Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হারমোনিয়াম উধাও, বোলান গানে সিন্থেসাইজার, প্যাড

হারমোনিয়াম উধাও, বোলান গানে সিন্থেসাইজার, প্যাড
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: প্রাচীন লোকশিল্পেও আধুনিকতার ছোঁয়া। হারমোনিয়ামের বদলে সিন্থেসাইজার, ইলেট্রনিক্স প্যাড। শনিবার রাতে বোলান গানের আসরে দেখা গেল, হারমোনিয়াম বাদ দিয়ে আধুনিক যন্ত্রানুষঙ্গসহযোগে গান গাইলেন শিল্পীরা। যা নিয়ে দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে উন্মাদনা দেখা গেলেও প্রবীণ শিল্পীদের গলায় আক্ষেপের সুর। গত শুক্রবার ও শনিবার রাতে ভরতপুর ১ ও ২ ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে বোলান গানের আসর বসে। রামায়ণ, মহাভারত ছাড়াও নানা পৌরাণিক ও সামাজিক ঘটনাবলি নিয়ে রচিত হয়এই পালাগান। বোলানের প্রতিটি দলে ১৫ থেকে ৩০ জন পর্যন্ত শিল্পী থাকেন। শিল্পীরা বাদ্যযন্ত্র হিসেবেসাধারণত ব্যবহার করেন হারমোনিয়াম, জুরি, সানাই, ঢোল, কাঠিবাজনা ইত্যাদি।তবে এবছর ভরতপুর ১ ব্লকের বিভিন্ন আসরে দেখা গেল হারমোনিয়াম উধাও। পরিবর্তে কোথাও ক্যাসিও,সিন্থেসাইজার ব্যবহার হচ্ছে। কোথাও আবার ইলেট্রনিক্স প্যাডও রয়েছে। এই ইলেকট্রনিক্স বাজনা দর্শকদের ব্যাপক আকর্ষণ করছে। ভরতপুর দাসপাড়ায় একটি বোলান গানের দল হারমোনিয়াম ছেড়ে সিন্থেসাইজার ব্যবহার করছিল। ওই বোলানদলের লিডার স্থানীয় মালতিপাড়ার অনিল মাঝি বলেন, কিছু করার নেই। বোলানগানকে টিকিয়ে রাখতে গেলে আধুনিকতা আনতে হবে। আমরা সেটাই করেছি। এসব ব্যবহার করার ফলে আমাদের দলের চাহিদাও বেড়েছে। সুন্দিপুর গ্রামের অপর একটি বোলান দলের শিল্পী সন্ন্যাসী মাঝি বলেন, আগে বোলানের আসরে বিদ্যুৎ বা সাউন্ড সিস্টেম ছিল না বলে হারমোনিয়ামের ব্যবহার করতে হতো। কিন্তু এখন সব আসরেই বিদ্যুৎ থেকে সাউন্ড সিস্টেম রয়েছে। তাই কাঁধে করে হারমোনিয়াম নিয়ে যাওয়ার কোনও মানে হয় না। তাছাড়া ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের সুর পাওয়া যায়। যা দর্শক-শ্রোতাদের আকর্ষণ করে। সেই কারণেই হারমোনিয়াম ছেড়ে ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রের ব্যবহার করছে প্রতিটি দল।

Advertisement

আলুগ্রামের একটি বোলান আসরের আয়োজক কমিটির সদস্য তুহিন পাল বলেন, আমাদের আসরে যতগুলি দল এসেছিল কোনওটিকেই হারমোনিয়াম ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। এতে দর্শকরা আনন্দ পেয়েছেন। যদিও প্রবীণ শিল্পীদের গলায় আক্ষেপের সুর। জজানগ্রামের প্রবীণ বোলান শিল্পী ভবতোষ ঘোষ বলেন, আর কতকিছু দেখতে হবে জানিনা। তবে বোলানগানে হারমোনিয়াম নেই মানে অতীতকে অস্বীকার করা। পালাগানে আধুনিকতা অনেক আগেই ঢুকেছে। এবার বাদ্যযন্ত্রেও আধুনিকতা ভাগ বসাল।  ফাইল চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ