কলকাতার ঘাটের কথা তুলে ধরছে হাতিবাগান সর্বজনীন, সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণের সচেতনতা-বার্তা লালাবাগান নবাঙ্কুরের
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৭:০৯
Prefer us on Google

তন্ময় সাহা  কলকাতা

Advertisement

পুণ্যসলিলা গঙ্গা। সেই কবে ভগীরথ স্বর্গ থেকে নামিয়ে পথ দেখিয়ে এনেছিলেন সাগরে। তারপর থেকে কত জল বয়ে গিয়েছে। সময়ের নিয়মে সেই নদীর পূর্বপাড়ের ছোট জনপদ হয়েছে শহর, তারপর কল্লোলিনী তিলোত্তমা।  কিন্তু গঙ্গার ঘাট বলতে সবার আগেই মাথায় আসে বেনারসের কথা। মিথ, ইতিহাস আর ঐতিহ্যে কাশীর ঘাটগুলি অনন্য তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু এই আলোচনার মধ্যেই কোথাও হারিয়ে যায় কলকাতার ঘাটগুলির কথা।
এবারের শারদোৎসবে সেই ঘাটের কথাই বলবে হাতিবাগান সর্বজনীন।  ইতিহাসের সময় থেকে আজ, প্রতিদিন কলকাতার ঘাটে ঘাটে জন্ম নেয়  হাজারো ছবি। আর তা দিয়েই মণ্ডপ সাজিয়ে তুলছেন শিল্পী বাঙালি শিল্পী তাপস দত্ত ও ফরাসি শিল্পী টমাস হেনরিয়েট। গোটা মণ্ডপজুড়ে তৈরি হচ্ছে ফরাসি -বাঙালি জুটির অনবদ্য সব চিত্রকলা। তার কোনওটা উঠে এসেছে ইতিহাসের গর্ভ থেকে কোনওটা আবার প্রতিদিনকার ঘরকন্নার ছবি। হাতে আঁকা সেই ছবি কাপড়ের কাজে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। সেখানে ঘাটের অনুষঙ্গ তৈরিতে ব‌্যবহৃত হচ্ছে সোনালি সুতো। শিল্পী তাপস দত্ত জানিয়েছেন,  ‘কলকাতার ঘাট নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না। হাজার হাজার ছবি, বই,  চিত্রকর্ম হয়েছে বেনারস নিয়ে। অথচ কলকাতার ঘাটগুলি এক প্রকার ব্রাত্যই। এই শহরের ঘাটগুলিও আলোচনার দাবি রাখে। ইতিহাস-ঐতিহ্যে তারাও কম যায় না। সেই ভাবনা থেকেই তৈরি হয়েছে থিম।’ পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা শ্বাশত বসু জানিয়েছেন, ‘জন্ম থেকে মৃত্যু— আমাদের সবই নদীকেন্দ্রিক। যে উমার আগমনে গোটা শহর মেতে ওঠে, তার বোধন এবং বিসর্জন,  অর্থাৎ শুরু ও শেষ গঙ্গার ঘাটেই। সেই ঘাটগুলির কথাই এবার তুলে ধরবে হাতিবাগান সর্বজনীন।’
অন্যদিকে, সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণের সচেতনতার বার্তা তুলে ধরছে লালাবাগান নবাঙ্কুর। এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বের মাথাব্যথার কারণ সমুদ্রের প্লাস্টিক দূষণ। তথ্য বলছে, গোটা পৃথিবীর অন্তত ২৬৭টি সামুদ্রিক জীবের প্রজাতি প্লাস্টিক দূষণের কারণে ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি। যার মধ্যে রয়েছে ৮৬ শতাংশ সামুদ্রিক কচ্ছপ সহ সামুদ্রিক, পাখি, মাছ, প্রবাল। সামুদ্রিক দূষণের এই ভয়াবহ রূপ মানুষের কাছে তুলে ধরতে এই শারদোৎসবে লালাবাগান নবাঙ্কুরের মণ্ডপ সাজছে প্লাস্টিকের বোতল সহ নানা ধরনের সিঙ্গেল ইউজড প্লাস্টিক দিয়ে। শিল্পী প্রশান্ত পালের তত্ত্বাবধানে সেজে উঠছে মাতৃমূর্তি। বিশ্বজননী এখানে যেন সামুদ্রিক দেবী। তাঁর মাথায় শঙ্খের মুকুট শোভা বাড়িয়েছে অনেকগুণ।