সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: বড়ো ম্যাচে চমকপ্রদ পরিসংখ্যান কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের। অতীতে মর্যাদার ডার্বিতে মোহন বাগানের ডাগ-আউটে পাঁচবার দেখা গিয়েছিল এই অভিজ্ঞ স্প্যানিশ কোচকে। তার মধ্যে তিনবার শেষ হাসি হেসেছেন তিনি। অপর দু’টি ড্র। তবে শিবির বদলে হাবাস এখন ইস্ট বেঙ্গলের সারথি। আসন্ন ডুরান্ড কাপ ডার্বি দিয়েই লাল-হলুদ হেড কোচের পদে অভিষেক ঘটবে তাঁর। আর শুরুতেই প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে বড়ো ম্যাচে অতীতের অপরাজেয় দৌড় বজায় রাখাই চ্যালেঞ্জ হাবাসের সামনে। সেই লক্ষ্যেই রাজারহাট নিউটাউন সেন্টার অব এক্সেলেন্সে মহড়ায় মগ্ন লাল-হলুদ স্প্যানিশ কোচ।
মর্যাদার লড়াইয়ের আগে অবশ্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ পাচ্ছে না দুই প্রধান। দু’দিন আগেই দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন হাবাস। বুধবার ভোররাতে শহরে পা রাখেন নবাগত বিদেশি ডানি রামিরেজ। আর বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতায় চলে এলেন ইস্ট বেঙ্গলের আইএসএল জয়ের অন্যতম নায়ক মহম্মদ রশিদ। উল্লেখ্য, গতবারের স্কোয়াড থেকে বিদেশি হিসেবে একমাত্র এই প্যালেস্তাইন মিডিওকে ধরে রাখতে সক্ষম ক্লাব কর্তারা। তাই দ্রুত দলের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। আর শহরে পা রেখেই সন্ধ্যায় দলের সঙ্গে অনুশীলনে নেমে পড়লেন রশিদ।
ডার্বির প্রস্তুতিতে মাত্র দু’জন হিসেবে হাতে পাচ্ছেন হাবাস। তবে রামিরেজ বা রশিদ, কেউই ম্যাচ ফিট নন। তাই কোনোরকম ঝুঁকি না নিয়ে অল ইন্ডিয়ান স্কোয়াড নিয়েই বড়ো ম্যাচে দল সাজানোর ভাবনার হাবাস। অনুশীলনেও তারই ইঙ্গিত মিলল। মূলত রক্ষণ সামলে আক্রমণে পথে হাঁটাই লক্ষ্য হাবাসের। ডিফেন্সে আনোয়ারের সঙ্গে জুটি বাঁধবেন সন্দীপ মান্ডি। উইং-ব্যাকে লালচুংনুঙ্গা ও জয় গুপ্তা। জোড়া ডিফেন্সিভ ব্লকার পজিশনে জিকসন আর রোহিত কুমার। উইংয়ে বিপিন আর রোহিত দানু। অ্যাটাকিং মিডিও হিসেবে শুরু করবেন এডমুন্ড। আর সামনে একা ডেভিড। প্রয়োজনে দ্বিতীয়ার্ধে রামিরেজকে ব্যবহার করতে পারেন লাল-হলুদ কোচ। তবে রশিদকে নিয়ে শুক্রবার অনুশীলনের পর সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। রশিদ নিজেও জানিয়েদিলেন, দীর্ঘ বিমানযাত্রার ফলে অনেকটাই ক্লান্তি। বৃহস্পতিবার অনুশীলন শেষে তিনি বলেন, ‘৩২ ঘণ্টার যাত্রা করে কলকাতায় এসেছি। এখনও শুরু থেকে খেলার অবস্থায় নেই। তবে কোচ চাইলে মাঠে নামবো। নতুন কোচের অধীনে অভিযান শুরু করছি আমরা। ডার্বিতে ভালো ফল করাই লক্ষ্য।’