নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: প্রায় দু’বছর ধরে হাসপাতালের ৫২৭ নম্বর শয্যাটাই তাঁর ঠিকানা। বৃদ্ধা করুণা দাস ছেলের পথ চেয়ে বসে থাকেন। ছেলে আর নিতে আসে না।
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: প্রায় দু’বছর ধরে হাসপাতালের ৫২৭ নম্বর শয্যাটাই তাঁর ঠিকানা। বৃদ্ধা করুণা দাস ছেলের পথ চেয়ে বসে থাকেন। ছেলে আর নিতে আসে না।
বয়সের কারণে স্মৃতিভ্রংশ হয়েছে। ঠিকানা ভুলেছেন। ছেলের ফোন নম্বরও মনে নেই। ফলে সুস্থ হয়েও বাড়ি ফিরতে পারছিলেন না। অন্যদিকে তাঁর ছেলের গুণও কম নয়। মায়ের কোমর ভেঙে যাওয়ার পর ছেলে গোপাল দাস নিজের পরিচয় গোপন রেখে এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে অন্য নামে মা’কে ভর্তি করে বেপাত্তা হয়ে যান। ফলে হাসপাতালও ছেলের খোঁজ পায়নি। এতদিন বাদে অবশেষে মঙ্গলবার ছুটি হল করুণা দাসের। হ্যাম রেডিও তাঁর ছেলেকে খুঁজে বের করে। আনা হয় হাসপাতালে। তারপর বৃদ্ধা মা’কে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন পুত্র। সুভাষগ্রামে বাড়ি করুণাদেবীর।
হ্যাম রেডিওর কর্তা অম্বরীশ নাগ বিশ্বাস জানান, মা’কে হাসপাতালে ভর্তি করার পর আর দেখতেও যায়নি ছেলে। মায়ের খরচ নাকি বইতে পারবেন না। তাই আনতেও যাননি। এমনই সাফাই দিয়েছেন গোপাল। অন্যদিকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করুণাদেবীকে বাড়ি পাঠানোর জন্য উদ্যোগ নেয়। তাঁকে ভর্তি করার সময় যে ফর্ম পূরণ করা হয়েছিল তাতে একটি নাম ও ফোন নম্বর ছিল। সেটিতে যোগাযোগ করে কোনও লাভ হয়নি। কারণ ফর্মে থাকা তথ্যে করুণাদেবীর ছেলের ঠিকানা, ফোন ছিল না। এরপর পুলিশের কাছে যায় হাসপাতাল। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বৃদ্ধার সঙ্গে তাঁর ছেলের ছবি বের করে খোঁজা শুরু করে পুলিশ। কিন্তু তাতে খুব এখটা লাভ হয়নি। অবশেষে খবর যায় হ্যাম রেডিও’র কাছে। তারা বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে ও নিজেদের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে সুভাষগ্রামে গোপালের বাড়ির সন্ধান পায়। এরপর তাঁকে একপ্রকার ধমক দিয়ে মা’কে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। ছেলে বাধ্য হয়েই আসেন। হাসপাতাল থেকে এদিন বিকেলে বাড়ি নিয়ে যান বৃদ্ধা মা’কে।