নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলায় কয়েকশো কোটি টাকার হোমিওপ্যাথিক ওষুধ শিল্পের পাশে দাঁড়াল নতুন সরকার। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত সম্প্রতি বাজেট বক্তৃতায় জানিয়েছেন, এই শিল্পে লাইসেন্স প্রথা তুলে দিয়ে আইনের সংশোধনী আনা হতে পারে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলায় কয়েকশো কোটি টাকার হোমিওপ্যাথিক ওষুধ শিল্পের পাশে দাঁড়াল নতুন সরকার। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত সম্প্রতি বাজেট বক্তৃতায় জানিয়েছেন, এই শিল্পে লাইসেন্স প্রথা তুলে দিয়ে আইনের সংশোধনী আনা হতে পারে।
প্রসঙ্গত, পূর্বতন সরকার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে হোমিওপ্যাথি ওষুধ নির্মাতাদের জন্য নয়া আইন বলবৎ করে। তা হল, ওয়েস্ট বেঙ্গল এক্সাইজ (প্রসিডিওর ফর গ্রান্ট অ্যান্ড ফা়ংশানিং অব লাইসেন্স অ্যান্ড পেমেন্ট অব ফিজ ফর দি উইজ অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্পিরিট) রুলস ২০২৫। তার জেরে নানা ধরনের লাইসেন্স এবং রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ কয়েক লক্ষ টাকা বাড়তি ধার্য করা হয়। যার ফলে পশ্চিমবঙ্গে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ তৈরি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই বাংলায় হোমিওপ্যাথিক ওষুধ নির্মাতাদের সংগঠন নতুন সরকারের এক্সাইজ সহ বিভিন্ন দপ্তরের কাছে চিঠি পাঠায়। কয়েক হাজার মানুষের জীবন জীবিকা এবং হোমিওপ্যাথির মতো বহুল প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত গোটা বিষয়টি ‘বর্তমান’-এ প্রকাশিত হয়। তারপরই তৎপর হয় সরকার। বাজেটে অর্থমন্ত্রী জানান, ‘হোমিওপ্যাথিক ওষুধ প্রস্তুতকারীদের নির্ধারিত ফি দিয়ে এক্সাইজ ডাইরেক্টরেট থেকে লাইসেন্স নিতে হয়। এই শিল্পে বহু বছর ধরে অনেক চাকরির সুযোগ ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপ হয়। তাদের উপর এই নিয়মতান্ত্রিক বোঝা এড়ানো সম্ভব।’
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৫০০টি বড়ো, মাঝারি ও ছোটো হোমিওপ্যাথিক ওষুধের কারখানা আছে। রাজ্য তো বটেই, ভিন রাজ্য এবং বিদেশেও যায় এখানকার হোমিওপ্যাথিক ওষুধ। বছরে মোট ব্যবসার পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকারও বেশি। অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে বাজেটে আশ্বাস পাওয়ার পর আশায় বুকে বেঁধেছেন শিল্পোদ্যোগীরা। নির্মাতাদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল দেব বলেন, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের বাজেট বার্তা হোমিওপ্যাথিক ওষুধ শিল্পের জন্য অত্যন্ত পজিটিভ। অপরিসীম সম্ভাবনা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে এই শিল্পে। লাইসেন্সরাজ বাতিল হলে এই শিল্প আরও বাড়বে।