নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মঙ্গলাহাটে রাস্তা ও ফুটপাতে বসে ব্যবসা করা নিয়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল হাওড়া ময়দান চত্বর। প্রশাসনের কড়া অবস্থানের ফলে সোমবার সকাল থেকে হাওড়া ময়দান সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র টানাপোড়েন চলে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পূর্ববর্তী আলোচনায় কিছু শর্তসাপেক্ষে ব্যবসা চালানোর আশ্বাস মিললেও এদিন তাঁদের বসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাতে গেলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যান বলে দাবি শতাধিক ব্যবসায়ীর।
সোমবার সকালে বঙ্কিম সেতুর নীচে চার্চ রোড, মহাত্মা গান্ধী রোড, ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র রোড, বিপ্লবী হরেন ঘোষ সরণি ও কার্তিকচন্দ্র দত্ত রোড এলাকায় বহু ব্যবসায়ী জামাকাপড় ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে বসার তোড়জোড় করেন। তখনই হাওড়া সিটি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এর প্রতিবাদে বিপ্লবী হরেন ঘোষ সরণিতে ব্যবসায়ীরা জমায়েত করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। হাওড়া সিটি পুলিশের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আইন অনুসারে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা সম্পূর্ণ বেআইনি। তাই কোনোভাবেই সেখানে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। নির্দেশ অমান্য করলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীদের দাবি, গত সপ্তাহে প্রশাসনের সঙ্গে মৌখিক আলোচনায় ঠিক হয়েছিল, রাস্তা দখল না করে ফুটপাতের একপাশে সীমিত পরিসরে ব্যবসা করা যাবে। সকাল ৯টার মধ্যে পসরা গুটিয়ে ফেলার শর্তও আরোপ করা হয়। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা মালপত্র নিয়ে রবিবার রাত থেকেই হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু এদিন তাঁদের অনেককে মালপত্র নামাতেই দেওয়া হয়নি বলে খবর।
মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির (সেন্ট্রাল) সভাপতি মলয় দত্ত বলেন, ‘প্রশাসনের আশ্বাসে আমরা ভরসা পেয়েছিলাম। এখন আবার বলা হচ্ছে, ফুটপাতেও বসা যাবে না। এতে হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও শ্রমিকের রুজি-রুটি বিপন্ন হচ্ছে। আমরা জেলা প্রশাসন, পুলিশ কমিশনার সহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি। প্রয়োজন হলে আইনি পথে আন্দোলনে নামব।’ এদিন হাটের ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদল হাওড়া থানায় গিয়ে রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ব্যবসার অনুমতি চেয়ে আবেদন জানায়। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলেই জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যজুড়ে রাস্তা ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত, যান চলাচলের সুবিধা এবং জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।