হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত: আমার ফ্লাইট ভোরবেলায় এসে পৌঁছেছিল পোর্ট ব্লেয়ার এয়ারপোর্টে। যার পোশাকি নাম ‘বীর সাভারকর এয়ারপোর্ট’। বর্তমানে আন্দামান-নিকোবরের রাজধানী ‘শ্রীবিজয়পুরম’ নামে পরিচিত। যদিও লোকমুখে সে নাম এখনও তেমন প্রচলিত হয়নি। ‘আন্দামান’ নামটা প্রথম জেনেছিলাম ছেলেবেলায় অবন ঠাকুরের ‘বুড়ো আংলা’ পড়ে। সেই যে আমতলি গ্রামের রিদয় নামের বাচ্চা ছেলেটা গণেশ ঠাকুরের শাপ পেয়ে বুড়ো আঙুলের মতো ছোট হয়ে খোঁড়া হাঁসের পিঠে চেপে দেশ ভ্রমণে বেরিয়েছিল, তখন তাদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল আন্দামানি আর নিকোবরি হাঁসেদের সঙ্গে।
আমার সোলো ট্রিপ। পর্যটন সংস্থার সঙ্গে কথা বলে যা ঠিক করে রাখা আছে, তা হল পোর্ট ব্লেয়ার থেকে প্রথম দিনই আমি চলে যাব হ্যাভলক দ্বীপে। সেখানে দু’দিন রাত্রিবাস করব। তারপর সেখান থেকে নীল আইল্যান্ডে গিয়ে এক রাত থেকে আবার ফিরে আসা পোর্ট ব্লেয়ারে।
তাই প্রত্যাশা মতোই এয়ারপোর্টের বাইরে বেরিয়ে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের সামনে গিয়ে দেখলাম বিশেষ একটি রঙের পোশাক পরে ভ্রমণ সংস্থার এক কর্মী আমার নাম লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে আছে। ভ্রমণ সংস্থার সেই কর্মী তার গাড়িতে বসিয়ে নিয়ে চলল জেটির কাছাকাছি এক হোটেলের দিকে। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম আর ব্রেকফাস্ট সেরে নেওয়ার পর সেই আমাকে পৌঁছে দেবে জেটিতে। সেখান থেকে ফেরি ছাড়বে বেলা দশটায়। ৪৫ কিলোমিটার দূরবর্তী হ্যাভলক দ্বীপের উদ্দেশে। সময় লাগবে ঘণ্টা দেড়েক মতো। আমি পোর্ট ব্লেয়ার থেকে হ্যাভলকের যে দূরত্বের কথা বললাম তা অবশ্যই জলপথে। হোটেলে পৌঁছলাম ঠিকই, কিন্তু সমস্যা হল হঠাৎ একটা বড় পর্যটকদল এসে পড়ায় ব্রেকফাস্ট শেষ হয়ে গিয়েছে। নতুন করে তৈরি করতে সময় লাগবে। আমাকে সর্বভুকই বলা চলে। খিদে পেলে প্রয়োজন বোধে সবই খাই। আফ্রিকা আর কম্বোডিয়ায় যেমন খেতে হয়েছিল কুমিরের মাংস। আর ইজিপ্টে একদিন মরু অঞ্চলে কাটিয়ে ছিলাম যাযাবরদের হাতে গড়া মোটা রুটি আর ঝলসানো উটের মাংস খেয়ে। তাছাড়া, সাপ-ব্যাঙ, অক্টোপাস কতরকমের খাদ্য-কুখাদ্য যে খেয়েছি তার হিসেব নেই। খাবারের সন্ধানে তাই পায়ে হেঁটে বেরিয়ে পড়লাম হোটেল ছেড়ে। শহর হিসাবে পোর্ট ব্লেয়ার ছোট, রাস্তাগুলো ঢালু বা উঁচু-নিচু তবে মোটামুটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। একটা ফুটপাতের হোটেলে মিলে গেল পরোটা আর ধোসা। চা’ও পাওয়া যায়। আর কী চাই! পেট পুরে খেয়ে নিলাম সেখানে। তারপর কাছের দোকান থেকে প্রয়োজনীয় সামান্য কিছু জিনিস কিনে নিয়ে ফিরে এলাম হোটেলের সামনে। লাগেজ বলতে একটা রুকস্যাক।
গাড়ি হোটেলের সামনেই দাঁড়িয়েছিল। আমাকে পৌঁছে দিল জেটির প্রবেশ পথের সামনে। একই রঙের পোশাক পরা একজন লোক দাঁড়িয়েছিল সেখানে। সে অগ্রিম কেটে রাখা ফেরির টিকিট ধরিয়ে দিল আমার হাতে। জানিয়ে দিল হ্যাভলকে নামার পর তারই মতো পোশাক পরা একজন লোক জেটিতে দাঁড়িয়ে থাকবে আমাকে রিসিভ করার জন্য, হ্যাভলকে থাকাকালীন পরবর্তী যাবতীয় ব্যবস্থা করার দায়িত্ব তার। জলের ওপর দিয়ে বেশ খানিকটা পথ কংক্রিটের সেতু দিয়ে এগিয়ে তবে জেটির কিনারে পৌঁছতে হয়। সেতু ধরে এগতেই চোখে পড়তে লাগল চারপাশের সমুদ্রের শান্ত নীল জলরাশি। আর সমুদ্রের কিনারে একপাশে খানিকটা অংশ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সবুজে ছাওয়া পোর্ট ব্লেয়ারের শহর। সরকারি-বেসরকারি দু’ধরনের ফেরি ছাড়ে হ্যাভলক আর নীল দ্বীপে যাওয়ার জন্য। আমার জন্য বেসরকারি ফেরির ব্যবস্থাই করা হয়েছে। যাত্রী প্রতীক্ষালয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হল। তারপর মাইকে ঘোষণা করা হল ‘ফেরি আসছে’। যাত্রীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হল জেটির মূল অংশে। দেখি সমুদ্রের বুক চিরে বিশাল রাজহংসের মতো প্রায় জাহাজের আকৃতির একটা ক্রুজ বা প্রমোদতরী এগিয়ে আসছে জেটির দিকে। হ্যাঁ, ওটাই আমাদের ফেরি। সেই জলযান জেটিতে এসে পৌঁছনোর পর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা যাত্রীরা উঠে পড়লাম। দ্বিতল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জলযান। চারপাশ কাচে ঢাকা। আমার বসার আসন জলযানের একতলাতে। ভিতরের ব্যবস্থা অনেকটা বিমানের মতো। ইউনিফর্ম পরা সেবিকারা দাঁড়িয়ে আছেন। বিমানের মতোই যাত্রা শুরুর আগে তাঁরা দেখিয়ে দিলেন কীভাবে প্রয়োজন বোধে লাইফ জ্যাকেট পরতে হবে ইত্যাদি ব্যাপার। ঘোষণা করা হল চালক আর ক্রু মেম্বারদের নাম। নির্দিষ্ট সময়েই আমাদের ফেরি যাত্রা শুরু করল হ্যাভলক দ্বীপের উদ্দেশে। ধীরে ধীরে পিছনে সরে যেতে লাগল দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ার।
কাচের জানলা দিয়ে বাইরের সব কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। চারপাশে মহাসাগরের সুনীল জলরাশি। তবে সমুদ্রের কোনও উন্মাদনা নেই। আমাদের যাত্রা পথের সমুদ্র শান্ত সমাহিত। কোথাও কোথাও জেলে নৌকাও দেখা যাচ্ছে। সমুদ্রে নোঙর আর জাল ফেলে মাছ ধরার জন্য বসে আছে তারা। যে সব জায়গায় তারা নৌকা নিয়ে আছে সে সব জায়গার কাছাকাছি ছোট ছোট সবুজ রঙের দ্বীপও আছে। জানি না সে সব দ্বীপে মানুষের বসবাস আছে কি না? আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মোট দ্বীপের সংখ্যা ৫৭২। তার মধ্যে মাত্র ৩৮টি দ্বীপে জনবসতি আছে। যে সব দ্বীপে জনবসতি আছে তার মধ্যে আবার সবগুলিতে ট্যুরিস্টদের প্রবেশের অনুমতি নেই। আর সেন্টিনেলদের মতো আদিম জনজাতির বাসস্থান যে দ্বীপগুলোতে, তার ধারেও কাছে যাওয়াও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পুলিসের বোটও যায় না সে সব দ্বীপের কাছে। দূর থেকে শুধু নজর রাখে কোনও নৌকা সেদিকে যাচ্ছে কি না? একবার এক মার্কিন যুবক সবার নজর এড়িয়ে কীভাবে যেন উপস্থিত হয়েছিল তেমনই এক নিষিদ্ধ দ্বীপে। হয়তো বা অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় অথবা দ্বীপবাসীদের ছবি তোলার জন্য। পরদিনই তার গলা কাটা দেহ ভাসতে দেখা যায় সমুদ্রের জলে। এইসব দ্বীপবাসীদের পৃথিবীর বুকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তাদের ওপর কোনও ফৌজদারি আইন প্রযোজ্য হয় না। সমুদ্রের সুনীল জলরাশি আর কাছে দূরের সবুজ দ্বীপগুলো দেখতে দেখতে একসময় পৌঁছে গেলাম হ্যাভলক দ্বীপে। অর্থাৎ ‘স্বরাজ দ্বীপে’। আমার জন্য হ্যাভলকে যেখানে থাকার ব্যবস্থা ছিল সেই রিসর্টা বেশ পছন্দ হল আমার। সবুজে ছাওয়া পরিবেশে এক চিলতে খোলা বারান্দাসহ সার সার কাঠের কটেজ। মাথার ওপর তালপাতার ছাউনি দিয়ে ডেকোরেট করা। কটেজে পৌঁছতেই দুপুর হয়ে গেল। বাকি দিনটা বিশ্রাম নেব বলেই ঠিক করেছি। গত রাতে এয়ারপোর্টে জেগেই কাটাতে হয়েছে ভোরের ফ্লাইট ধরব বলে। তাছাড়া, লম্বা ভ্রমণের আগে বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। বিকালে একটু হাঁটতে বেরিয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু বিকালের পর থেকেই পোর্ট ব্লেয়ার সহ সব দ্বীপ ফাঁকা হয়ে যায়। সন্ধ্যা নামলে সব দোকান-বাজার বন্ধ হয়ে যায়। অগত্যা সন্ধ্যা নামতেই আবার রিসর্টে ফিরে এসে মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট খুলে আমার গন্তব্য সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে শুরু করলাম। আন্দামানের হ্যাভলক-নীল আইল্যান্ডের মতো দ্বীপগুলোতে কিন্তু সব কোম্পানির মোবাইল পরিষেবা পাওয়া যায় না। ব্যাপারটা জানা না থাকলে আন্দামান ভ্রমণের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়।
পরদিন ভোরবেলা ব্রেকফাস্ট খেয়েই আমার হ্যাভলক ভ্রমণ শুরু হল। হ্যাভলকের প্রধান তিনটে সৈকত দেখতে যাব— এলিফ্যান্ট বিচ, রাধানগর বিচ ও বিজয়নগর সৈকত। এলিফ্যান্ট সৈকতে পৌঁছনোর জন্য জেটি থেকে যন্ত্রচালিত নৌকা বা স্পিড বোটে যেতে হয়। গাড়ি আমাকে প্রথমে জেটিতেই নিয়ে গেল। সার সার গার্ডেন আমব্রেলার নীচে বসে আছে ট্যুর অপরেটররা। এদের থেকেই টিকিট কিনতে হয়। এলিফ্যান্ট দ্বীপে নানা ধরনের ওয়াটার স্পোর্টস-এর
ব্যবস্থা আছে।
জেটিতে বোটে চাপার আগে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হল আমাকে। কারণ, প্রতি বোটে আট জন্য যাত্রীকে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা তখনও এসে পৌঁছয়নি। আর হ্যাঁ, এলিফ্যান্ট সৈকতে যাওয়ার জন্য এখানে একটা ফর্ম ভরতে হয়, যা প্রশাসনের কাছে জমা থাকে। সব ব্যবস্থা অবশ্য ভ্রমণ কর্মীরাই করে দেন। অবশেষে আমার সহযাত্রীরা এসে উপস্থিত হলেন। প্রবীণ মানুষ আর অল্পবয়সি ছেলে-মেয়ে সবাই আছে সে দলে। বোট ছাড়ার আগে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে লাইফ জ্যাকেট পরতে হয়। চারপাশে সমুদ্রের নীল জলরাশি, মাথার ওপর নীল আকাশ আর ঝলমলে আকাশ। উন্মুক্ত সমুদ্রর অপার সৌন্দর্য। আমাদের পাশ দিয়ে আরও বোট এগিয়ে চলেছে। সবারই গন্তব্য এলিফ্যান্ট আইল্যান্ড। একসময় বোটের গতি তীব্র হল। সমুদ্রের জল ছিটকে এসে লাগতে শুরু করল আমাদের সকলের গায়ে। বোটের অল্প বয়সি ছেলেমেয়েদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশ বেশি। আনন্দে চিৎকার শুরু করল তারা। বোটে চালক ছাড়াও একজন পরিবহণ কর্মী আছে। সে সকলকে জানিয়ে দিল, কেউ যেন হাত বাড়িয়ে জল না ছোঁয়ার চেষ্টা করে। এক ধরনের সামুদ্রিক কচ্ছপ আর কিছু মাছ আছে যারা হাতে কামড় বসাতে পারে। আনন্দ উৎসবে মিলেমিশে একসময় পৌঁছে গেলাম এলিফ্যান্ট সৈকতে। এখানকার জেটি হল বাতাস ভরা শক্ত প্লাস্টিকের বা ফাইবারের খণ্ড দিয়ে তৈরি ভাসমান জেটি। সমুদ্রর জলে দোলে সেটা। হাঁটার সময় শরীরের ভারসাম্য বজায় না রাখলে জলে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা।
উঠে এলাম এলিফ্যান্ট সৈকতে। সবুজ গাছে ঘেরা সৈকত। লোকজনের ভিড়ও বেশি। তবে জল শান্ত। তাতে কেউ স্নান করছে আবার কেউ নানা ধরনের ওয়াটার অ্যাক্টিভিটির জন্য জলে নামছে। স্নরকেলিং, স্কুবা, ওয়াটার বাইক রাইডিং ইত্যাদি। বেশ কিছু অস্থায়ী দোকানও আছে এখানে। জামা-কাপড়, খাবার ইত্যাদি পাওয়া যায়। পোশাক পাল্টানোর ঘর আর লকার রুমও আছে। আর আছে যারা ওয়াটার অ্যাক্টিভিটি করায় সে সব লোকদের টেবিল। আমার ওয়াটার অ্যাক্টিভিটির কোনও পূর্বে পরিকল্পনা ছিল না। তবে এত লোক করছে দেখে আমারও মনে সাধ জাগল। থাইল্যান্ডে স্কুবা ডাইভিং করেছি। কিন্তু তা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত করার অনুমতি মেলে। আমি সদ্য সে বয়স পিছনে ফেলে এসেছি। তাই স্নরকেলিংটাই বেছে নিলাম। টিকিট কেটে দু’জন লোকের সঙ্গে জলে নেমে পড়লাম। তাদের একজন গাইড, সে জলের নীচে হাত ধরে থাকে, অন্য জন ক্যামেরম্যান। স্নরকেলিং-এর জন্য হেলমেটের মতো কাচের মুখোশ পরতে হয়। এক হাতে বাতাস ভর্তি একটা টিউবের দড়ি ধরে আর অন্য হাত দিয়ে গাইডের হাত ধরে আমি এগিয়ে যেতে লাগলাম জলের ভিতর চোখ রেখে। শরীরটা যেন এমনি এমনি ভাসছে। কিছুটা এগতেই মাছের ঝাঁক এসে আমাকে ঘিরে ধরল। কতরকমের রঙিন মাছ আমাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। এ এক আশ্চর্য অনুভূতি। গাইড আমাকে দেখাতে লাগল জীবন্ত ঝিনুক, জীবন্ত কোরাল ইত্যাদি। এ এক বর্ণনাতীত অভিজ্ঞতা। দু’ঘণ্টা মতো এলিফ্যান্ট বিচে সময় কাটিয়ে সে পথে যেমনভাবে গেছিলাম সেভাবেই আবার হ্যাভলকের জেটিতে ফিরে এলাম। গাড়ি আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। আমি রওনা হলাম পরবর্তী গন্তব্য রাধানগর সৈকতের উদ্দেশে। হ্যাভলকের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত রাধানগর সৈকত। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সৈকত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আমার আছে। সত্যি কথা বলতে কী এমন পরিচ্ছন্ন সৈকত আমি আগে কখনও দেখিনি। ধবধবে সাদা বালি আর মৃদু ঢেউওলা স্বচ্ছ জলের সৈকত। রঙিন ছোট ছোট শামুকের দল বালির মধ্যে আলপনা রচনা করতে করতে ঘুরে বেড়ায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য ও পরিবেশগত সংরক্ষণের এই সৈকত আন্তর্জাতিক ‘ব্লু ফ্ল্যাগ’ খেতাবও পেয়েছে। সবুজ ম্যানগ্রোভ অরণ্যের সারি ঘিরে রেখেছে সৈকতের এক অংশকে। নীল-সাদা-সবুজ নানা রং মিলেমিশে প্রকৃতি যেন এক অপার্থিব সৌন্দর্য রচনা করেছে। দু-একটা জেলে নৌকা নোঙর করা আছে সমুদ্রের গায়ে। সৌভাগ্যবশত এই নির্জন দুপুরে দু-চারজনের বেশি লোকজন ছিল না সৈকতে। তাই নিস্তব্ধতা যেন এ জায়গাকে আরও উপভোগ্য করে তুলল আমার কাছে। কীভাবে যে ঘণ্টাখানেক সময় কেটে গেল তা বুঝতে পারলাম না।
হ্যাভলকের রাধানগর ছেড়ে আমার শেষ গন্তব্য বিজয়নগর সৈকতে যখন গিয়ে পৌঁছলাম তখন সমুদ্রর বুকে ধীরে ধীরে সূর্য ঢলতে শুরু করেছে। এও সাদা বালির সৈকত। নারকেল গাছের সারি সমুদ্রের বুকে নুইয়ে পড়ে দোল খাচ্ছে। ময়ূরকণ্ঠী সমুদ্রের জল এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে সমুদ্র তটকে। বাতাসে উড়ছে সমুদ্র পাড়ের বালিতে বসে থাকা এক বিদেশিনীর সোনালি চুলের গুচ্ছ। সূর্য একসময় সমুদ্রের গভীরে প্রবেশ করল। এ এক আশ্চর্য সুন্দর দৃশ্যপট। এরপর ঘরে ফেরার পালা। সারা দিন বেশ কিছু ছবি তুলেছি। ফেরার আগে সূর্যাস্তের ছবিও তুললাম। তবে সবচেয়ে বেশি ছবি তুলে রাখলাম মনের ক্যামেরাতে।