শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দীগ্রাম: ‘আমাকে দেড় লক্ষ ভোটে জেতাবেন। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আমি যেন বলতে পারি-নন্দীগ্রাম ইতিহাস রচনা করতে জানে। উপনির্বাচনেও সব বিধানসভার থেকে সর্বোচ্চ মার্জিন এনে ইতিহাস রচনা করেছে নন্দীগ্রাম।’ বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিরুলিয়ায় ভোটপ্রচারে নেমে পথসভায় এভাবেই বাসিন্দাদের কাছে ইতিহাস তৈরির শরিক হওয়ার আহ্বান জানালেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। তিনি আরও বলেন, ‘নন্দীগ্রামবাসীর পাশে শুভেন্দুবাবু অতীতেও ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তিনি আপনাদের পরম আত্মীয়। তাঁর রাজনৈতিক উত্থানে এই মাটির অবদান অনস্বীকার্য। আমি আপনাদের ভোটে শুধুমাত্র প্রতিনিধিত্ব করব। আপনারা আগামী ৬অক্টোবর তিন নম্বর বোতামে পদ্মফুলে ভোট দেবেন। দলের মুখ উজ্জ্বল করুন। দেড় লক্ষের বেশি ভোটে জেতাবেন।’
এদিন নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের ৫নম্বর মণ্ডল কমিটির অধীনে সাতটি জায়গায় পথসভা করেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানিদেবী। সঙ্গী ছিলেন জেলা সহ সভাপতি প্রলয় পাল, মণ্ডল কমিটির সভাপতি শুভময় পণ্ডা, জেলা পরিষদ সদস্য অরূপ জানা সহ আরও অনেকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও পথসভায় বেশ ভিড় ছিল। সবকটি জায়গায় বিজেপি প্রার্থী বক্তব্য রাখেন। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ২০২৬সালে আমাদের দল যে নির্বাচনি ইস্তেহার প্রকাশ করেছিল তার সবকটি বাস্তবায়ন করছে সরকার। অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে আয়ুষ্মান ভারত, সরকারি বাসে ফ্রি পরিষেবা সবই কার্যকর হয়েছে। হাসপাতালের খাবারের মান ভাল করার জন্য টাকার পরিমাণ বাড়িয়েছেন। মিড ডে মিলে টাকার পরিমাণও বাড়িয়েছে রাজ্য। গত ১৫বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার পশ্চিমবঙ্গকে অনেকটাই পিছিয়ে দিয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও বিজেপি প্রার্থীর সভায় বেশ ভিড় হয়েছিল। এদিন সিপিআই প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি বাড়িবাড়ি প্রচার করেন। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের স্ত্রী অর্পিতা প্রধান বৃহস্পতিবার কলকাতায় সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন। তিনি জেলবন্দি স্বামীর হয়ে ভোটপ্রচারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামে আসার আবেদন জানিয়েছেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস ভট্টাচার্য নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপ নির্বাচনের দায়িত্ব পেয়েছেন। চণ্ডীপুরে তিনি থেকে নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে ভোটের রণকৌশল ঠিক করছেন। দ্রুত নির্বাচনি কমিটি প্রকাশ করা হবে বলে শুভাশিসবাবু জানিয়েছেন। ২০০৭সালের জমি আন্দোলনের মামলায় মিলনবাবু গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁর প্রতি সহানুভূতির হাওয়া তুলে এই ভোটে প্রাসঙ্গিক হওয়া মরিয়া চেষ্টা করছে হাতশিবির। দলের নেতা-কর্মীরা জনসংযোগে নেমেছেন। উপ নির্বাচনে সিপিআই এবং কংগ্রেস প্রার্থীর মধ্যে কে কাকে টপকে উপরে উঠতে পারে তা নিয়ে নন্দীগ্রামে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।