অর্ক দে, কলকাতা: পারিবারিক বিবাদ। তার জেরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যেতে বসেছিল কালীঘাটের বাসিন্দা অশেষ মুখোপাধ্যায়ের (নাম পরিবর্তিত)! বিএলও’র কাছে তাঁকে ‘মৃত’ বলে চালিয়ে দিচ্ছিলেন আত্মীয়রা। সৌভাগ্যবশত বিএলও’র সঙ্গে দেখা হওয়ায় ‘মৃত’ অশেষবাবু ‘বেঁচে’ গিয়েছেন। হাতে পেয়েছেন এসআইআরের ইনিউমারেশন ফর্ম।
এমনই ঘটনা ঘটেছে কালীঘাটের ৮৩ নম্বর ওয়ার্ডের অমৃত ব্যানার্জি রোডে। পারিবারিক বিবাদে জড়িয়ে পড়ায় কার্যত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল অশেষবাবুর। জানা গিয়েছে, তাঁদের পরিবার কালীঘাট অঞ্চলের বহুকালের বাসিন্দা। আগে একান্নবর্তী পরিবার থাকলেও কালের নিয়মে জমি-সম্পত্তি ভাগ হয়েছে। বর্তমানে অশেষবাবুর বাড়িতে প্রবেশের দু’টি দরজা। একদিকে অশেষবাবু ও তাঁর তাঁর পরিবার, অন্যদিকে থাকে অশেষবাবুর জ্যাঠতুতো ভাইয়ের পরিবার।
সম্প্রতি ফর্ম দিতে সেই বাড়িতে গিয়েছিলেন বিএলও। প্রথমে তিনি এক দিকের দরজা দিয়ে বাড়িতে ঢোকেন। অশেষবাবুর জ্যাঠামশাইয়ের পরিবারের সদস্যদের ফর্ম বিলি করার পর বিএলও পরিবারের অন্যদের কথা জিজ্ঞাসা করলে তাঁকে বলা হয়, ‘ও (অশেষ) তো মারা গেছে।’ স্বাভাবিকভাবেই একথা শুনে ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান বিএলও। রাস্তায় বেরিয়ে একটু এগতেই একই বাড়ির অন্য দরজা নজরে আসে তাঁর। সেই দরজার সামনে আসতেই কৌতূহলবশত বেরিয়ে আসেন এক বয়স্ক ভদ্রলোক। বিএলও জিজ্ঞাসা করেন, ‘কে আপনি? আপনার নাম কি? বয়স্ক ভদ্রলোক বলেন, ‘আমি অশেষ মুখোপাধ্যায়।’ বিএলও’র মাথায় তখন আকাশ ভেঙে পড়েছে। বলেন, ‘আপনি বেঁচে? ওনারা যে বললেন, আপনি মারা গিয়েছেন’। নিজের আত্মীয়রাই তাঁকে মেরে ফেলেছে শুনে তাজ্জব বনে যান অশেষবাবু। অবশেষে তিনি বিএলওকে ঘরে নিয়ে গিয়ে তাঁর থেকে ফর্ম নেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদ অনেকদিনের। তার জেরেই হয়তো ঘটেছে এই ঘটনা। এসআইআর নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা গেলেও কালীঘাটের এই ঘটনা বেশ কৌতুকের। পারিবারিক ঝামেলার জেরে ভোটার তালিকা থেকেই নাম ‘হাওয়া’ হয়ে যাচ্ছিল অশেষবাবুর! বৃদ্ধের উক্তি, ‘কী বলব বলুন! পরিবারের ঝামেলার কথা তো আর ঢাক পিটিয়ে কাউকে বলতে পারব না। এখন হাতে ফর্ম পেয়েছি। এটাই রক্ষে! আমি দরজার সামনে না এলে তো নামটাই বাদ চলে যেত।’
সংশ্লিষ্ট বিএলও’কে ফোন করা হলে তিনি বলেন, এমন ঘটনায় আমরাও অবাক হয়েছি। অনায়াসে বলে ওঁরা দিলেন অশেষবাবু মারা গিয়েছেন। নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করতে আমরা এই কাজ করেছি। সেখানে পারিবারিক ঝামেলার জেরে নাম বাদ পড়লে তো কেলেঙ্কারি হয়ে যেত। পরে অবশ্য আমরা অশেষবাবুকে ফর্ম দিয়েছি। তিনি ঘরে বসিয়ে চা-বিস্কুট খাইয়েছেন।