সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: সাংবাদিক সম্মেলনের নাম করে ডেকে চরম হেনস্তা করা হল ‘বর্তমান’-এর সাংবাদিককেই। কারণ? সত্যি খবর পরিবেশন এবং তাঁবেদারি না করা। শুধুমাত্র এই কারণে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক পিনাকী ধোলেকে রীতিমতো ‘হুমকি’ দেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রায় অর্ধেক টাকাই খরচ করতে পারেনি পুরুলিয়া জেলা পরিষদ। কেন সেই টাকা খরচ করা যাচ্ছে না, তা নিয়ে ‘বর্তমান’ খোঁজখবর শুরু করে। জানা যায়, জেলা পরিষদের টেন্ডারের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ‘কাটমানি’র খেলা। কয়েকজন নেতার দাবিমতো কাটমানি দিলেই পাওয়া যায় টেন্ডার। না হলে টেন্ডার প্রক্রিয়া স্তব্ধ হয়ে যায়। ‘সেটিং’ থাকা ঠিকাদারের বাইরের কেউ টেন্ডার ড্রপ করলে কোনও না কোনও অজুহাতে তা বাতিল করা হয় বলে অভিযোগ। সম্প্রতি সেই প্রতিবেদনই প্রকাশিত হয় ‘বর্তমান’-এ। তার জেরেই শাসানি! জেলা পরিষদের এই সাংবাদিক সম্মেলন ডেকেছিলেন সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাত। তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সুজয়বাবু, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হংসেশ্বর মাহাত প্রমুখ। সেখানে ‘বর্তমান’-এর সাংবাদিককে সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দেন, ‘সিস্টেমে এসো।’ ‘সিস্টেম’টা ঠিক কী সুজয়বাবু? সাংবাদিকেরা আপনার তাঁবেদারি করবে-এটাই আপনার সিস্টেম? সাংবাদিকরা কি শুধুমাত্র আপনার মনের মতো খবর পরিবেশন করবেন? না হলে আপনি সাংবাদিকদের ডেকে অপমান করবেন? হেনস্তা করবেন? এই অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?
এদিন জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি তথা তৃণমূলের সহ সভাপতি সুজয়বাবুকে বলতে শোনা যায়, ‘এই পিনাকী ধোলে, তুমি কোথাকার বড় রিপোর্টার হয়ে গেলে হে? নিজেকে কী ভেবে নিয়েছ?’ খবর নিয়ে কোনও সংশয় থাকলে এভাবে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে হেনস্তা না করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সুজয়বাবুকে বলা হয়। তার উত্তরে হুমকির সুরে তিনি বলেন, ‘নোটিস না কী যাবে, তা দেখতে পাবে। তোমাকে জানিয়ে দিলাম। এটা প্রসেস নয়। বেশি বকতে এসেছ? এটা সিস্টেম নয়, একটা সিস্টেমে আসো, পরিষ্কার বলে দিচ্ছি।’ সুজয়বাবু অবশ্য তাঁর ‘সিস্টেম’ খোলসা করেননি। তবে সুজয়বাবুর জেনে রাখা দরকার, বর্তমান ভগবান ছাড়া কাউকে ভয় পায় না। কারও তাঁবেদারি আগেও করত না, এখনও করে না। তাই ভুল দেখলে, ব্যর্থতা দেখলে আমরা ফের লিখব। আপনার ‘সিস্টেমে’ আমাদের পাবেন না।