Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

হাফিজ সইদের জঙ্গি সংগঠনের দেখভাল করছে ছেলে তালহা

হাফিজ সইদের জঙ্গি সংগঠনের দেখভাল করছে ছেলে তালহা
  • ৪ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-এ-তোইবার মাথায় বসে রয়েছে হাফিজ সইদই। তবে সন্ত্রাসবাদী এই সংগঠনের সমস্ত কাজকর্ম দেখাশোনা করছে তার ছেলে তালহা সইদ। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রে এমনই খবর মিলেছে। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে খতম করার শপথ নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। তারজন্য জঙ্গিদের নাম, মূল মাথা কারা, তাদের ভূমিকা, কোথায় সক্রিয়, সাংগঠনিক কাঠামো, অর্থ আসে কোথা থেকে, অন্যান্য সরঞ্জামই বা মেলে কোথায়, অনুপ্রবেশের জন্য কোন রুট ব্যবহার করে—এমন বহু প্রশ্নের উত্তর দরকার। এবার এই সংক্রান্ত সমস্ত জবাব একত্র করে একটি গোপন ডসিয়ার তৈরি করেছেন গোয়েন্দারা। সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালে মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী ছিল লস্করের অপারেশনাল কমান্ডার জাকিউর রহমান লাকভি। একবার তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। ২০২১ সালে লাকভিকে দোষী সাব্যস্ত ঘোষণা করে আদালত। ১৫ বছরের জেলও হয়। তা সত্ত্বেও জঙ্গিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে এই জঙ্গি। গোয়েন্দাদের ডোসিয়ারে নাম রয়েছে মুম্বই হামলার আর এক চক্রি সাজিদ মির ওরফে সইফুল্লা সাজিদ জুটের। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের রেডারে থাকা এই জঙ্গি লস্করের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়োগের দায়িত্বে রয়েছে। তালিকায় নাম রয়েছে লস্করের মিডিয়া প্রধান মহম্মদ ইয়াইয়া মুজাহিদেরও। গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে সমাজে শান্তি বিঘ্ন ঘটানোই তার কাজ। এছাড়া, জঙ্গি কার্যকলাপের জনা টাকা-পয়সা যোগানের দায়িত্বে রয়েছে হাজি মহম্মদ আশরফ। ছায়া সংগঠন জামাত উদ দাওয়ারকে ঢাল করেই অর্থের ব্যবস্থা করে সে। এখানেই শেষ নয়, আল কায়েদা সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার দায়িত্বে রয়েছে আরিফ কোয়াসমি। 

Advertisement

গোয়েন্দাদের ডোসিয়ার অনুযায়ী, জঙ্গি কার্যকলাপকে আড়াল করে বেশ কিছু সামাজিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালও চালায় লস্কর। সবটাই চলে হাফিজের নেতৃত্বাধীন জামাত-উদ-দাওয়ার মাধ্যমে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচতে ‘দ্য ফালহা-ই-ইনসানিয়াত ফউেন্ডেশন নামেও সংস্থা তৈরি করে রেখেছে এই পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন। রয়েছে রাজনৈতিক ফ্রন্ট মিল্লি মুসলিম লিগও।  কিন্ত, এই কিছু করার জন্য অর্থ আসে কোথা থেকে? ডোসিয়ারে তারও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন গোয়েন্দারা। তাঁরা জানিয়েছেন, জামাত-এ-ইসলামি হাওলা র‌্যাকেটের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে অর্থের জোগান দেয়। অনুপ্রবেশ, নাশকতা, জঙ্গিদের অস্ত্র ও সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া, স্লিপার সেলের হাতে টাকা পৌঁছে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট পথ চিহ্নিত করেছে গোয়েন্দারা। এক্ষেত্রে মাদক সন্ত্রাসও তাঁদের নজরে রয়েছে। এই সমস্ত রাস্তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে তৎপর নয়াদিল্লি।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ