নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ব্লক থেকে গ্রামস্তর পর্যন্ত কর্মী-আধিকারিকের অভাবে ধুঁকছে বাঁকুড়ার সুসংহত শিশু বিকাশ(আইসিডিএস) প্রকল্প। অবিলম্বে নিয়োগ না হলে মা ও শিশুদের সামগ্রিক পরিষেবা প্রদানে বিঘ্ন ঘটবে বলে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা আশঙ্কা করছেন। যদিও এব্যাপারে তাঁরা সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। এক আধিকারিক বলেন, আদালতের মামলার জেরে একসময় কর্মী ও সহায়িকা নিয়োগ থমকে যায়। সেটা কী পরিস্থিতিতে রয়েছে, তা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। সুপারভাইজার বা সিডিপিও নিয়োগের বিষয়টি সরাসরি রাজ্য সরকার তদারকি করে। ফলে ওই ব্যাপারে আমাদের কোনও হাত নেই। শূন্যপদের তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, লোকবল কম থাকলেও পরিষেবায় কোনও প্রভাব পড়তে দেওয়া হচ্ছে না। অতি অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সংখ্যা গত এক বছরে জেলায় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। মিড ডে মিলের পাশাপাশি শিশুদের পঠনপাঠনও সমানতালে চলছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ায় বর্তমানে ৫৭৩৯টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। ওইসব অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে প্রায় দু’লক্ষ ৭৫ হাজার শিশুর নাম নথিভুক্ত রয়েছে। শিশুর পাশাপাশি অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসূতি মায়েরাও পরিষেবা পেয়ে থাকেন। ফলে মা ও শিশুর সামগ্রিক পুষ্টির ক্ষেত্রে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ভূমিকা রয়েছে। আধিকারিকদের দাবি, বেবিফুড খাওয়া শিশুদের তুলনায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে মিড ডে মিল খাওয়া কচিকাঁচাদের পুষ্টির ঘাটতি কম বলে সম্প্রতি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে জঙ্গলমহলের অন্যতম জেলা বাঁকুড়ায় যে অপুষ্টি দূরীকরণ কর্মসূচি সফলভাবে রূপায়ণ হচ্ছে, তা ওই তথ্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কর্মী ও সহায়িকারা কার্যত আইসিডিএস প্রকল্পের মেরুদণ্ড। তৃণমূল স্তরে তাঁরাই প্রকল্প রূপায়নের দায়িত্বে থাকেন। বর্তমানে ওই দুই পদে জেলায় মোট ১১ হাজার ৪৭৮ জন থাকার কথা। সেখানে ১০ হাজারের কিছু বেশি মহিলা রয়েছেন। প্রায় ১৪০০টি শূন্যপদ পূরণের প্রয়োজন। কর্মী ঘাটতি থাকায় একজনকে একাধিক কেন্দ্র সামলাতে হচ্ছে। ফলে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে নিয়মিত পঠনপাঠন, মিড ডে মিল বিতরণ হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য সুপারভাইজার নিয়োগ করা হয়। জেলায় ২৫৭জন সুপারভাইজার থাকার কথা। বর্তমানে রয়েছেন মাত্র ১১০ জন। ব্লকস্তরে শিশু বিকাশ প্রকল্প আধিকারিকরা(সিডিপিও) সব দায়িত্ব সামলান। প্রকল্প রূপায়ণ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট উপরমহলে পাঠানো, সবকিছুর গুরুদায়িত্ব সিডিপিওদের উপরে ন্যস্ত থাকে। জেলার ২৩টি প্রকল্পে একজন করে সিডিপিও থাকার কথা। কিন্তু, ২৩ জনের পরিবর্তে রয়েছেন মাত্র ১০ জন। ফলে, গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে জেলায় অর্ধেকেরও বেশি আসন ফাঁকা পড়ে রয়েছে। অবিলম্বে ওই দুই পদে নিয়োগ না হলে প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রেও একজনকে একাধিক এলাকার দায়িত্ব দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। এভাবে বেশিদিন চলবে না বলেই জেলা প্রশাসনের কর্তারা মনে করছেন।