দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: রাজ্যবাসীর জন্য সুখবর। এবার ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ক্যারোটিন যুক্ত ডিম বিক্রি করবে রাজ্য সরকারের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তর। তাও আবার একই গুণগত মানের ডিমের চেয়ে কম দামে। সোনালি হলুদ রঙের সেই ডিম আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই মিলবে পশ্চিমবঙ্গ পশুপালন উন্নয়ন নিগমের আউটলেটগুলিতে। হরিণঘাটা ব্র্যান্ড নামে সেমি কন্টেইনার গোছের প্যাকিংয়ে বিক্রি হবে এইসব ডিম।
শীতের মরশুমে ডিমের চাহিদা বাড়ে। তাই শীতের শুরুতেই খোলা বাজারে ডিমের দাম একলাফে ৮ টাকা ছুঁই ছুঁই। মঙ্গলবারই রাজ্যে ডিমের এই আকস্মিক দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর জন্য তিনি দায়ী করেন, ভিনরাজ্য থেকে আসা মুরগির ফিড-এর (খাবার) দাম বৃদ্ধিকেই। অথচ পশ্চিমবঙ্গ অন্তত এক ডজন রাজ্যে ডিম সরবরাহ করে। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের পশুপালন পর্ষদের তরফে এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। পর্ষদ কর্তারা বলছেন, রাজ্যবাসীর সুস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এই বিশেষ পুষ্টিগুণযুক্ত ডিম বাজারে আনতে চলেছেন তাঁরা। সোনালি হলুদ রংয়ের এই ডিমগুলোকে অনেকেই চলতি কথায় বলেন ‘ব্রাউন এগস’। মূলত ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড মিলবে এই ডিমগুলি থেকে। রক্তে ট্রাই গ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে ব্রাউন এগ। নিয়ন্ত্রণ করবে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রাও। এমনকী ভিটামিন ‘ডি থ্রি’ এবং ডিটামিন ‘এ’ যুক্ত এই বিশেষ ধরনের প্রক্রিয়াজাত ডিমে ভালো থাকবে হার্ট, লিভারও। সরাসরি উপকার পাবে ত্বক, চোখের মতো শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলি।
প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে, কেবলমাত্র প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের যে সমস্ত আউটলেট রয়েছে, সেখান থেকেই বিক্রি করা হবে এই ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত ডিম। রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৭০০টি এরকম আউটলেট রয়েছে। প্রতিটি প্যাকেটে থাকবে ছ’টি করে ডিম। দাম হবে বাজারে ইতিমধ্যে যেসব ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত ডিম পাওগা যায়, তার চেয়ে প্যাকেট পিছু অন্তত ১৫ থেকে ২০ টাকা কমে। বিষয়টি নিয়ে পর্ষদের এক কর্তা বলেন, কম দামে রাজ্যবাসীর কাছে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন প্রাণিজ প্রোটিন পৌঁছে দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য। এতদিন আমরা বাজারের চেয়ে কম দামে সাধারণ মুরগির ডিম পৌঁছে দিচ্ছিলাম। এবার ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত যুক্ত ব্রাউন এগ সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। সেটিও বাজারে বিক্রি হওয়া ওই ধরনের ডিমের চেয়ে কম দামে মিলবে। শুধু তাই নয়, আমাদের ছ’টি ডিমের প্যাকেটটিও অত্যাধুনিক হবে। অনেকটা সেমি কন্টেইনার গোছের হবে। যাতে সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় তা নিয়ে যাওয়া যায়।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে খোলাবাজারে সাধারণ মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে সাড়ে সাত টাকা থেকে ৮ টাকা প্রতি পিস। সেখানে হরিণঘাটা ব্র্যান্ডের ডিম সরকারি আউটলেটে পাওয়া যাচ্ছে সাত টাকারও কম দামে। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত ডিমের ক্ষেত্রেও এক একটি পিসের দাম হতে পারে দশ টাকার আশেপাশে।