Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুলিশকর্মীর মেয়ে হয়েও দেরিতে অভিযোগ কেন? হাড়োয়া গণধর্ষণের তদন্তে উঠছে প্রশ্ন

হাড়োয়ার বাসিন্দা কলকাতা পুলিশের এক কর্মীর মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে এক ইউটিউবার ও তাঁর নাবালক ছেলে।

পুলিশকর্মীর মেয়ে হয়েও দেরিতে অভিযোগ কেন? হাড়োয়া গণধর্ষণের তদন্তে উঠছে প্রশ্ন
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: হাড়োয়ার বাসিন্দা কলকাতা পুলিশের এক কর্মীর মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে এক ইউটিউবার ও তাঁর নাবালক ছেলে। ঘটনা জানাজানির হওয়ার থেকে থানায় অভিযোগ দায়েরের দিনের মধ্যে রয়ে গিয়েছে ‘বিস্তর ফারাক’! স্বাভাবিকভাবে পুলিশ কর্মীর পরিবারের মেয়ে উপর নির্যাতনের ঘটনার তদন্তে সময় ফারাকের বিষয়টি যথেষ্টই ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার মেডিকেল রিপোর্ট হাতে এসেছে পুলিশের। তবুও এই প্রসঙ্গে একটি কথাও খরচ করেনি পুলিশ। পাশাপাশি নির্যাতিতার সঙ্গে ইউটিউবারের কিশোর ছেলের বিভিন্ন ঘনিষ্ঠ ছবি ভাইরাল হতে শুরু করেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। স্বাভাবিকভাবে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা বাড়ছে সকলের। দু’জনের ‘সম্পর্কে ফাটল’ থেকেই এই ঘটনা প্রকাশ্যে এল কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, হাড়োয়ার বছর ১৫’র ওই নির্যাতিতার বাবা কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল পদে কর্মরত। তাঁর কিশোরী কন্যা স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। নাচ ও গানে সে যথেষ্ট পারদর্শী। আর নাচগানের ভিডিও বানানোর নাম করে কয়েকমাস আগে তাঁকে ডাকেন পড়শি ইউটিউবার এবং তার নাবালক ছেলে। এর জন্য কিশোরীকে টাকাও দেওয়ার প্রস্তাব দেয় তারা। আর ভিডিও বানানোর নামে কিশোরীকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়েও যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘাঁটলে নির্যাতিতা কিশোরীর সঙ্গে ইউটিবারের ছেলের বিভিন্ন ঘনিষ্ট ছবি ও ভিডিও দেখা যাচ্ছে। তবে, পরিচিত হওয়ায় কিশোরীর পরিবার বিষয়টি নিয়ে প্রথমে আপত্তি তোলেনি। অভিযোগ, পরে তারা জানতে পারে রিলস তৈরির নামে নাবালিকা মেয়ের কিছু অশ্লীল ছবি ও ভিডিও গোপনে বানিয়ে রেখেছেন গুণধর বাবা-ছেলে। আর সেই ছবি আর ভিডিও দেখিয়েই শুরু হয় ব্ল‍্যাকমেল করা। অভিযোগ, কিশোরীকে ফাঁকা বাড়িতে প্রথমে ধর্ষণ করে ইউটিউবার বাবা। আর সেই কথা ছেলেকে জানায় মেয়েটি। তারই মধ্যে বিয়ে করার নামে কিশোরীর সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেয় নাবালক। এরপর সেও মেয়েটিকে ধর্ষণ করে বলে দাবি পরিবারের। কাউকে কিছু জানালে নির্যাতিতার গোপন ছবি ও ভিডিও সমাজমাধ‍্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সমস্ত বিষয়টি ৭ অক্টোবর পরিবারের সদস্যদের জানায় নির্যাতিতা কিশোরী। এর তিনদিন পর, শনিবার (১১ তারিখ) হাড়োয়া থানায় গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার মা। তদন্তে নেমে ওই রাতেই ইউটিউবার ও তাঁর নাবালক ছেলেকে গ্রেফতার করে হাড়োয়া থানার পুলিশ। এখন ইউটিউবার পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা ছিল ইউটিউবারের ছেলের ‘বিশেষ বন্ধু’! কিন্তু হঠাৎ করেই ওই কিশোরের জীবনে চলে আসে ‘অন্য’ এক বন্ধু। তাদের সম্পর্ক এখনই চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবেনি দুই পরিবারই। এই আবহে নতুন বিশেষ বন্ধু আসার বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি প্রথম বান্ধবী তথা নির্যাতিতা, এমনটাই মনে করছে পুলিশ। এনিয়ে বসিরহাট পুলিশ জেলার সুপার হোসেন মেহেদি রহমান বলেন, গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ইউটিউবার ও তাঁর নাবালক ছেলেকে। আমরা গোটা বিষয়টি তদন্ত করছি। এখন কিছুই বলা যাবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ