Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হৃদয়পুর পঞ্চায়েতে জন্মের শংসাপত্র ইস্যুতে শোরগোল 

হৃদয়পুর পঞ্চায়েতে জন্মের শংসাপত্র ইস্যুতে শোরগোল 
  • ৩ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: এক বছরে এক হাজার জন্ম শংসাপত্র! আর তা ইস্যু করা হয়েছে একটি পঞ্চায়েত থেকেই। এমনিই ঘটনা ঘটেছে নদীয়া জেলার চাপড়া ব্লকের সীমান্ত লাগোয়া হৃদয়পুর পঞ্চায়েতে। এই ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।‌ বিষয়টি ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। সেইমতো সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত অডিট করানো হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত, হৃদয়পুর পঞ্চায়েত দ্বিতীয় ‘বগুলা’ হবে কিনা সেটা সময় বলবে। তবে এক বছরে বিপুল সংখ্যক জন্মের শংসাপত্র ইস্যু করা অস্বাভাবিক বলেই মনে করছে প্রশাসনের আধিকারিকরা। জানা যাচ্ছে, জন্মের যে শংসাপত্রগুলি বিগত এক বছরে ইস্যু করা‌ হয়েছে, তা ‘নন-ইনস্টিটিউশনাল’। অর্থাৎ হাসপাতালে শিশুর জন্ম হয়নি এবং জন্মের বহু বছর পর আবেদনকারীর শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে। যাকে কেন্দ্র করেই বিতর্কের সূত্রপাত। তাই পঞ্চায়েতের ইস্যু করা জন্ম শংসাপত্র ঠিকঠাক আছে কি না সেটাই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।‌ পাশাপাশি, এই বিপুল সংখ্যক শংসাপত্র ইস্যু করার পিছনে পঞ্চায়েতের কোনও আধিকারিকের অসাধু উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
Advertisement
কৃষ্ণনগর সদরের মহকুমা শাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টা আমাদের নজরে এসেছি। বিডিও এটার তদন্ত করছে। সমস্ত কিছু ঠিকঠাক আছে কিনা তা দেখার জন্য অডিট করা হচ্ছে।’
সম্প্রতি, নদীয়া জেলার সীমান্ত ব্লক হাঁসখালির বগুলা-২ পঞ্চায়েতে জন্মের জাল শংসাপত্র ইস্যু করার বিষয়টি সমানে আসে। সেই ঘটনায় পঞ্চায়েতের সচিব সহ একাধিক ব্যক্তিকে পুলিস গ্রেপ্তারও করেছে। ওই পঞ্চায়েতে প্রায় পাঁচ হাজার জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর জেলা প্রশাসনও নড়েচড়ে বসে। সেইমতো জেলার সকল পঞ্চায়েতের ওপর নজরদারি চালাতে তৎপর হয় প্রশাসন। কোন পঞ্চায়েতে কত জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে, কোন কোন নথির ভিত্তিতে শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে, সবটাই খতিয়ে দেখা শুরু করেন ব্লক ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। সেই কাজ করতে গিয়েই চাপড়া ব্লকের হৃদয়পুর পঞ্চায়েতে ২০২৪ সালে এক হাজার জন্ম শংসাপত্র দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। যদিও শংসাপত্র ইস্যু করা নিয়ে ‘অনিয়ম’-এর বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। সেটাই তদন্ত করে দেখছে প্রশাসনের আধিকারিকরা। হৃদয়পুর পঞ্চায়েত প্রধান বিউটি খাতুন বলেন, ‘আমাদের পঞ্চায়েত এই ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা বিষয়টা দেখছি। পঞ্চায়েতে যিনি জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করেন তাঁর থেকে জবাব চাওয়া হয়েছে।’
বর্তমানে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে উন্নত করতে অনেক কাজ হয়েছে। যার ফলে, বাড়িতেই সন্তান প্রসবের মতো ঘটনা কমে গিয়েছে। অধিকাংশ সময়ে স্থানীয় হাসপাতালেই সন্তান প্রসব হয়। তবে আপতকালীন পরিস্থিতিতে বাড়িতে সন্তান প্রসব হয়। কিন্তু সেসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা। সেক্ষেত্রে পঞ্চায়েত থেকে জন্ম শংসাপত্র নিতে হয়। তবে এই শংসাপত্র নেওয়ার জন্য জন্মের ২১ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হয়। আবার অনেকে জন্মের বহু বছর পরে শংসাপত্রের জন্য আবেদন করে। এগুলোকে ‘নন-ইনস্টিটিউশনাল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। চাপড়ার হৃদয়পুর পঞ্চায়েতেই তা দেখা গিয়েছে। উল্লেখ্য, ভোটার তালিকায় নাম তুলতে গেলে জন্ম শংসাপত্রের দরকার পড়ে। সেখানেই হৃদয়পুর পঞ্চায়েতে এই বিপুল সংখ্যক ‘নন-ইনস্টিটিউশনাল’ জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি অনুপ্রবেশকারীরা ভোটার তালিকায় নাম তুলতেই জন্ম শংসাপত্র নেওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি লাগিয়েছে?
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ