মুম্বই: কান্না নয়, হাসি!
মুম্বই: কান্না নয়, হাসি!
সেমি-ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে আনার পর আবেগে কেঁদে ফেলেন জেমাইমা রডরিগেজ, হরমনপ্রীত কাউররা। ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে নামার আগে আবেগের আতিশয্য কাঁটা হয়ে বিঁধবে না তো টিম ইন্ডিয়াকে, আশঙ্কা ছিল। অবশ্য শনিবার ভারতীয় অনুশীলনে হাসিখুশি মেজাজেই দেখা গেল হরমনপ্রীত, রেণুকা সিংদের। ঘরের মাঠে কাপ জেতার চাপ নয়, রীতিমতো ফুরফুরে মেজাজেই দেখা গেল সাবইকে। স্মৃতি মান্ধানারা তো জেমাইমার পোষা কুকুরের সঙ্গেই খেলায় মাতলেন। তার মধ্যে ওপেনার শেফালি ভার্মার ক্লাস নিলেন কোচ অমল মুজুমদার। নেটে সাধনায় মগ্ন দেখাল দীপ্তি শর্মাদের। একফাঁকে পিচ পরিদর্শনও সারল ভারতীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্ক।
অতীতে দু’বার ফাইনালে উঠেও হয়নি স্বপ্নপূরণ। ২০০৫ ও ২০১৭ ওডিআই বিশ্বকাপের খেতাবি যুদ্ধে পরাজয়ের যন্ত্রণা এখনও টাটকা। এবার তাই শাপমোচনের প্রার্থনায় আসমুদ্রহিমাচল। ইতিহাস গড়ে হরমনপ্রীতের হাতে কাপ দেখার স্বপ্ন দেখছে দেশবাসী। স্বয়ং তিনিও আশাবাদী। হরমনপ্রীত বলেছেন, ‘ফাইনালে হারতে কত খারাপ লাগে তা আমাদের জানা। এবার বিশ্বসেরার স্বাদ পেতে চাই। ফাইনালে পৌঁছতে প্রচুর পরিশ্রম করেছি আমরা। এবার শেষটা মধুর করার লড়াই।’
সেমি-ফাইনালে রেকর্ড রান তাড়া করে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে ভারত। সেই আবেগকে দূরে সরিয়ে রেখেই প্রোটিয়া বধের প্রস্তুতি চলছে। লিগের সাক্ষাতে পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার বাড়তি তাগিদও সঙ্গী। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা শক্তিশালী। প্রতিযোগিতার শুরুতে দু’বার একশোর কমে আউট হলেও দ্রুত ছন্দে ফেরে লরা উলভার্ট ব্রিগেড। সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ‘ক্যাপ্টেন্স নক’ উপহার দেন লরা। দলে রয়েছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মারিজানে কাপ (২০৪ রান, ১২ উইকেট), নাদিনে ডি ক্লার্ক (১৯০ রান, ৮ উইকেট), তাজমিন ব্রিটসরা (২১২ রান)। ফলে কঠিন চ্যালেঞ্জই সামনে।
স্মৃতি-হরমনপ্রীতরা তাই সতর্ক। ক্যাপ্টেনের কথায়, ‘ফাইনালে পৌঁছনো ছিল গর্বের মুহূর্ত। আমি নিশ্চিত, যেভাবে শেষ দুটো ম্যাচ খেলেছি, তাতে দেশবাসীর প্রত্যাশা বেড়েছে। আমরা প্রস্তুত। নিজেদের সেরাটা দেওয়াই লক্ষ্য। বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার চেয়ে বড় মোটিভেশন হতে পারে না। আমরা একজোট রয়েছি। অনেক আগে থেকেই এই মুহূর্তটার স্বপ্ন দেখেছি। এবার স্বপ্ন সফল করার পালা।’ টিম কম্বিনেশন নিয়ে অবশ্য জল্পনা চলছে। রাধা যাদবের জায়গায় স্নেহ রানাকে খেলানো নিয়ে চর্চা অব্যাহত। তবে যিনিই খেলুন, আট নম্বর পর্যন্ত ব্যাটিং গভীরতা চাইছে ভারত।