নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মেমারি-১ ব্লকের সরডাঙা সম্প্রীতি উৎসব কমিটি তিনদিনের সম্প্রীতি উৎসব পালিত হল। সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সকল ধর্মের গুরুদের হাতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যে দিয়ে ১এপ্রিল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হন। এবার এখানকার উৎসব তৃতীয় বছরে পড়ল। হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান সহ সকল ধর্মের মানুষের উপস্থিতিতে উৎসব পূর্ণতা লাভ করে। আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে সম্প্রীতি জরুরি। গুরুত্বপূর্ণ এই বার্তা সামনে রেখেই মেমারি-১ ব্লকের সরডাঙা সম্প্রীতি উৎসব কমিটি গত তিন বছর ধরে এই উদ্যোগ নিয়ে চলছে।
গত ১এপ্রিল পুরোহিত, ইমাম, গির্জার ফাদার এবং শিখ ধর্মগুরুর উপস্থিতিতে সাড়ম্বরে সরডাঙা ফুটবল ময়দানে সম্প্রীতি উৎসবের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে পুলিসের সার্কেল ইন্সপেক্টর বিশ্বজিৎ মণ্ডল, মেমারি থানার ওসি প্রীতম বিশ্বাস সহ গুণীজনরা উপস্থিত ছিলেন। উৎসব কমিটির পক্ষ থেকে ওই এলাকার ৩৫জন গুণী ব্যক্তিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্র কিংবা স্কুল তৈরিতে জমিদাতা, পঞ্চায়েতে থাকাকালীন এলাকার ভালো কাজ করা ব্যক্তিদেরও সংবর্ধনা জানানো হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সংবর্ধনা পর্ব শেষে বাংলা ব্যান্ডের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। ২এপ্রিল অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সম্প্রীতি উৎসবে যোগ দেন। মেমারির বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। টলিউডের সুপারস্টারকে সামনে থেকে দেখার জন্য প্রচুর মানুষজন ভিড় জমান। কচিকাঁচাদের উৎসাহ ছিল দেখার মতো। সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে এরকম অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য তিনি উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানান। ৩এপ্রিল অনুষ্ঠানের শেষদিন জগদ্ধাত্রী সিরিয়ালের মূল চরিত্রে অভিনয় করা অঙ্কিতা মল্লিক এই উৎসবে অনুষ্ঠান করেন। মহিলারা দল বেঁধে ভিড় জমান। তরুণীদের মধ্যেও উন্মাদনা ছিল নজরকাড়া। ওইদিন গায়িকা শ্রীময়ী সরকারও গান পরিবেশন করেন। উৎসব কমিটির পক্ষ থেকে বাল্যবিবাহ, পথ নিরাপত্তা, সাইবার ক্রাইম নিয়ে সচেতনতামূলক হোর্ডিং দিয়ে মানুষজনকে সচেতন করা হয়। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে কী কী সুবিধা পাওয়া যায়, তা নিয়েও সচেতন করা হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতি সামসুল মণ্ডল ও সভাপতি মোহিত মণ্ডল বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ থেকে নজরুল সকলেই সম্প্রীতির গান লিখে গিয়েছেন। সমাজে সম্প্রীতি বজায় থাকলে অগ্রগতি অব্যাহত থাকে। এরকম একটি বিষয়কে সামনে রেখে গত তিন বছর ধরে আমরা সম্প্রীতি উৎসব পালন করছি। গ্রামীণ এলাকায় এরকম একটি অনুষ্ঠানে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ঘটে। এখানেই অনুষ্ঠানের সার্থকতা প্রত্যক্ষ করি। আমরা আগামী দিনেও এই উৎসব চালিয়ে যেতে চাই।