Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হৃদয়পুর পঞ্চায়েতে সংরক্ষণ করা হয়নি জন্ম শংসাপত্রের নথি, অভিযোগ দায়ের

হৃদয়পুর পঞ্চায়েতে সংরক্ষণ করা হয়নি জন্ম শংসাপত্রের নথি, অভিযোগ দায়ের
  • ৬ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: টানা দু’ বছর ধরে জন্ম শংসাপত্র ইস্যু হয়েছে নিয়মে না মেনেই। সংরক্ষণ করা হয়নি কোনও নথি। ‘ভুয়ো’ নম্বরে পাঠানো ওটিপির ভিত্তিতেই জন্ম শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে এবার আধিকারিকের বিরুদ্ধে চাপড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন পঞ্চায়েত প্রধান। ঘটনা চাপড়া ব্লকের হৃদয়পুর পঞ্চায়েতের। গত মঙ্গলবার সেই অভিযোগ জমা পড়ে। বিষয়টি সামনে আসতেই ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। বাংলাদেশ লাগোয়া তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত এই জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করা নিয়ে অনিয়মের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও চাপানউতোর শুরু হয়েছে।‌ ওই পঞ্চায়েতের প্রধান বিউটি খাতুন বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে শোকজ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি যে উত্তর দিয়েছেন তা সন্তোষজনক নয়। তাই আমি চাপড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। পুলিস তদন্ত করছে।’ কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, ‘মামলা রুজু হয়েছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি।’ নদীয়া জেলার ২৫টি পঞ্চায়েত বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত। যার মধ্যে অন্যতম চাপরা ব্লকের হৃদয়পুর। কাঁটাতারের ওপারেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর। সারাবছরই এই এলাকায় অনুপ্রবেশের আশঙ্কা থাকে। সেই পঞ্চায়েতেই দেখা যায় বিগত এক বছরে ১০০০ জন্ম শংসাপত্র ইস্যু হয়েছে। যেগুলো নন ইনস্টিটিউশনাল। অর্থাৎ হাসপাতালে শিশুর জন্ম হয়নি এবং জন্মের বহু বছর পর আবেদনকারীর জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে ওই পঞ্চায়েতের অডিট করানো হলে বিষয়টি সামনে আসে। পঞ্চায়েতের সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে শোকজ করা হয়। কিন্তু তাঁর উত্তর সন্তোষজনক নয় বলেই অভিযোগপত্রে জানিয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান। প্রধানের অভিযোগ আরও চাঞ্চল্যকর। সেই পঞ্চায়েতে জন্ম শংসাপত্র নিয়ে সমস্যাটি বিগত দু’ বছর ধরে চলছে। অভিযোগ, ২০২২-২৩ এবং ২০২৪-২৫ সালে যেসব জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে সেগুলোর নথিপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। প্রধানের আরও অভিযোগ, বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করার সময়ে প্রধানের ফোনে একটি ওটিপি আসে। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রধানের ফোন নম্বরে কোনও ওটিপি আসেনি।‌
Advertisement
এনিয়ে হৃদয়পুর পঞ্চায়েতের বাসিন্দা তথা চাপড়া ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি শুকদেব ব্রহ্ম বলেন, ‘আমাদের সরকার অন্যায়কে কখনও প্রশ্রয় দেয়নি। তাই জন্ম শংসাপত্র নিয়ে গরমিলের বিষয়টা নজরে আসতেই আমাদের পঞ্চায়েতের তরফ থেকে ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু বিজেপির সেই ক্ষমতা নেই।’
নদীয়া উত্তরের বিজেপির সহ সভাপতি সৈকত সরকার বলেন, ‘তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতগুলো দুর্নীতির আখড়া। তদন্ত করলে হয়তো দেখা যাবে, অবৈধ লোকজনের নাম ভোটার তালিকায় তুলতেই পঞ্চায়েত থেকে জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছিল।’ প্রসঙ্গত, নদীয়া জেলার সীমান্ত লাগোয়া হাঁসখালির বগুলা-২ পঞ্চায়েতেও জন্মের জাল শংসাপত্র ইস্যু করা নিয়ে হইচই পড়েছিল। সেই ঘটনায় পঞ্চায়েতের সচিব সহ একাধিক ব্যক্তিকে পুলিস গ্রেপ্তারও করেছে। ওই পঞ্চায়েতে প্রায় পাঁচ হাজার জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছিল। -নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ