শুনে কিঞ্চিৎ বিস্ময় প্রকাশ করলেন তিনি। 
স্যামুয়েলসন খোলসা করলেন, আমি ভারতের তিন বোসকে জানি। একজন সায়েন্টিস্ট বোস, একজন কমিউনিস্ট বোস আর একজন ফ্যাসিস্ট বোস। ২০১১ সালে স্যামুয়েলসনের মৃত্যুর পর কলকাতার এক ইংরেজি দৈনিকে তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণায় ওই আখ্যান শুনিয়েছিলেন ভারত সরকারের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কৌশিক বসু। 
স্বভাবরসিক বলে পরিচিত স্যামুয়েলসন হয়তো লঘুচালে ওই মন্তব্য করেছিলেন, কিন্তু তাতে ভারতীয় তিন বসুর পরিচিতির মোড়কে পশ্চিমি মেধাজীবী মহল কী ধারণা পোষণ করেন, তার মূল সুরটি কিন্তু ধরা যায়। এক্ষেত্রে একজন বঙ্গবাসীর কাছে, জগদীশচন্দ্র বসুর বিজ্ঞানী বা জ্যোতি বসুর কমিউনিস্ট পরিচিতি যতটা সাবলীল, ঠিক ততটাই হোঁচট খেতে হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ফ্যাসিস্ট পরিচয়ে।
নেতাজির অন্তর্ধানের পর প্রায় সাড়ে সাত দশক অতিক্রান্ত। পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, তামাম ভারতীয়ের কাছে দেশনায়ক হিসাবে নেতাজির জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা এবং দেশপ্রেমজনিত আবেগ এখনও অপ্রতিরোধ্য। একইসঙ্গে দশকের পর দশক বিতর্কে বিদ্ধ হয়েছেন নেতাজি। সেই বিতর্ক আজও বহমান। বাংলার সমসাময়িক রাজনীতিতে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা বারংবার ভিন্ন ভিন্ন অনুষঙ্গে ফিরে এসেছে।
এককথায় তাঁর অন্তর্ধান যতই রহস্যাবৃত হোক না কেন, তাঁকে ঘিরে বয়ে চলা বিতর্কই বলে দেয়, নেতাজি আজও জীবিত। ক্ষতবিক্ষত হয়েও নেতাজি এতটাই জীবন্ত যে তাঁর মূর্তি ভাঙা কিংবা তাঁর নামাঙ্কিত রাস্তা বদলে ফেলেও স্বস্তি নেই। দশকের পর দশক বিদ্ধ হতে হতেই নেতাজি সুভাষ বসু জীবন্ত হয়েই রয়ে গিয়েছে বাঙালি সমাজে। এই সমাজ কিন্তু শ্রেণি-বর্ণের ঊর্ধ্বে। তাই নেতাজি যেমন যুগে যুগে নিজস্ব প্রাসঙ্গিকতা নির্মাণ করেছেন, তেমনই বিনির্মিত হয়েও চলেছেন। আজ একবিংশ শতকের সিকিভাগ পার করেও তা থামার কোনো লক্ষণ নেই। 
গত শতকের তিনের দশক থেকে অবিভক্ত বাংলা তথা ভারতের রাজনীতিতে, প্রবল গান্ধী হাওয়ায় একেবারে স্বতন্ত্র্য পরিচিতি নিয়ে সুভাষ বসুর আবির্ভাব। ১৯২১ সালে আইসিএস ফাইনাল পরীক্ষা না দিয়েই বিলেত থেকে দেশে ফেরেন সুভাষ। মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন তখন আকৃষ্ট করেছিল তরুণ সুভাষকে। বিলেত ফেরত গান্ধীর সঙ্গে মুম্বইতে প্রথম সাক্ষাৎ হয় সুভাষ বসুর। গান্ধীজির প্রতি শ্রদ্ধাশীল চিত্তে দেখা করতে গেলেও, সেই পারস্পরিক সম্পর্কের সূচনালগ্ন থেকেই মতপার্থক্য প্রকট হয়। গান্ধী প্রণীত অহিংস অসহযোগের তত্ত্বে তাঁর আস্থা ছিল না। তখন সুভাষের বয়স বছর চব্বিশ আর গান্ধী সদ্য পঞ্চাশ বছর পেরিয়েছেন। ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হতে যে কোনো উপায়, প্রয়োজনে সহিংস পথেও যেতে হতে পারে, মনে করতেন সুভাষ। এই মতান্তর থেকেই ধীরে ধীরে দুই স্পষ্ট মতাদর্শের বিরোধ তৈরি করে।  
গান্ধীর অভিভাবকত্ব ও জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিলেও সুভাষের আলাদা সত্ত্বা বহাল ছিল। ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস সভাপতি নিযুক্ত হওয়ার পর তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়লেও দলের অন্দরে উলটো স্রোত বইতে শুরু করে। কংগ্রেসের মধ্যে থেকেই ফরওয়ার্ড ব্লক গঠন সেই অভ্যন্তরীণ বিরোধের বহিঃপ্রকাশ। পরের বছর বহুচর্চিত জাতীয় কংগ্রেসের ত্রিপুরী অধিবেশন। যেখানে গান্ধীর প্রতিনিধি পট্টভি সিতারামাইয়াকে সাংগঠনিক নির্বাচনে পরাজিত করলেন সুভাষ বসু। ক্ষুব্ধ গান্ধী নিজের পরাজয় কবুল করলেন। ‘সিতারামাইয়া পরাজয় আমারই পরাজয়’। সেই প্রথম বস্তুত রাজনৈতিক স্তরে সুভাষ বসু বিদ্ধ হলেন। যিনি তাঁকে বিদ্ধ করলেন, পরে সেই গান্ধীজিকেই তিনি ‘জাতির জনক’ আখ্যা দিলেন। যদিও বাংলায় হিন্দু, মুসলমান নির্বিশেষে আম জনতা সেই বিরোধে প্রায় ঈশ্বর বিশ্বাসীর মতো সুভাষের দিকে ঝুঁকে পড়তে শুরু করে। আজ প্রায় সাড়ে আট দশক বাদেও তা বদলায়নি। অবিভক্ত বাংলার সাধারণ মানুষ গান্ধী ও তৎকালীন কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির ভূমিকা মোটেই ভালোভাবে নেয়নি। সেই সময়ে সুভাষ বসুর জনপ্রিয়তা যেমন তুঙ্গে, তেমনই গান্ধী সম্পর্কে আম জনতার নেতিবাচক মনোভাব সংগঠিত হতে থাকে। হলফ করে বলা চলে, আজকের দিনেও এই দুই ব্যক্তিত্বের গ্রহণযোগ্যতা পরিমাপ করলে নেতাজি অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন। আম জনতার সেই ‘পালস’ স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও টের পেয়েছিলেন।
কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর তিনি লিখছেন, ‘বাঙালি অদৃষ্ট কর্তৃক অপমানিত হয়ে মরবে না। এই আশাকে সমস্ত দেশে তুমি জাগিয়ে তোলো। সাংঘাতিক মার খেয়েও বাঙালি মারের উপরে মাথা তুলবে।... দুঃখকে তুমি করে তুলেছ সুযোগ, বিঘ্নকে করেছ সোপান। সে সম্ভব হয়েছে, যেহেতু কোনো পরাভবকে তুমি একান্ত সত্য বলে মানোনি। তোমার এই চরিত্রশক্তিকেই বাংলাদেশের অন্তরের মধ্যে সঞ্চারিত করে দেবার প্রয়োজন সকলের চেয়ে গুরুতর...’
গান্ধী-সুভাষ বিরোধের আবহে বাংলায় যে ন্যারেটিভ তৈরি হয়েছিল, তার অভিঘাত রাজনৈতিক স্তর থেকে বাঙালির সামাজিক স্তরের গভীরে পৌঁছে গিয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ তা উপলব্ধি করেছিলেন। অন্যভাবে বলা হলে, মাটির বাড়ি থেকে শহুরে বহুতলের ঘরে ঘরে নেতাজি যেন একটা ‘হাউস হোল্ড নেম’। রাস্তার নাম থেকে মিষ্টির দোকান,  মায় সেলুনেও নেতাজি আজও বিরাজমান।
সেই গান্ধী থেকে যে ধারার সূত্রপাত, ভিন্ন ভিন্ন যুগে ভিন্ন ভিন্ন অনুষঙ্গে তাঁকে বিদ্ধ হতে হয়েছে। তা নিয়ে সাময়িক আলোড়ন পড়লেও, জনমানসে  নেতাজির আসন অক্ষুণ্ণ রয়ে গিয়েছে। এ এমনই এক জাদু।
১৯৪১ সাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। হিটলারের নাৎসি শাসিত জার্মানি স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন সোভিয়েত রাশিয়া আক্রমণ করে। বিশ্বের কমিউনিস্টরা ওই মহাযুদ্ধকে ‘জনযুদ্ধ’ বলে আখ্যায়িত করল। সোভিয়েত ইউনিয়নকে রক্ষার লক্ষ্যে তারা ব্রিটিশদের পক্ষ নেয়। নেতাজি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য অক্ষশক্তি ফ্যাসিস্ট জার্মানি ও জাপানের সহায়তা নেন। মতাদর্শগত কারণে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্রে নেতাজির সঙ্গে ফ্যাসিস্ট শক্তির বোঝাপড়ার বিরোধিতায় কড়া সমালোচনা করা হয়। এমনকি ওইসব পত্রিকায় কার্টুন সহযোগে নেতাজিকে জাপানের রাষ্ট্রপ্রধান ‘তোজোর কুকুর’ বলে উল্লেখ করতেও দ্বিধা করেনি। বঙ্গবাসী কিন্তু সেদিনও নেতাজি সম্পর্কে কমিউনিস্টদের সেই মূল্যায়ন মেনে নেয়নি। জনমানসের সেই বিরূপ প্রতিক্রিয়ার চাপ ধরে রাখতে পারেনি বামপন্থীরা। অচিরেই বস্তুত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় তারা। নেতাজির ‘ফ্যাসিস্ট’ প্রসঙ্গ এড়িয়ে তাঁর দেশপ্রেম ও সমাজতান্ত্রিক ধারণার স্তুতি করে প্রায়শ্চিত্ত করতে হয় বামেদের।
অবিভক্ত বাংলার অ-কংগ্রেসি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে সুভাষচন্দ্রের একমাত্র প্রতিপক্ষ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সুভাষচন্দ্র যখন কংগ্রেস ত্যাগ করেছেন, তার পরপরই শ্যামাপ্রসাদ হিন্দু মহাসভার সর্বভারতীয় কার্যকরী সভাপতি ও বাংলা শাখার সভাপতি নিযুক্ত হন। দামোদর সাভারকারকে অনুসরণ করে তিনিও হিন্দুদের জাতপাতের বেড়া ভাঙতে তৎপর হলেন। ১৯৩৯ সালের গোড়ায় সাভারকার মুঙ্গেরে পাঁচটি সাঁওতাল বালককে হিন্দু সম্প্রদায়ে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। শ্যামাপ্রসাদ ওই বছরের শেষ দিকে ত্রিপুরার চাঁদপুরে গৌরনিতাই মন্দিরে সব জাতের প্রবেশ অবাধ করতেও উদ্যোগ নেন। 
একই সময়ে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলায় মুসলিম লিগের রাজনৈতিক আধিপত্য বাড়তে থাকে। ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে কলকাতা কর্পোরেশন নির্বাচনে সুভাষচন্দ্র ও শ্যামাপ্রসাদের সরাসরি রাজনৈতিক মোকাবিলা। মুসলিম লিগকে রুখতে হবে, দৃষ্টিভঙ্গিতে মৌলিক পার্থক্য থাকলেও দু’জনের বাধ্যবাধকতা এই প্রশ্নে অভিন্ন। শ্যামাপ্রসাদ চেয়েছিলেন, ফরওয়ার্ড ব্লক ও হিন্দু মহাসভা একজোট হয়ে মুসলিম লিগের বিরুদ্ধে লড়াই করুক। সুভাষচন্দ্র শ্যামাপ্রসাদের সেই প্রস্তাব শুধু প্রত্যাখ্যানই করেননি, রীতিমতো আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিয়েছিলেন। মুসলিম ও হিন্দু দুই মৌলবাদের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর এবং আপোষহীন অবস্থান।
একটা সময় পর্যন্ত কংগ্রেস নেতারা হিন্দু মহাসভা ও মুসলিম লিগের সদস্য হতে পারতেন। সুভাষচন্দ্র ফরওয়ার্ড ব্লকের মুখপত্রে ১৯৪০ সালের মে মাসে লিখছেন, ‘...ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস তাদের নিয়মতন্ত্রে একটি ধরা যোগ করেছে, যাতে বলা হয়েছে হিন্দু মহাসভা আর মুসলিম লিগের মতো সাম্প্রদায়িক সংগঠনের কোনও সদস্য কংগ্রেসের কোনো নির্বাচনী কমিটির সদস্য হতে পারবে না।’ গবেষক-প্রাবন্ধিক আশিস লাহিড়ীর মতে, কংগ্রেস নিয়মতন্ত্রে ওই ধারাটি সম্ভবত সুভাষচন্দ্র কংগ্রেস সভাপতি থাকার সময় যুক্ত হয়েছিল।
১৯৪০ সালে কর্পোরেশন নির্বাচনে, ফরওয়ার্ড ব্লক আর হিন্দু মহাসভা সমসংখ্যক আসনে জয় পায়। মুসলিম লিগকে রুখতে ফের শ্যামাপ্রসাদ সন্ধি প্রস্তাব দেন সুভাষচন্দ্রকে। ফের প্রত্যাখ্যাত যদিও ততদিনে নিজের কট্টর হিন্দুদরদী ভাবমূর্তি গড়ে ফেলেছেন শ্যামাপ্রসাদ। তৎকালীন হিন্দুত্বের প্রবক্তা দামোদর সাভারকার আর শ্যামাপ্রসাদের নৈকট্য আরও ঘনীভূত হয়। সাভারকারের পরেই অখণ্ড বাংলার হিন্দু মহাসভার শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে ওঠেন শ্যামাপ্রসাদ। বিবেকানন্দ অনুপ্রাণিত সুভাষচন্দ্র নিষ্ঠাবান হিন্দু অনুরাগী হলেও তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ছিল সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে। নেতাজির আজাদ হিন্দ বাহিনী ছিল তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কিন্তু ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামের কৌশলী পদক্ষেপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গোপনে ছদ্মবেশে দেশ ছাড়লেন তিনি। নেতাজির অন্তর্ধান শ্যামাপ্রসাদকে বাড়তি সুবিধা করে দিল।
কিন্তু স্বাধীনতার আগে বা পরে বাংলার নির্বাচনি ভাগ্য শ্যামাপ্রসাদের কখনই প্রসন্ন ছিল না। ভারত তথা বাংলা ভেঙে পশ্চিমবঙ্গ গঠনে শ্যামাপ্রসাদের ঐতিহাসিক অবদান, বা কলকাতায় দাঙ্গা পরবর্তী ধর্মীয় মেরুকরণের উস্কানি সত্ত্বেও শ্যামাপ্রসাদের জনসংঘের প্রদীপ টিমটিম করে জ্বলেছে ভোটের ময়দানে। পূর্ব বঙ্গীয় উদ্বাস্তুদের মধ্যে বামপন্থীদের দাপটে হিন্দুত্বের বিস্তার পরিষদীয় রাজনীতিতে অধরা রয়ে যায়। অর্থাৎ নির্বাচনে প্রত্যাশিত হিন্দু ‘কনসলিডেশন’ ঘটেনি।
অবশেষে তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলায় গেরুয়া রাজ। স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত শ্যামাপ্রসাদ অনুরাগীরা। তাঁকে জনসমক্ষে নব কলেবরে প্রতিষ্ঠা করতে রাজ্যে তাঁর সুউচ্চ মূর্তি গড়ার পাশাপাশি অনিবার্যভাবে এসে পড়ছে নেতাজি প্রসঙ্গ। ফের নেতাজিকে বিদ্ধ করার উদ্যোগ। নিদেনপক্ষে শ্যামাপ্রসাদের অবদানকে জনসমক্ষে স্মরণ করাতে নেতাজিকে পরোক্ষে ‘গুন্ডা’ বলতেও কুণ্ঠাবোধ করেনি বর্তমান শাসকদল। তবে বঙ্গ জীবনে নেতাজি অনুরাগের প্রাবল্য টের পেয়ে ঢোক গিলতে বাধ্য হয়েছে গেরুয়া বাহিনী। আসলে বারংবার বিদ্ধ করলেও নেতাজিকে আত্মসাৎ করা শুধু কঠিন নয়, অসম্ভবও বটে।
• লেখক : সাংবাদিক 
• গ্রাফিক্স : সোমনাথ পাল
• সহযোগিতায় : সত্যেন্দ্র পাত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ