নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: একসময় যেখানে রেলের ওয়াগন তৈরির কারখানা ছিল, সেই বার্ন স্ট্যান্ডার্ডের বিস্তীর্ণ চত্বরে এবার গড়ে উঠতে চলেছে অত্যাধুনিক রেল হাসপাতাল। দীর্ঘদিনের পুরানো অর্থোপেডিক হাসপাতালকে নতুন পরিকাঠামোয় স্থানান্তর করার সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে হাওড়ার রেল স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড়ো পরিবর্তনের সূচনা হল। সম্প্রতি হুগলি থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। তারপরেই শুরু হয়েছে নির্মাণকাজ।
বার্ন স্ট্যান্ডার্ড মোড়ের কাছে প্রায় পাঁচ একর জমির উপর ৩০০ শয্যার মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরি হচ্ছে। এক সময় রেলের শিল্প ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশকে এখন স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর নতুন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে রেল। প্রায় ১০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তিনতলা হাসপাতালে এমআরআই, সিটি স্ক্যান সহ অত্যাধুনিক রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা, আধুনিক অপারেশন থিয়েটার সহ যাবতীয় উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা থাকবে। মূলত অর্থোপেডিক চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালটি গড়ে উঠলেও অন্যান্য বিশেষজ্ঞ বিভাগও চালু করা হবে বলে জানিয়েছে রেল। হাওড়া ডিভিশনের ডিআরএম বিশাল কাপুর বলেন, ‘নতুন হাসপাতালটি মূলত রেল কর্মীদের চিকিৎসার জন্য তৈরি হলেও বিশেষ শর্তে সাধারণ মানুষও পরিষেবা পাবেন। বিশেষত যাঁদের আয়ুষ্মান ভারত কার্ড রয়েছে, তাঁরা এই হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।’
প্রসঙ্গত, এই নতুন হাসপাতালের পরিকল্পনার নেপথ্যে রয়েছে হাওড়া ময়দানের চার্চ রোডে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হাওড়া অর্থোপেডিক হাসপাতালের দীর্ঘ ইতিহাস। হাওড়া ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে কেন্দ্র। দেশের দ্বিতীয় প্রাচীনতম ও অন্যতম ব্যস্ততম রেল স্টেশন হাওড়া থেকে প্রতিদিন কয়েকশো ট্রেন চলাচল করে এবং লক্ষ লক্ষ যাত্রী পরিষেবা পান। এই বিশাল রেল পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই ১৯৫০ সালে একটি ছোটো স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসাবে যাত্রা শুরু করেছিল হাওড়া অর্থোপেডিক হাসপাতাল। পরবর্তীকালে ১৯৬৬ সালে সেটি ৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত হয় এবং ধাপে ধাপে ভারতীয় রেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থোপেডিক হাসপাতালে পরিণত হয়। বর্তমানে ১৭৯ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতাল শুধু পূর্ব রেলের নয়, দেশের বিভিন্ন জোনাল রেলওয়ে, রাজ্য হাসপাতাল এবং অন্যান্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের জন্যও রেফারেল কেন্দ্র হিসাবে কাজ করে। এখানে একাধিক জটিল অর্থোপেডিক অপারেশন নিয়মিত করা হয়।
তবে দীর্ঘদিনের ব্যবহারে হাসপাতালের বর্তমান পরিকাঠামো নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশ জীর্ণ হয়ে যাওয়ায় শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। রেলের দাবি, ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে আরও বড়ো ও আধুনিক হাসপাতাল গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছিল। সেই প্রয়োজন থেকেই বার্ন স্ট্যান্ডার্ডের জায়গায় নতুন হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন হাসপাতাল চালু হলে শয্যা সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হবে। রেলের আশা, ভবিষ্যতে এটি গোটা রাজ্যের রেলকর্মীদের জন্য অন্যতম প্রধান রেফারেল হাসপাতাল হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।