নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ময়দান, ইকো পার্ক, চিড়িয়াখানা, ভিক্টোরিয়া—সর্বত্র ভিড়ে ঠাসা। জানুয়ারির রবিবারে হলটা কী? ময়দানে ফটোশ্যুট করতে করতে এক তরুণীর মন্তব্য, ‘আজ ওয়েদারটা ভালো। চকচকে রোদ উঠেছে। আজ বেরবো না তো আর কবে?’ কিন্তু এদিনের রোদ কি একটু চড়া? বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে একটু গরম তো লাগছেই! তাহলে ঠান্ডা কি সত্যিই কমে গেল দুম করে? ভিক্টোরিয়ার সামনে ফুল হাতা সোয়েটার আর মাফলারে নিজেকে মুড়ে রাখা এক প্রৌঢ় বললেন, ‘যে যাই বলুক, ঠান্ডা ভালোই আছে। রোদের তেজ কোথায়!’
একে শীতের সকাল। তায় ছুটির দিন। আট থেকে আশি বেরিয়ে পড়েছে। দুপুরে ময়দানে গিয়ে তারই প্রমাণ মিলল হাতেনাতে। কেউ কাগজ পেতেই রোদে গা এলিয়ে শুয়ে পড়েছে। কেউ কেউ আবার শুকনো ঘাসের উপর পেতে নিয়েছে বাড়ি থেকে আনা বেডশিট। তারপর সেখানেই চলছে সপরিবারে খাওয়াদাওয়া। বাড়ি থেকেই আনা হয়েছে রান্না করা খাবার। চলছে ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন খেলা। ঠান্ডা কি কমেছে? সোদপুরের বাসিন্দা পুলক রায় বললেন, ‘ঠান্ডা খুব কম, বলা যাবে না। রোদে টানা দাঁড়িয়ে থাকলে গরম লাগছে ঠিকই, তবে কিছুক্ষণ দাঁড়ালে ততটাই আরাম লাগছে।’ বিড়লা তারামণ্ডলের বাইরে কিংবা সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল চার্চের বাইরেও বেশ ভিড়। ভিক্টোরিয়াটা কোন দিকে? পথচারীর থেকে উত্তর পেয়েই সেদিকে হাঁটা লাগাল একটি পরিবার। হুগলি থেকে আসা স্বপন পালের বক্তব্য, ‘খুব ঠান্ডা থাকলে তো বাচ্চাদের নিয়ে বেরনো যায় না। আজকে ঠান্ডাও একটু কম। রোদও উঠেছে। সকালে পরিস্থিতি দেখে তবেই বেরিয়েছি।’
এ তো গেল ঠান্ডা নিয়ে আম জনতার প্রতিক্রিয়া। কী বলছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর? তারা জানাচ্ছে, এদিন কলকাতা শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শনিবারের তুলনায় বেশ কিছুটা ঊর্ধ্বর্মুখী ছিল। সেই তাপমাত্রা সাড়ে তিন ডিগ্রি বেড়ে হয়েছে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সল্টলেক, দমদম ও বারাকপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ১৫.৮, ১৫ ও ১১.৬ ডিগ্রি। অন্যদিকে, কল্যাণী ও মগরার তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ১১.২ ও ১৩ ডিগ্রি। কাকদ্বীপের তাপমাত্রা ১১.৫ থাকলেও বসিরহাট, ডায়মন্ডহারবার, ক্যানিংয়ের তাপমাত্রা ১৩ থেকে ১৪ ডিগ্রির মধ্যেই ঘোরাফেরা করেছে। এদিন কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৭ ডিগ্রি কম। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের জন্যই তাপমাত্রার এমন হেরফের হয়েছে। তবে এখনই শীতের পাকাপাকি ছুটি নেওয়ার প্রশ্ন নেই। অন্তত আগামী এক সপ্তাহ এমন শীতই থাকবে। সঙ্গে থাকবে উত্তুরে হাওয়ার প্রকোপও। আজ, সোমবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রির আশপাশে থাকারই সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, কনকনে ঠান্ডা ফিরতেই পারে। তাই রবিবারের তাপমাত্রা দেখে এখনই লেপ-কম্বল, জ্যাকেট-সোয়েটার তুলে রাখার অবকাশ নেই শহরবাসীর। এদিন সন্ধ্যা গড়াতেই অবশ্য বিষয়টি টের পেয়ে গিয়েছে শহরবাসী। দুপুরে বা বিকেলের দিকে যে শীতপোশাক কোমরে জড়াতে হয়েছিল বা ব্যাগে ভরে রাখতে হয়েছিল, সন্ধ্যার পর সেই সোয়েটার-জ্যাকেট-চাদরেই নিজেকে মুড়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে শহরবাসীকে।