নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ‘ভূতুড়ে’ কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ইউনিট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসন মহলে। দেখা যাচ্ছে, সেই সমস্ত ইউনিট খাতায়-কলমে সক্রিয় রয়েছে। কিন্তু, বাস্তবে অর্ধেকের বেশি ইউনিট সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতে কাজ করছে না। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফ থেকে নিষ্ক্রিয় ইউনিটগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলায় সরকারিভাবে ১৪০টি সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট বা কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ইউনিট রয়েছে। যার মধ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে ৬০টি ইউনিট। বাকিগুলির মধ্যে কোনওটিতে বাড়ি বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহ করার কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে রয়েছে। আবার কোথাও সেই কাজ চলছে ঢিমেতালে। এবার সেই ‘ভূতুড়ে’ ইউনিটকে পুনরায় চালু করতে চাইছে জেলা প্রশাসন। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্লকের আধিকারিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা বৈঠক করেছেন। নদীয়া জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) অনুপকুমার দত্ত বলেন, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের কাজে গতি আনতে আমরা বৈঠক করেছি। বিভিন্ন ব্লকে কোথাও কাজ বন্ধ হয়ে থাকলে, সেগুলিকে দ্রুত পুনরায় সক্রিয় করা হবে। গ্রামীণ এলাকায় স্বচ্ছতার কাজ জোর দিয়ে করা হচ্ছে।
নদীয়া জেলার ১৮১টির মধ্যে ১৪০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সরকারিভাবে সক্রিয় রয়েছে। কৃষ্ণগঞ্জ, কৃষ্ণনগর-২, নবদ্বীপ, রানাঘাট-১ এবং তেহট্ট-১ ব্লকে ১০০শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। অথচ দেখা যাচ্ছে, জেলার প্রায় ৮০টি পঞ্চায়েতে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। অর্থাৎ, বিশেষ কিছু পঞ্চায়েতে কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। এই সমস্ত পঞ্চায়েতগুলির ইউনিট নিয়েই উদ্বেগ বেড়েছে প্রশাসনের।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চাকদহ ব্লকের দুবড়া ও তাতলা-২ পঞ্চায়েত, হরিণঘাটা ব্লকের বিরোহি-১ ও ২, কালীগঞ্জ ব্লকের দেবগ্রাম পঞ্চায়েত, কল্যাণী ব্লকের কাঁচরাপাড়া, মদনপুর-১, সারাতি ও শিমুরালি, করিমপুর-২ ব্লকের ধোড়াদহ-১, ২ ও রহমতপুর, কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের আসাননগর, ভাণ্ডারখোলা, ভীমপুর, চকদিগনগর, দেপাড়া, দিগনগর, দোগাছি, জোয়ানিয়া ও পোড়াগাছা, নাকাশিপাড়া ব্লকের বিক্রমপুর, বিলকুমারি, বিল্বগ্রাম, ধর্মদা, দোগাছিয়া ও হরনগর, রানাঘাট-২ ব্লকের আইশমালি, আড়ংঘাটা, বৈদ্যপুর-২, দেবগ্রাম, কামালপুর, নোকাড়ি, হিজুলি-১, ২ ও শ্যামনগর, শান্তিপুর ব্লকের আরবান্দি-১, বাগআছড়া, বেলগড়িয়া-১, ২, হরিপুর এবং নাবলা পঞ্চায়েতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ইউনিট নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছে। অথচ খাতায়-কলমে সেই সমস্ত ইউনিট সক্রিয় রয়েছে। কোথাও রাজনৈতিক জটিলতা, আবার কোথাও স্থানীয় পঞ্চায়েতের তরফে অনীহার কারণে প্রকল্পের কাজকে বাস্তবায়িত করা হচ্ছে না বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
সম্প্রতি নদীয়া জেলার মিশন নির্মল বাংলা নিয়ে বৈঠক করতে এসেছিলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী বেচারাম মান্না। সেই মিটিংয়েও নদীয়া জেলার কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে গতি আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।