নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: একমাস খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমআরআই মেশিন। তার ফলে রোগী ও তাঁদের আত্মীয়রা চরম সমস্যায় পড়েছেন। হাসপাতালের আউটডোরে থাকা এমআরআই বিভাগের সামনে এসে প্রতিদিনই রোগীরা ঘুরে যাচ্ছেন।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: একমাস খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমআরআই মেশিন। তার ফলে রোগী ও তাঁদের আত্মীয়রা চরম সমস্যায় পড়েছেন। হাসপাতালের আউটডোরে থাকা এমআরআই বিভাগের সামনে এসে প্রতিদিনই রোগীরা ঘুরে যাচ্ছেন।
বাঁকুড়া মেডিকেলের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডু বলেন, এমআরআই মেশিন সারানোর জন্য মেকানিকদের খবর পাঠানো হয়েছে। তাঁরা কলকাতা থেকে এলে ওই মেশিন সারানো হবে। তারপর রোগীরা পরিষেবা পাবেন।
শনিবার তালডাংরার বাসিন্দা কাশ্মীরা হাজরা বলেন, দ্রুত এমআরআই করানোর জন্য হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেছেন। অথচ মেডিকেলে এমআরআই হচ্ছে না। এমআরআই না হলে রোগ নির্ণয় হবে না। ফলে চিকিৎসা শুরু হতেও দেরি হবে। বাইরে থেকে এমআরআই করানোর সামর্থ্যও নেই। শারীরিক যন্ত্রণা কতদিন সহ্য করতে হবে, তা বুঝতে পারছি না।
উল্লেখ্য, বাঁকুড়া মেডিকেলে একটি করে এমআরআই ও সিটি স্ক্যান মেশিন রয়েছে। গত এপ্রিল মাসে মোট ৯২৬ জন রোগীর এমআরআই হয়েছে। সিটি স্ক্যান করা হয়েছে ২৬০৮ জন রোগীর। দুই ক্ষেত্রে আউটডোরের রোগীর সংখ্যাই বেশি। এমআরআইয়ে এক মাসে ৬১৬ জন আউটডোর তথা বহির্বিভাগের রোগী পরিষেবা নিয়েছেন। ইনডোরে ভরতি ২৯৫ জনের এমআরআই করা হয়েছে। চিকিৎসকদের অনুরোধে জরুরি বিভাগে আসা ১৫ জনের এমআরআই করা হয়েছে। সিটি স্ক্যানে রোগীর সংখ্যা একটু বেশি থাকে। এক মাসে আউটডোর, ইনডোর ও ইমার্জেন্সি বিভাগে যথাক্রমে ১০২৪, ৬৯০ এবং ৮৯৪ জন রোগী পরিষেবা পেয়েছেন।
হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৩৫ জনের এমআরআই ও ৯০-৯৫ জনের সিটি স্ক্যান হয়। বাইরে থেকে এমআরআই করাতে গেলে রোগীর আত্মীয়দের ৬-৮ হাজার টাকা গুনতে হয়। হাসপাতালে কার্যত নিখরচায় তা হয়ে যায়। ফলে হাসপাতালের এমআরআই বা সিটি স্ক্যান মেশিন বিকল হলে গরিব রোগীদের চরম সমস্যায় পড়তে হয়। বাঁকুড়া মেডিকেলে যা রোগীর চাপ তাতে হাসপাতালে অন্তত দু’টি করে এমআরআই ও সিটি স্ক্যান মেশিন থাকা প্রয়োজন। যে দু’টি মেশিন রয়েছে সেগুলি অনেক পুরানো। ফলে কার্ডিয়াক এমআরআই আমরা ওই মেশিনের সাহায্যে করতে পারি না। মেশিন কবে খারাপ হবে, তা বলা যায় না। দু’টি করে ইউনিট থাকলে একটি বিকল হলে বাকি মেশিন দিয়ে আমরা কাজ চালিয়ে নিতে পারব। সম্প্রতি রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে বিষয়টি রাজ্যের মন্ত্রী ও জেলা প্রশাসনের কর্তাদের নজরে আনা হয়। নতুন মেশিন বসানোর জন্য জায়গা প্রস্তুত করে রেখেছি। শুধুমাত্র বরাদ্দের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। বন্ধ এমআরআই কক্ষ। -নিজস্ব চিত্র