Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হনুমান জয়ন্তীর মিছিলে সম্প্রীতির ছবি, পা মেলাল বিজেপি-তৃণমূল

হনুমান জয়ন্তীর মিছিলে সম্প্রীতির  ছবি, পা মেলাল বিজেপি-তৃণমূল
  • ১৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: পুরুলিয়া জেলায় রামনবমীর শোভাযাত্রায় এবার ততটা অস্ত্র প্রদর্শন দেখা যায়নি। অবশ্য শনিবার রাতে পুরুলিয়া শহরে হনুমান জয়ন্তীর শোভাযাত্রায় দেখা গেল অস্ত্র প্রদর্শন। সঙ্গে ছিল ডিজে-র কানফাটানো শব্দ। তবে হনুমান জয়ন্তীর শোভাযাত্রায়, মিছিলে সম্প্রীতির ছবি ধরা পড়েছে। ঝালদায় আবার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় পা মিলিয়েছেন বিজেপি, তৃণমূল নেতারাও। পুরুলিয়া শহরের অন্যতম ‘ঐতিহ্য’ হনুমান জয়ন্তীর শোভাযাত্রা। শনিবার সন্ধ্যা থেকেই শোভাযাত্রার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে আখড়াগুলি। তারপর রাত ১০টা নাগাদ নিজ নিজ এলাকা থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। মধ্যরাতে তা এসে পৌঁছয় পুরুলিয়া শহরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে। এবার রাত যত বেড়েছে, ততই বেড়েছে শোভাযাত্রার জৌলুস। বেড়েছে ডিজের তাণ্ডব। অস্ত্র হাতে দাপাদাপি করতে দেখা গিয়েছে হনুমান ভক্তদের। পুরুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান নব্যেন্দু মাহালি বলেন, হনুমান জয়ন্তীর শোভাযাত্রা পুরুলিয়া শহরের ঐতিহ্য, পরম্পরা। পুরুলিয়া যখন বিহারের অংশ ছিল, তখন থেকে এই সংস্কৃতি চলে আসছে। দোল পূর্ণিমার দিনে বিভিন্ন হনুমান মন্দিরে লাঠিখেলা শুরু হয়। রামনবমীর দিন প্রত্যেক হনুমান মন্দিরে ঝান্ডা উত্তোলন হয়। সেই ঝান্ডা নিয়েই রামনবমীর এক সপ্তাহ পর শোভাযাত্রা বের হয়। বিভিন্ন আখড়া নিজেদের শোভাযাত্রা বের করে। এবছর মোট ৪৬টি আখড়া শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছে। শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ লাঠিখেলা। 

Advertisement

তবে, এই লাঠিখেলায় ছিল সম্প্রীতির ছোঁয়াও। চেয়ারম্যানই শোনাচ্ছিলেন, বহু মুসলিম ধর্মাবলম্বী গুরু আছেন, যাঁরা লাঠিখেলা শেখান। তাঁদের থেকে তালিম নিয়ে হনুমান জয়ন্তীতে হিন্দু যুবকরা লাঠি খেলেন। প্রতিযোগিতা হয়। তাতে মুসলিম যুবকরাও যোগ দেন। আবার মহরমেও মুসলিম যুবকরা লাঠি খেলেন, হিন্দু ছেলেরা বাজনা বাজান। পুরুলিয়ার বুকে এই সম্প্রীতি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। 
অন্যদিকে, শনিবার বিকাল পৌনে পাঁচটা নাগাদ ঝালদার সত্যভামা বিদ্যাপীঠ ময়দান থেকে হনুমান জয়ন্তীর শোভাযাত্রা শুরু হয়। বজরং দল এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ব্যানারে শোভাযাত্রা হলেও তাতে পা মেলাতে দেখা গিয়েছে বিজেপি ও তৃণমূল নেতাদের। মিছিলে যেমন ছিলেন পুরুলিয়া জেলা বিজেপির সভাপতি শঙ্কর মাহাতো, তেমনই মিছিল দেখা গিয়েছে ঝালদা শহর তৃণমূলের সভাপতি চিরঞ্জীব চন্দ্রকেও। দু’জনের অবশ্য বক্তব্য, এটা ঝালদার ঐতিহ্য, পরম্পরা। দলমত নির্বিশেষে ঝালদার মানুষ এই শোভাযাত্রায় পা মেলান। এতে রাজনীতি খুঁজলে পাওয়া মুশকিল। এদিনের শোভাযাত্রা বীরসা মোড়, বাসস্ট্যান্ড, বাঁধাঘাট হয়ে শহরে ফিরে আসে। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ঝালদায় হনুমান জয়ন্তীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছিল দুই সম্প্রদায়ের লোকজন। সেই নিয়ে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল ঝালদা। তাই শনিবার সকাল থেকেই নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে দেওয়া হয় গোটা শহর। পুলিসের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ