নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: স্বামীর সঙ্গে দিল্লি থেকে মালদহের গাজোলে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন দীপালি মির্ধা। পথে যেকোনোভাবে হারিয়ে যান। এর পর কেটে গিয়েছে প্রায় দশ বছর। বছর ত্রিশের দীপালির খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরেছে পরিবার। অবশেষে হ্যাম রেডিও খুঁজে দিল হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে। চেন্নাই থেকে এখন দীপালির বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় বৃদ্ধা মা জুগলি মির্ধা।
পরিবার সূত্রে খবর, স্বামীর সঙ্গে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলেন দীপালি। সেখানে থাকার সময়ই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর দিল্লি থেকে স্বামীর সঙ্গে বাড়ি ফেরার সময় হারিয়ে যান তিনি।
ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের সম্পাদক অম্বরিশ নাগ বিশ্বাস বলেন, স্বামীর সঙ্গে আলাদা হয়ে যাওয়ার পর বাড়ি ফেরার পথ হারিয়ে চেন্নাইয়ে চলে আসেন ওই মহিলা। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে আদালতে পেশ করে। কোর্টের নির্দেশে তাঁর ঠাঁই হয় হোমে। সেখানে দিপালী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। যদিও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় সন্তানকে সবসময়ের জন্য কাছে পাননি ওই মা। মাতৃদুগ্ধ পান করানোর সময় সন্তানকে দিপালীর কোলে দেওয়া হত। পরে সন্তানকে সপ্তাহে একবার করে মায়ের কাছে দেওয়া হয়। বর্তমানে চেন্নাই কর্পোরেশনের শেল্টার ফর আরবান হোমলেসে রয়েছেন দীপালি।
অম্বরিশের দাবি, এক পুলিশ অফিসার প্রথম তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর পর চেন্নাইয়ের ওই হোমে যোগাযোগ করে দিপালীর ছবি নিয়ে খোঁজখবর শুরু হয়। হোমে ওই মহিলা তাঁর বাড়ি বলতে গিয়ে একবার যা বলেছিলেন, তার ভিত্তিতে তাঁর ঠিকানা লেখা হয়েছিল ‘সুন্দরবন’। কিন্তু দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর জানা যায়, সুন্দরবন নয়, ওই মহিলার বাড়ি গাজোলের সিঁদুরবোনা গ্রামে।
হ্যাম রেডিওর কর্তৃপক্ষের দাবি, দীপালির ইঙ্গিত মতো চেন্নাইয়ের হোম কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিস্তর খোঁজ চলে। কিন্তু তাঁর পরিবারের হদিশ মেলেনি। গাজোলে ওই মহিলার পরিবারের খোঁজ পাওয়ার পর নথিপত্র, ছবি খতিয়ে দেখা হয়। এর পর ভিডিয়ো কলে হারিয়ে যাওয়া মেয়ের সঙ্গে মায়ের কথা বলানো হয়। মাকে দেখে মেয়ে প্রথমে চিনতে না পারলেও পরে চিনতে পেরেছেন। দিপালীকে পরিবারের কাছে শীঘ্রই ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় জুগলি টেলিফোনে বলেন, মেয়েকে কোনোদিন ফিরে পাব ভাবিনি। হ্যাম রেডিও খুঁজে দিল। ওদের ধন্যবাদ। হারিয়ে যাওয়ার পর থেকে জামাই খুঁজেই চলেছে মেয়েকে। এখন দিল্লিতে আছে সে। জামাই ফিরলেই চেন্নাইয়ে মেয়েকে আনতে যাব।