Bartaman Logo
২৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

জরায়ুর ‌ক্যানসার রোধে ভ্যাকসিনে রাজি নয় কিশোরীরা, ভরতপুরে চিন্তায় স্বাস্থ্য দপ্তর

জরায়ু ক্যানসার রোধক ভ্যাকসিন নিতে কিশোরীদের অনীহা। স্বাস্থ্য দপ্তর চিন্তায়, কারণ কুসংস্কারের প্রভাব। বিস্তারিত পড়ুন।

জরায়ুর ‌ক্যানসার রোধে ভ্যাকসিনে রাজি নয় কিশোরীরা, ভরতপুরে চিন্তায় স্বাস্থ্য  দপ্তর
  • ২৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: জরায়ু ক্যানসার রোধক ভ্যাকসিন নিতে অনীহা কিশোরীদের। ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েছে ভরতপুর ১ ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর। স্বাস্থ্য দপ্তর পুরো দল নিয়ে ‘মাঠে’ নামলেও মাত্র এক পঞ্চমাংশ কিশোরীকেই এই ভ্যাকসিন দেওয়া গিয়েছে। একটি কুসংস্কার থেকেই কিশোরীদের মধ্যে অনীহা তৈরি হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে। এবিষয়ে সম্প্রতি স্থানীয় ইমামদের নিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তর একটি বৈঠকও করে।

Advertisement

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এইচপিভি অর্থাৎ এই ভ্যাকসিনের পুরো নাম হিউম্যান পাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন। ১৪ থেকে ১৫ বছরের কম বয়সি কিশোরীদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। এই ভ্যাকসিন নিলে মহিলাদের জরায়ু ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকে। গত ১ জুন থেকে বিভিন্ন স্কুলগুলিতে ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ শুরু করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। এর জন্য স্বাস্থ্য কর্মীরা ছাড়াও ‘মাঠে’ নেমেছেন আশা কর্মী, অঙ্গনওয়ারি কর্মীরাও। তাঁরা বিভিন্ন স্কুলগুলিতে নিয়মিত যাতায়াত করলেও কিশোরীদের একাংশ ভ্যাকসিন নিতে অনীহা দেখাচ্ছে বলে দাবি স্বাস্থ্য দপ্তরের। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লক্ষ্যপূরণে পৌঁছান যাবে কি না সেটা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভরতপুর ১ ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ব্লকেব আটটি পঞ্চায়েতের প্রায় ১,৯১০ জন কিশোরীকে ওই ভ্যাকসিন দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। যদিও স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে এপর্যন্ত ওই বয়সের প্রায় ১,৭০০ কিশোরীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে ভ্যাকসিন দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে স্বাস্থ্য কর্মীদের। শনিবার পর্যন্ত মাত্র ৩৪২ জন কিশোরীকে ভ্যাকসিন দেওয়া গিয়েছে। যা শতকরা হিসেবে প্রায় এক পঞ্চমাংশ। যার ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েছে ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর। ১ জুন থেকে শুরু হওয়া ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
ভরতপুর ১ ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, মূলত একটি কুসংস্কারের জন্য এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিশোরীদের একাংশ মনে করছে ভ্যাকসিন নিলে সন্তান ধারণে সমস্যা হবে। অসংখ্য কিশোরী এই ব্যাখা দিয়ে ভ্যাকসিন নিতে চাইছে না। ফলে চরম দুশ্চিন্তায়  পড়েছি।
এদিকে সমস্যা মেটাতে সম্প্রতি স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে এলাকার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়। এরপর এলাকার ইমামদের নিয়েও বৈঠক করা হয়েছে। সেখানে ইমামরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার সঙ্গে ওই কুসংস্কারের বিরোধিতা করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। ভরতপুরের একটি মসজিদের ইমাম বলেন, শুধু কুসংস্কারের বিরোধিতাই নয়, আমরা বিষয়টি নিয়ে মসজিদের মাইকে প্রচারও করব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ