


সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: ৪৪বছর পর সিপিএমকে হারিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হরেরাম সিং। জেলার পরিচিত শ্রমিক নেতা হরেরামকে সেবার দল টিকিট দেওয়ায় অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। বর্ষীয়ান শ্রমিক নেতা প্রমাণ করেছিলেন দলনেত্রীর সঠিক মানুষের উপর আস্থা রেখেছেন। ২০২১ সালে ভোটের ইস্যু ছিল সিপিএমের হাতে থাকা জামুড়িয়ার অনুন্নয়ন। এবার ভোটে নিজের উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড নিয়েই মানুষের কাছে যেতে হবে হরেরামকে।
জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, জামুড়িয়া বিধানসভা এলাকায় বিধায়ক তহবিলের ১০০শতাংশ কাজই হয়েছে। অর্থাৎ ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার কাজ হয়েছে শেষ পাঁচ বছরে। চুরুলিয়া পঞ্চায়েত এলাকায় ২৪টি সোলার স্ট্রিটলাইট বসাতে ২৬ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দেশেরমোহনে কবরস্থানের প্রাচীরের জন্য খরচ হয়েছে ১৩ লক্ষ টাকা। খোট্টাডিহি গ্রামের কমিউনিটি হলের কিচেন শেড করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা, বাগডিহা, সাতগ্রাম সহ একাধিক জায়গায় প্রায় ৬ লক্ষ টাকা করে ব্যয়ে হাইমাস্ট আলো বসানো হয়েছে। এতে এলাকা আলোকিত হয়েছে। পথচারীদের নিরাপত্তা বেড়েছে। আট লক্ষ টাকা ব্যয়ে নিউকেন্দায় নতুন বাসস্ট্যান্ড তৈরি হয়েছে। সেন্ট্রাল সাতগ্রাম, জামুড়িয়ায় ছটঘাট তৈরি করেছেন বলে তাঁর দাবি। চাপুই কোলিয়ারি মেন গেট থেকে ১৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে রাস্তা হয়েছে। এভাবেই নানা কাজে বিধায়ক নিজেরে তহবিলের টাকা খরচ করেছেন।
বিধায়কের দাবি, শুধু বিধায়ক তহবিল থেকেই নয়, আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ, পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর থেকেও জামুড়িয়া বিধানসভা এলাকায় বহু উন্নয়নমূলক কাজ তিনি করতে পেরেছেন। জাদুডাঙা মোড়ে হাইমাস্ট আলো বসিয়েছে এডিডিএ, পানিহাটি ওয়ার্কশপ থেকে কৈথি গ্রাম পর্যন্ত রাস্তা তৈরি হয়েছে। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে জামুড়িয়া শিল্পতালুক থেকে জামুড়িয়া বাজার পর্যন্ত আসার রাস্তা তৈরি হয়েছে। শ্রমিকরা উপকৃত হয়েছেন। বিধায়কের দাবি, এভাবেই রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর জামুড়িয়ায় উন্নয়ন করেছে। এই সময়েই জামুড়িয়ার আখলপুরে হাসপাতালের উন্নয়ন হয়েছে।
বিধায়কের উন্নয়নের নানা দাবি করলেও সাধারণ মানুষ অপ্রাপ্তির হিসেবও কষছেন। জামুড়িয়ার মানুষ আজও পর্যাপ্ত পানীয় জল পাননি। বিভিন্ন ওয়ার্ডে এনিয়ে তুমুল ক্ষোভ রয়েছে। কালাঝরিয়ায় জলপ্রকল্প ভেঙে পড়ায় গ্রামীণ এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। পাশাপাশি জামুড়িয়া শিল্পতালুকের দূষণ নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এলাকাবাসীর আক্ষেপ, টাকা দিয়ে প্রভাবশালী, সংস্থার মুখ বন্ধ করে দিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষরা দূষণবিধি না মেনেই কারখানা চালাচ্ছে। এলাকার বাসিন্দা মনোজ পাল বলেন, এখানে কারখানা আছে। কিন্তু স্থানীয় মানুষজন কাজ পান না। এলাকার বাসিন্দা রমেশ রায় বলেন, জামুড়িয়া এতবড় জনপদ, কারখানা রয়েছে তবু দমকল কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি।
বিজেপির জেলা সহ সভাপতি তাপস রায় বলেন, জামুড়িয়ার মানুষ কাজ পায়নি। পানীয় জল পায়নি। বিধায়ক এখানে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
বিধায়ক হরেরাম সিং বলেন, পাঁচ বছরে জামুড়িয়ায় যা উন্নয়ন হয়েছে তা আগে কোনোদিন হয়নি। আমরা পানীয় জলের সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছি।