Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাংসদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরেই কি বিজেপি ছাড়লেন তাপসী?

হলদিয়ায় শ্রমিক সংগঠন ইস্যুতে তমলুকের সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিলেন

সাংসদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরেই কি বিজেপি ছাড়লেন তাপসী?
  • ১১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: হলদিয়ায় শ্রমিক সংগঠন ইস্যুতে তমলুকের সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সেই দ্বন্দ্বে দলকে পাশে না পেয়ে অবশেষে বিজেপি ছাড়লেন হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডল। সোমবার আচমকাই তিনি কলকাতায় গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। তারপর থেকেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলাজুড়ে হলদিয়ার বিধায়ককে ঘিরে চর্চা তুঙ্গে। ২০২০সালে ১৯ডিসেম্বর তৎকালীন সিপিএম বিধায়ক মেদিনীপুরে বিজেপির সভায় অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।  ২০২১সালে ফের বিধানসভায় জয়ী হন। তিনি বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রীও। এদিন আচমকা তিনি দল পাল্টানোয় আদি বিজেপি গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব। তাঁদের নিশানায় দলবদলু শিবির। যোগ্যদের উপযুক্ত মর্যাদা না দেওয়ার খেসারত দিতে হচ্ছে বলে তোগ দাগছে আদি বিজেপি শিবির।

Advertisement

সম্প্রতি হলদিয়ায় বিজেপির নিয়ন্ত্রণে দু’টি শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে ব্যাপক ঠোকাঠুকি লাগছে। ভারতীয় মদজুর সঙ্ঘ(বিএমএস) বিজেপির নিয়ন্ত্রণে একটি পুরনো শ্রমিক সংগঠন। ২০২১সালের পর হলদিয়ার বিভিন্ন কারখানায় এই শ্রমিক সংগঠন কিছুটা শক্তি বাড়িয়েছে। যদিও বিএমএসের পাল্টা বিজেএমসি নামে আর একটি সংগঠন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ওই নতুন সংগঠন তৈরির নেপথ্যে তাপসী মণ্ডল এবং বিজেপির জেলা কোর কমিটির সদস্য শ্যামল মাইতির হাত রয়েছে বলে অনেকের দাবি। সম্প্রতি হলদিয়ায় বিএমএসের একটি সম্মেলনে উপস্থিত থেকে তমলুকের সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় শ্রমিকদের সতর্ক করে দেন। নতুন সংগঠনে গিয়ে নিজেরা প্রতারিত হবেন না বলে মন্তব্য করেন। 
সাংসদের ওই মন্তব্য মোটেও ভালোভাবে নেননি তাপসী মণ্ডল। তমলুকের সাংসদ হলদিয়া সম্পর্কে সেভাবে জানেন না বলে তাপসী মণ্ডল পাল্টা খোঁচা দেন। এই দ্বন্দ্বের মধ্যে ২০২৪সালে লোকসভা ভোটের সমর্থনে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম নিজের বাড়ির দেওয়াল থেকে মুছে দেন তাপসী মণ্ডল। তখন থেকেই দু’জনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চড়ছিল।
সাংসদ বনাম বিধায়কের এই লড়াইয়ে তাপসী মণ্ডল অবশ্য দলের নেতৃত্বকে পাশে পাননি। উল্টে মেচেদায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে সভায় তাঁকে সতর্ক করা হয়। এই মুহূর্তে দলের মধ্যে সাংগঠনিক নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে। জেলা সভানেত্রী হিসেবে তাঁর পদ খোয়া যেতে পারে বলে দলের মধ্যেই আলোচনা চলছিল। তারমধ্যেই আচমকা তাঁর দল বদলে অনেকেই হতবাক। তবে, এই ঘটনায় নব্য বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন আদি বিজেপি নেতারা। ভগবানপুর-২ব্লক এলাকার আদি বিজেপি নেতা অরিন্দম আদকের পোস্ট, ‘গিরগিটি রং বদলাবেই। এটা তার ধর্ম। নিজেদের দলে ভালো ব্যক্তিত্বের মানুষ থাকা সত্ত্বেও যারা এদের টিকিট দিয়েছিল তাদের ধিক্কার।’
তমলুক শহরের আর এক বিজেপি নেতা অঞ্জন প্রামাণিক ফেসবুকে দলবদলের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, যতদিন বিজেপি নেতৃত্ব অসৎ, সুবিধাভোগী নেতাদের কথা শুনে নিষ্ঠাবানদের দূরে সরিয়ে রাখবে, ততদিন এমন ঘটনা ঘটবে।’
জেলা বিজেপির সহ সভাপতি আনন্দময় অধিকারী বলেন, তাপসী মণ্ডল দলের জেলা সভানেত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেননি। নিমতৌড়িতে নতুন পার্টি অফিস তৈরি হবে। সেখানকার জমির দলিল তাঁর কাছে আছে। সেসব দিয়ে যাননি। পার্টির গাড়ি তাঁর জিম্মায় আছে। সেটিও ফেরত দেননি। পার্টি ছাড়ার আগে নৈতিকতার পরিচয় দেওয়া উচিত ছিল।
জেলা তৃণমূল সভাপতি অসিত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, হলদিয়ার বিধায়ককে নিয়ে আগামী দিনে শিল্পাঞ্চলে বিজেপি মোকাবিলা আরও সহজ হবে। আগামী দিনে শিল্পশহরে দল আরও শক্তিশালী হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ