অমিত চৌধুরী, তারকেশ্বর: সমুদ্রমন্থন, রামমন্দির, সোমনাথ মন্দির, অস্তিত্ব সহ বিভিন্ন থিমে সেজে উঠেছে হরিপালের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপ। এ বছর হরিপালে মোট পুজোর সংখ্যা ৩৮০টি। বাড়ির পুজো ৪৭টি, মহিলা পরিচালিত পুজো ৮টি। এর মধ্যে ২৮৯টি পুজো এবার সরকারি অনুদান পাচ্ছে।
হরিপালের দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম গুসকরা পশ্চিমপাড়া খেয়ালি সংঘের পুজো। এই পুজো এবার ৩৬ তম বর্ষে পড়ল। থিম, বাসুকির বন্ধনে অমৃতের সন্ধানে। মণ্ডপের প্রবেশদ্বারে রয়েছে বিশাল আকৃতির শিবলিঙ্গ। একাধিক শিবলিঙ্গ ও রুদ্রাক্ষ দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে মণ্ডপ। অমৃত লাভের সন্ধানে দেবতা ও অসুরের লড়াইয়ে সমুদ্রমন্থনের দৃশ্য আলোকসজ্জার মধ্যে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। সামান্য দূরেই রয়েছে গুসকরা আমরা সবাই ক্লাবের পুজো। ৩৯ তম বর্ষে তাদের পুজোর থিম সোমনাথ মন্দির। নালিকুল বাকচি বাজার সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির পুজো ৯১ তম বর্ষে পদার্পণ করল। এটি এলাকার অন্যতম প্রাচীন বারোয়ারি পুজো। তাদের পুজোর থিম ‘অস্তিত্ব’। একটি চারাগাছ অঙ্কুরিত হওয়ার পর ক্রমে তা বেড়ে পরিণত হয় মহীরুহে, সেটাই বোঝানো হয়েছে থিমের সাহায্যে। শাখায় পল্লবে সেই বৃক্ষ জাহির করে নিজের অস্তিত্ব। তেমন মানুষের ক্ষেত্রেও নাড়ির টান কখনো সম্পর্কের, কখনো জন্মভূমির, আবার কখনো আপন অস্তিত্বের। বড়গাছিয়া উদয়ন সংঘের পুজো ২০ তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। এবার তাদের থিম রামমন্দির। লোহার কাঠামোর মধ্যে সুতো, পাট সহ বিভিন্ন সামগ্রী বেঁধে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ‘অস্তিত্ব’কে । চোয়ালপাড়া মৈত্রী সংঘের পুজো ৬৩ তম বছরে পা দিয়েছে। তাদের থিম, তামিলনাড়ুর রামেশ্বর মন্দির। হরিপাল স্টেশন বাজার সংলগ্ন রায়পুকুর পাড়ের নেতাজি সংঘের পুজোর প্রতিমা প্রতিবার সকলকে মুগ্ধ করে। ৩৩ বছরে পদার্পণ করল এই পুজো। হরিপাল গজার মোড় বান্ধব সমিতির পুজোর ৬৫ তম বর্ষ এবার। বারোয়ারি পুজোর পাশাপাশি বহু বনেদি বাড়ির পুজো হয় হরিপালে। উৎসবের চারদিন সমস্ত বারোয়ারি প্যান্ডেলে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। দর্শনার্থীদের সামলাতে নাজেহাল হতে হয় প্রশাসনকে।



