Bartaman Logo
১ অক্টোবর, ২০২৬

ব্যাকফুটে জ্ঞানেশ! ফিরছে পুরানো ফর্ম-৬,দুই কমিশনারের আপত্তি ফাঁস ও ককরোচ-বিরোধীদের চাপে নতিস্বীকার

অভিযোগ তুলেছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার। এসআইআরের সময় ‘ফর্ম ৬’-এ বদল আনাকে সরাসরি ‘বেআইনি’ বলে তোপও দেগেছিলেন

ব্যাকফুটে জ্ঞানেশ! ফিরছে পুরানো ফর্ম-৬,দুই কমিশনারের আপত্তি ফাঁস ও ককরোচ-বিরোধীদের চাপে নতিস্বীকার
  • ১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: অভিযোগ তুলেছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার। এসআইআরের সময় ‘ফর্ম ৬’-এ বদল আনাকে সরাসরি ‘বেআইনি’ বলে তোপও দেগেছিলেন। তা নিয়েই দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফা দাবিতে ময়দানে নেমে পড়েছে বিরোধীরা, এমনকি ককরোচ জনতা পার্টিও। ঘরে-বাইরে এমন প্রবল চাপের মুখে অবশেষে ব্যাকফুটে জ্ঞানেশ কুমার! ভোটার তালিকায় নাম তোলার ‘ফর্ম ৬’ ফের আগের চেহারায় ফেরানো হল। পশ্চিমবঙ্গ সহ যে ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, সেখানে আবার পুরানো ‘ফর্ম ৬’ প্রযোজ্য হচ্ছে। ফলে এই রাজ্যগুলিতে আর নিকটাত্মীয়ের পূর্বের এসআইআর সংক্রান্ত অতিরিক্ত তথ্যের ‘স্বঘোষণা’ দিতে হবে না ভাবী ভোটারদের। তবে যে রাজ্যগুলিতে এসআরআর প্রক্রিয়া শেষ হয়নি, সেখানে ওই ‘সেল্ফ ডিক্লারেশন’ বহাল রাখা হয়েছে। এক সর্বভারতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তদন্তমূলক প্রতিবেদনের জেরে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হওয়ায় গত শনিবার বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। তারপরই এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বিহার এসআইআর সংক্রান্ত রায়ে খোদ সুপ্রিম কোর্টও এই ঘোষণাপত্রটিকে বহাল রেখেছিল। এসআইআর ছাড়া অন্য সময় পুরানো ‘ফর্ম ৬’ বহাল থাকবে। সেই মতোই এবার পদক্ষেপ করল কমিশন। তবে, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ সহ একের পর এক রাজ্যে বহুদিন আগে এসআইআর শেষ হয়েছে। ফলে ‘ফর্ম ৬’ নিয়ে এত দেরিতে কেন ‘ঘুম ভাঙল’ কমিশনের? সেই প্রশ্ন উঠছে।   

Advertisement

ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই ফর্ম ৬-এ বদল নিয়ে প্রথমে আপত্তি জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনার বিবেক যোশি। তাঁর যুক্তি ছিল, ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধির সংশোধন ছাড়া কমিশন তা বদলাতে পারে না। অপর নির্বাচন কমিশনার সান্ধুও সেই মতকে সমর্থন করেছিলেন। ইসিআইনেট-এ অনলাইন ‘ফর্ম ৬’ প্রক্রিয়ায় এসআইআর লিঙ্ক সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র সংযুক্ত হওয়ার পর তিনি ওই বদলকে ‘অনুমোদনহীন ও বেআইনি’ বলে উল্লেখ করেন। এই নয়া নিয়ম খারিজের দাবি তুলেছিলেন দু’জনে। তা সত্ত্বেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশন ‘ফর্ম ৬’-এ অতিরিক্ত ডিক্লারেশন যুক্ত করে দেয়। আগের এসআইআরে ভাবী ভোটারের বাবা-মা, দাদু-দিদা বা ঠাকুমার নাম ছিল কি না, সেই তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। অবশেষে বিতর্কে জেরে এসআইআর শেষ হওয়া রাজ্যগুলিতে ইসিআইনেট অ্যাপ ও পোর্টালে সেই অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধিতে শুধুমাত্র আগের চেহারার ‘ফর্ম ৬’ পূরণ করলেই চলবে। তবে এসআইআর জারি থাকা রাজ্যগুলিতে এখনও ‘স্বঘোষণা’র বাড়তি ফর্ম পূরণ করতে হবে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ