Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উদ্বেগে হলদিয়া বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শিল্পমহল

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘটনায় উদ্বিগ্ন হলদিয়া বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শিল্পমহল।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উদ্বেগে হলদিয়া বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শিল্পমহল
  • ৫ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হলদিয়া: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘটনায় উদ্বিগ্ন হলদিয়া বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শিল্পমহল। যুদ্ধ পরিস্থিতি কোনদিকে গড়ায় সেদিকে ২৪ঘণ্টা নজরদারি চলছে শিল্পাঞ্চলে। এনিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে কেন্দ্রের নির্দেশিকা এসে পৌঁছেছে। কেন্দ্রের জাহাজমন্ত্রক ও বন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে হলদিয়ামুখী জাহাজগুলির অবস্থানের উপর নজর রাখছে। বুধবার একথা জানিয়েছে হলদিয়া বন্দর কর্তৃপক্ষ। হলদিয়ার আইওসি রিফাইনারি, হলদিয়া পেট্রকেম, ভারত পেট্রলিয়ামের মতো বড়ো শিল্পসংস্থাগুলি হলদিয়া বন্দরের মাধ্যমে ইরান সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে ক্রুড অয়েল, এলপিজি, ন্যাপথা প্রভৃতি পেট্ররাসায়নিক আমদানি করে। হলদিয়া বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে বন্দরের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন বা ৯০ লক্ষ টন লিকুইড কার্গো আমদানি করে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি শিল্প সংস্থা। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের পেট্ররাসায়নিক শিল্প সংস্থার পণ্য হলদিয়া বন্দরের মাধ্যমে সরবরাহ হয়। ইরান সহ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ঘটনায় শিল্প সংস্থাগুলির কাঁচামাল আমদানিতে কীধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েই জল্পনা তুঙ্গে।

Advertisement

এদিন বন্দরের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অম্বর জয়সীমা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির ঘটনায় এখনো বন্দরের পণ্য চলাচলে কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে, বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতি মুহূর্তে পরিস্থিতির বিশ্লেষণ ও নজরদারি করছে। কেন্দ্রের জাহাজমন্ত্রকের তরফেও এবিষয়ে সরাসরি নজর রাখা হচ্ছে। 
বন্দরের আধিকারিকরা বলেন, কেন্দ্র সমস্ত বন্দরকে নজরদারি ও তথ্য আদানপ্রদানের জন্য একটি ফরম্যাট পাঠিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল, গ্যাস বা অন্যান্য পেট্ররাসায়নিক বহনকারী জাহাজগুলির কোনটি কী অবস্থানে রয়েছে, বন্দরগুলিকে সেই তথ্য পাঠাতে হচ্ছে। কোন জাহাজ কোন বন্দরে আসছে, কী অবস্থায় রয়েছে, তাদের সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে যোগাযোগ চলছে। দোলের দিন ছুটির মধ্যেও মঙ্গলবার রাত ১০টায় এনিয়ে হলদিয়া বন্দরের আধিকারিকরা দীর্ঘ মিটিং করেন। বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের আধিকারিকরা বলেন, ইরানের হরমুজ প্রণালী থেকে হলদিয়া বন্দরে কোনো জাহাজ আসতে সাধারণত ৩০-৩৫ দিন সময় লাগে। যে জাহাজগুলি হলদিয়া আসছে, সেগুলি এখন মাঝপথে রয়েছে। সেগুলিকে ট্র্যাক করে নজরদারি করা হচ্ছে। আরও কিছুদিন পর যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট বোঝা যাবে।
বন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, হলদিয়া বন্দরের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করে ভারত পেট্রলিয়াম। পেট্রকেমের মূল কাঁচামাল ন্যাপথা মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। আইওসি রিফাইনারির ক্রুড অয়েল মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রথমে আসে পারাদীপ বন্দরে। সেখান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে হলদিয়ায় আসে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য শিল্পমহলে উদ্বেগ তৈরি হলেও এখনো প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলেনি।

সম্পর্কিত সংবাদ