নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিজেপি বাংলা বিরোধী। বাঙালি বিরোধী। রবিবার এমনই অভিযোগ তুলে দিল্লির ডাবল ইঞ্জিন সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগল তৃণমূল। দিল্লিতে মাঝেমধ্যেই আনঅথরাইজড কলোনি, বস্তি এলাকায় পুলিস হানা দিচ্ছে বলে অভিযোগ। দিল্লি পুলিস অমিত শাহর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন। দিন কয়েক আগে বসন্তকুঞ্জ এলাকায় জয় হিন্দ কলোনি নামে এক বস্তির বাসিন্দাদের হেনস্তার মুখে পড়তে হয়েছে বলেই তৃণমূলের দাবি। ওই বস্তিতে পানীয় জল সরবরাহের লাইন এবং বিদ্যুৎ সংযাগ কেটে দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে রবিবার এলাকায় যান তৃণমূলের তিন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সাগরিকা ঘোষ এবং সাকেত গোখলে।
সেখানে গিয়ে তাঁরা বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। কথা বলেন বাসিন্দাদের সঙ্গে। যারা মূলত কোচবিহার এবং অসমের লোক। সঙ্গে আধার কার্ড রয়েছে। দিল্লি সরকারের হেনস্তার শিকার হওয়া ওই মানুষগুলোর কথা জেনে তৃণমূল নেতৃত্বের আশ্বাস, আমরা পাশে আছি। কোনওভাবেই বাংলা, বাঙালিকে অপমানিত হতে দেব না। বিজেপির ষড়যন্ত্র সহ্য করব না।
সুখেন্দুবাবু বলেন, বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি? তাছাড়া জয় হিন্দ কলোনি যে জায়গায় গড়ে উঠেছে, সেই ৬০ বিঘা জমির মালিকানা নিয়ে মামলা চলছে। ৩০ জন মালিকানা দাবি করেছে। আদালতে মামলা নিষ্পত্তি হয়নি। অথচ বাঙালিদের উৎখাতের চেষ্টা চলছে। স্রেফ জয় হিন্দ কলোনিই নয়। ইস্ট অব কৈলাস, লাজপত নগর এলাকাতেও একইভাবে বাংলাদেশি সন্দেহে বাংলার কাপড় তথা পোশাক ব্যবসায়ীরাও হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ। মূলত বসিরহাট লোকসভার হাড়োয়ার লোকজন এখানে গারমেন্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। দু’দিন ছাড়াই দিল্লি পুলিস পরিচয়পত্র দেখার নামে হেনস্তা করে। বাংলাদেশি তকমা লাগিয়ে দিল্লিছাড়া করতে চায়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আমরা বাংলায় কথা বলি, এটাই অপরাধ? এদিকে, ভিন রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তার প্রতিবাদে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে চিঠি দিলেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী।