সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়া রিফাইনারি কনট্রাক্টর্স, সাপ্লায়ার্স, সুপারভাইজার্স, স্টাফ অ্যান্ড ওয়ার্কমেন অ্যাসোসিয়েশন এবারও বিগ বাজেটের বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করেছে। এই পুজো এবার ২৯তম বর্ষে পড়ল। শুধু কারখানার শ্রমিক কর্মচারী ও তাঁদের পরিবার নয়, হলদিয়ার আশপাশের শহর ও গ্রাম দুঃস্থদের মুখে হাসি ফোটাতে চেষ্টা করে এই পুজো কমিটি। বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে বস্তি থেকে গরিবের কুঁড়ে, অসুস্থ মানুষ, দুঃস্থ মেধাবী পড়ুয়া, অনাথ শিশু, হাসপাতালের রোগী সবার কাছে উপহার পৌঁছে দিয়ে প্রাক শারদোৎসবের শুভেচ্ছা বার্তা দেয় এই পুজো কমিটি।
হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে বিশ্বকর্মা পুজোয় সমাজসেবামূলক কর্মসূচিতে অন্য পুজো কমিটিগুলির চেয়ে অনেক এগিয়ে এই অ্যাসোসিয়েশন। হলদিয়ায় বিশ্বকর্মা পুজো দুর্গাপুজোর মতো চারদিনের। আইওসি কনট্রাক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন এবার তিনদিন ধরে নানা সামাজিক কর্মসূচি নিয়েছে। আইওসি রিফাইনারি কনট্রাক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন ও পুজো কমিটির সভাপতি মুকুল মাইতি, সম্পাদক নোটন মিশ্র বলেন, এবার পুজোর বাজেট গতবারের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এবছর বিশ্বকর্মা পুজোর বাজেট প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা। পুজোয় জাঁকজমক থাকলেও সমাজসেবার উপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য রক্তদান শিবির হয়েছে। বুধবার পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে দেউলপোতা অনাথ আশ্রমের পড়ুয়াদের নতুন জামাকাপড় ও মিষ্টি উপহার দেওয়া হয়েছে। ক্যান্সার রোগী সহ দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ২০ জনের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ৫০ জন খুদে পড়ুয়াকে শিক্ষা সামগ্রী ও দঃস্থ পড়ুয়াদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আজ, ১৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে প্রায় তিনশো রোগীর হাতে ফল বিতরণ করা হবে।
এদিন উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন হলদিয়া উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান জ্যোতির্ময় কর, বিধায়ক তাপসী মণ্ডল প্রমুখ। বিশ্বকর্মা পুজোর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এইচডিএর চেয়ারম্যান বলেন, হলদিয়ায় শিল্পবান্ধব পরিবেশ রয়েছে বলেই নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে আইওসি, পেট্রকেমের মতো সংস্থাগুলি। হলদিয়ার এইচপিএল লিঙ্ক রোডের পাশে নিকাশি ও দুর্গাচক থেকে মিৎসুবিশি পর্যন্ত কংক্রিট রোড তৈরিতে একগুচ্ছ উদ্যোগ নিয়েছে। পুজো কমিটির দুই সম্পাদক শম্ভুনাথ দাস ও শেখ মুস্তাক আলি বলেন, এবছর কেদারনাথ মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। দু’দিন সন্ধেয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবেন মুম্বইয়ের নামী শিল্পীরা। এবার বিশ্বকর্মা প্রতিমা গড়ছেন মহিষাদলের ইছাপুরের শিল্পী সুভাষ জানা ও কালীপদ জানা। রেশম সুতো ও চুমকি দিয়ে প্রতিমা তৈরি হয়েছে। গত ৩০ বছর এই পুজোর উপাচারের আয়োজন করছেন শ্রীমন্ত দাস। আটাত্তর বছর বয়সের ওই পুরোহিতকে সংবর্ধনা দিয়েছে পুজো কমিটি। -নিজস্ব চিত্র