নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: বজ্রপাতের সময় কী করা উচিত বা কোথায় আশ্রয় নেওয়া উচিত, তা নিয়ে সচেতনতার অভাব ফের প্রাণহানি ডেকে আনল! রবিবার নদীয়ার হরিণঘাটা ও হুগলির পাণ্ডুয়ায় বজ্রাঘাতে মৃত্যু হল দু’জনের। এদিন দুপুরে হরিণঘাটায় বাড়ির গাছ থেকে নারকেল পাড়তে গিয়ে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয় ছোটন দাসের (৪৩)। পাণ্ডুয়াতে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে বাপ্পা মুখোপাধ্যায়ের (৪০)। তিনি পাণ্ডুয়া থানারই সিভিক ভলান্টিয়ার ছিলেন।
হরিণঘাটার ছোটনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। পেশায় তিনি ছিলেন বিদ্যুতের কাজের ঠিকাদার। তাঁর আড়াই বছরের এক সন্তান রয়েছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে হাহাকার করছেন তাঁর আত্মীয়-পরিজন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুরে বাড়ির উঠোনে থাকা নারকেল গাছ থেকে নারকেল পাড়ছিলেন তিনি। সেই সময় বজ্রপাত হয়। গুরুতর জখম হন ছোটন ও গাছের নীচে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর ভাই। তাঁদের আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা ছোটনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, এদিন দুপুরে বাড়ির পাশের মাঠ থেকে গোরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয় পাণ্ডুয়ার বাপ্পা মুখোপাধ্যায়ের। তার কিছুক্ষণ আগেই বজ্র-বিদ্যুৎসহ বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন বাপ্পা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিমলাগড়-তালবোনা এলাকার বাসিন্দা বাপ্পা। স্থানীয়রা ছুটে এসে তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে পান্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দীর্ঘদিন ধরে পান্ডুয়া থানায় সিভিক ভলান্টিয়ার হিসাবে কর্মরত ছিলেন বাপ্পা। অবিবাহিত বাপ্পা তাঁর চার ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোটো। তাঁর এই অকালমৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। পুলিশ মহলেও শোকের আবহ। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, অত্যন্ত কর্তব্যপরায়ণ ও মিশুকে স্বভাবের জন্য সবার প্রিয় ছিলেন বাপ্পা। পান্ডুয়া থানার পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠায়। এছাড়াও এদিন বজ্রপাতে একটি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে।