সংবাদদাতা, খড়্গপুর: তৃণমূল পরিচালিত খড়্গপুর পুরসভায় অবশেষে লাগানো হবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি। শনিবার বিকেলে খড়্গপুর পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে এই প্রস্তাব দেন তৃণমূল কাউন্সিলর প্রদীপ সরকার। খড়্গপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা ঋতব্রত-তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রদীপ সরকারের এই প্রস্তাবে প্রথমে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন তৃণমূল ও বিজেপির কাউন্সিলাররা। পরে অবশ্য সামলে নিয়ে সকলেই এই প্রস্তাবে সহমত পোষণ করেন। শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ প্রদীপের দাবি, এর আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি লাগানো ছিল। তাহলে এখন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর ছবি লাগাতে অসুবিধা কোথায়! আমরা বিরোধী দলের কাউন্সিলর হলেও মুখ্যমন্ত্রী তো সবার। তাছাড়াও তিনি আমাদের মেদিনীপুরের সন্তান। আমরা সকলেই গর্বিত তাঁর জন্য!'
উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে নিজের রুমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি লাগিয়েছিলেন চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষ। খড়্গপুর সদরের বিধায়ক তথা পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের সঙ্গে কল্যাণী ঘোষের সুসম্পর্ক রয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রীর পরামর্শেই পুরসভা পরিচালনার কথা জানিয়েছিলেন কল্যাণী দেবী। 'বিতর্ক' এড়াতেই তাই তিনি এতদিন শুভেন্দু অধিকারীর ছবি লাগান নি বলে মনে করছে জেলার রাজনৈতিক মহল। তাঁদের মতে, শুভেন্দু বাবুর ছবি লাগালে পুরসভার দিলীপ ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলাররা 'বিকল্প' প্রস্তাব দিতে পারেন বলেও অনুমান করেছিলেন কল্যাণী দেবী। তাই দু'জনের মধ্যে কার ছবি লাগাবেন, নাকি দু'জনের ছবিই লাগাবেন, এই প্রশ্নের সদুত্তর না পেয়েই মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছিলেন তিনি। তবে, শনিবার বোর্ড মিটিং শেষে কল্যাণীদেবী বলেন, 'বোর্ড মিটিংয়ে এই প্রস্তাব এসেছে। বেশিরভাগ কাউন্সিলার সমর্থনও করেছনে। তাই আমরা মুখ্যমন্ত্রীর ছবি লাগাব বলে ঠিক করেছি।' দিলীপবাবুর ছবিও কি লাগানো হবে? কল্যাণীদেবী বলেন, 'এতদিন শুধু প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছবিই ছিল। বাকিটা আমরা সকলে মিলে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেব।'
জেলার রাজনীতিতে একসময় শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী হিসেবে পরিচিত ছিলেন প্রদীপ সরকার। শুভেন্দুবাবুর নেতৃত্বেই ২০১৯ সালের বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। দিলীপবাবুর সঙ্গেও অবশ্য 'বন্ধুত্বের' সম্পর্ক রয়েছে প্রদীপের। এবারের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরও দিলীপবাবুর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেছিলেন প্রদীপ। এদিন প্রদীপ বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রীর সাথে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপবাবুর ছবিও থাকতে পারে, কোন অসুবিধা নেই। মনীষী হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবিও থাকতে পারে। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রীর ছবি লাগাতেই হবে। এতদিন কেন লাগানো হয়নি, সেটাই বিস্ময়ের।' বৈঠকে উপস্থিত বিজেপি কাউন্সিলাররা বলেন, 'রাজ্যের বেশিরভাগ পুরসভাতেই মুখ্যমন্ত্রীর ছবি লাগানো হয়েছে। এখানেও এবার লাগানো হবে।’