Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

নিরাপদে দীপাবলি

শব্দবাজি ব্যবহার নিয়ে সাবধান হন। বিশেষ করে শিশুদের শব্দবাজি থেকে বিপদগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে বেশি

নিরাপদে দীপাবলি
  • ১৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

• শব্দবাজি ব্যবহার নিয়ে সাবধান হন। বিশেষ করে শিশুদের শব্দবাজি থেকে বিপদগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে বেশি। তাই দীপাবলির সময় একেবারেই তাদের একলা শব্দবাজি ফাটাতে দিলে চলবে না। একান্তই ব্যবহার করতে হলে প্রোটেকটিভ গগলস বা চোখের বেশিরভাগ অংশ ঢাকা থাকে এমন চশমা পরে তবেই শব্দবাজি ফাটান। তাতে অন্তত পঞ্চাশ শতাংশ অবধি বাজি থেকে বিপদের আশঙ্কা কমে। মনে রাখবেন অনেকক্ষেত্রেই বাজির স্ফুলিঙ্গ থেকে চোখের কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও সেখান থেকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দূর করা যায় না।

Advertisement

• সাধারণ পটকা ফেটে বা রংমশাল থেকে চোখে স্ফুলিঙ্গ বা বারুদজাতীয় কিছু পড়লে প্রথমেই অত্যন্ত ভালোভাবে চোখ ধুয়ে নিন। পরিষ্কার জলে চোখে বারবার ঝাপটা দিন। আর সম্ভব হলে ২০ সিসির একটি নিডলহীন সিরিঞ্জে ডিস্টিলড ওয়াটার নিন। এরপর চোখ মণি উপর পানে রেখে, চোখের পাতা নীচের পাতা আঙুল দিয়ে নামিয়ে রাখুন। তারপর চোখের ৩-৪ সেন্টিমিটার দূর থেকে চোখে সিরিঞ্জ দিয়ে জল দিন। তাতে চোখ খুব ভালো পরিষ্কার করা সম্ভব হবে।
এরপর যে কোনও একটি সদ্য কেনা অ্যান্টিবায়োটিক আই ড্রপ সারা দিনে ৬-৮ বার পাঁচ থেকে সাত দিন দিতে হবে। পাশাপাশি চোখে ৫ থেকে ৬ বার দিতে হবে লুব্রিকেটিং আই অয়েনমেন্ট। এই প্রাথমিক চিকিত্‍সা করার পরেও ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোনও উপকার না হলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন বোধ হলে আরও আগে পরামর্শ নিতে পারেন।
• রংমশালজাতীয় বাজি কখনওই হাতে ধরে ব্যবহার করা চলবে না। একান্তই রংমশাল জ্বালাতে হলে একটি লম্বা পাটকাঠির মাথায় রংমশাল বেঁধে নিন। এবার পাটকাঠির শেষ প্রান্ত ধরে দূর থেকে রংমশালজাতীয় বাজি পোড়াতে পারেন। মনে রাখবেন রংমশাল থেকে হওয়া বার্ন বা পোড়া অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।
• বাজি ফাটানো বা রংমশাল জ্বালানোর সময় পরুন সুতির পোশাক। সিন্থেটিকের পোশাক কোনওভাবেই পরবেন না। পরুন পা ঢাকা জুতো। তার সঙ্গে পরুন সুতির মোজা। কেননা চরকি থেকেও হতে পারে ইনজুরি। 
• যেখানে রংমশাল, আতসবাজি ফাটাচ্ছেন সেখানে একটি লোহার বা ধাতুর বালতিতে জল পুরে রেখে দিন। বাজির অবশিষ্টাংশ সেই জলের মধ্যে ফেলুন।
• এখন বহু শিশুই ভোগে শ্বাসকষ্টের সমস্যায়। এছাড়া বড়দের মধ্যেও অনেকের হাঁপানি-সিওপিডি-এর সমস্যা রয়েছে। দীপাবলির সময়ে বাতাসে দূষণের মাত্রা এতখানিই বেড়ে যায় যে শ্বাসকষ্টের রোগীর অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এই আশঙ্কা দূর করতে ছোট থেকে বড় সকলেই বাজি ব্যবহারের সময় এন ৯৫ মাস্ক পরুন।
• এমনিতে পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নিয়ম অনুসারে শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধব বাজিই বিক্রি ও ব্যবহার করা যাবে। রাত ৮টা থেকে ১০টা অবধিই ফাটানো যাবে বাজি। তবে সাবধান, শব্দবাজি থেকে কানের পর্দার ইনজুরি হওয়ার আশঙ্কা বাদ দেওয়া যায় না। তাই শব্দবাজিকে বলুন না।
• অল্প পোড়ায় লাগানো যায় এমন ক্রিম বা মলম হাতের কাছে রেখে দিন।
• বড় বার্ন ইনজুরিতে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে যান রোগীকে।
শেষ কথা
দীপাবলি এবং কালীপুজো আলোর উত্‍সব। তাই প্রদীপ জ্বালুন, রঙিন আলো জ্বালুন। এইভাবেই মন ও জীবন থেকে দূর করুন অন্ধকার।
লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ