Bartaman Logo
২৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

দীর্ঘদিন ধরে পেটে দেখা যাচ্ছে এইসব উপসর্গ? প্যাংক্রিয়াসেই জটিল রোগ লুকিয়ে আছে কি না বুঝবেন কীভাবে?

প্যাংক্রিয়াসের সমস্যা ও ক্যান্সারের উপসর্গ সম্পর্কে জানুন। ডাঃ বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, সঠিক সময়ে চিকিৎসা জরুরি। বিস্তারিত পড়ুন।

দীর্ঘদিন ধরে পেটে দেখা যাচ্ছে এইসব উপসর্গ? প্যাংক্রিয়াসেই জটিল রোগ লুকিয়ে আছে কি না বুঝবেন কীভাবে?
  • ২৯ জুন, ২০২৬ ১৯:০১
Prefer us on Google

প্যাংক্রিয়াস অঙ্গটি সম্বন্ধে আমরা ছোটবেলা থেকেই কমবেশি শুনে আসছি। প্রথমত প্যাংক্রিয়াটাইটিস হয়ে হাসপাতালে ভরতি হতে হয়েছে এমন ঘটনা আমরা আকছার দেখেছি পাড়ায়, অফিসে। প্যাংক্রিয়াস শরীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল অঙ্গ। পেটের ওপরের অংশে, পাকস্থলীর পিছনের দিকে থাকে প্যাংক্রিয়াস। প্যাংক্রিয়াসের দু’টি বড় কাজ— খাবার হজম করা এবং রক্তে শর্করার মাত্রা সঠিক রাখা। প্যাংক্রিয়াস থেকে বেরয় অ্যামাইলেজ, প্রোটিয়েজ, লাইপেজের মতো পাচক রস যা ক্ষুদ্রান্ত্রে গিয়ে গৃহীত খাদ্যবস্তুর সঙ্গে মিশে পরিপাক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে। ফলে প্যাংক্রিয়াসে সমস্যা হলে তার প্রভাব শরীরে পড়বেই। সমস্যা একটাই, অনেকক্ষেত্রেই প্যাংক্রিয়াসে সমস্যা দেখা দিলেও তার শারীরিক উপসর্গ খুব ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। পিয়ারলেস হাসপাতালের হেপাটো-প্যাংক্রিয়াটো-বিলিয়ারি এবং জিআই অঙ্কো সার্জারি বিভাগের চিকিত্‍সক সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, প্যাংক্রিয়াসের এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই চট করে প্যাংক্রিয়াসের ক্যান্সারের উপসর্গও রোগী বুঝতে পারেন না। অথচ গত দুই দশক ধরে ভারতে এই রোগের প্রকোপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে এবং বয়স্ক মানুষের মধ্যে প্যাংক্রিয়াস ক্যান্সারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  

Advertisement

ডাঃ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানাচ্ছেন, এই অসুখ প্রাথমিক স্তরে ধরা পড়লে অকালে প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব হবে। তাই উপসর্গগুলি বুঝে নেওয়া খুবই জরুরি বিষয়। তিনি বলেন, রোগটির বাড়বাড়ন্তের পিছনে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি, রোগ নির্ণায়ক প্রযুক্তির উন্নতি, জীবনযাত্রার পরিবর্তন বড় কারণ।

পাশাপাশি তিনি আরও জানিয়েছেন, নিয়মিত ধূমপানের অভ্যেসে বাড়ে এই ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি! এছাড়া, দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস, স্থূলত্ব, দীর্ঘস্থায়ী প্যাংক্রিয়াটাইটিস, অতিরিক্ত মদ্যপান, প্রসেসড ফুড, রেড মিট খাওয়ার অভ্যেস বাড়িয়ে দেয় প্যাংক্রিয়াস ক্যান্সারের ঝুঁকি। তবে অল্প সংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে পারিবারিক ইতিহাস বা জিনগত কারণও দায়ী হতে পারে। 

ডাঃ বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, বর্তমানে দেশের একটি বড় অংশের মানুষের মধ্যে স্থূলত্ব, ডায়াবেটিস এবং কায়িক পরিশ্রমহীন জীবনযাপনের হার বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে প্যাংক্রিয়াটিক ক্যান্সারের আশঙ্কাও বাড়ছে।

প্যাংক্রিয়াটিক ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য একাধিক আধুনিক পরীক্ষা রয়েছে। প্রয়োজন বুঝে করানো হয় কনট্রাস্ট-এনহ্যান্সড সিটি স্ক্যান, এমআরআই এবং এমআরসিপি। এছাড়া এন্ডোস্কোপিক আল্ট্রাসাউন্ড-এর মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে বায়োপসি করে টিস্যুর পরীক্ষা করা সম্ভব।

ডাঃ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, এই অসুখের প্রাথমিক লক্ষণ খুব স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় না, তাই পেটে একটানা, অস্বস্তি বা ব্যথা থাকলে, হঠাৎ ওজন কমতে থাকলে, জন্ডিস হলে, পিঠে ব্যথা হলে অবশ্যই একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক সময়ে অসুখ ধরা পড়লে হুইপল অপারেশন, ডিস্টাল প্যাংক্রিয়াটেকটমি-এর মতো অপারেশন, কেমোথেরাপি ও প্রয়োজন বুঝে রেডিওথেরাপি প্রয়োগের মাধ্যমে রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

লিখেছেন: সুপ্রিয় নায়েক

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ