“নাম জপ করার জন্য গুণবান হওয়া অনিবার্য।”
গুরুর শব্দের সাহায্যে যে অন্তর থেকে অহংভাবের বিনাশ ঘটায়, সৎগুরুর সেবা করে এবং হৃদয়ে তিলমাত্র তমোগুণ রাখে না নির্ভয় দাতা তার মনে সর্বদা বাস করেন। কিন্তু কোন বিরল ভাগ্যবান পুরুষই সত্য বাণী লাভ করে।
হে প্রিয়! সমস্ত গুণকে একত্র করো যাতে অন্তর থেকে সমস্ত অবগুণ চলে যায়। এর ফলে তুমি পূর্ণ গুরুর শব্দের দ্বারা প্রভুতে লীন হয়ে যাবে। যে বহু গুণের গ্রাহক হয়, সে বহু গুণের মহিমা বর্ণনা করতে জানে। সে অমৃতসম গুরুর শব্দ অবলম্বন কোরে নামের বর্ণনা করে। সে সত্য বাণী দ্বারা পবিত্র হয়। কিন্তু গুণ থাকলে তবেই নাম লাভ করা যায়। অমূল্য গুণ লাভ করা যায় না। তবে যার মন নির্মল, সে সত্য শব্দতে লীন হয়। সে ভাগ্যবান যে নামের ধ্যান করেছে এবং গুণদাতা পরমেশ্বরকে চিরতরে মনে ঠাঁই দিয়েছে। যে গুণসমূহ সংগ্রহ করে তার জন্য আমি আত্মহারা হই কারণ সে সত্যস্বরূপ পরমাত্মার দ্বারে গুণগান করে। সে গৌরবান্বিত হয় হে নানক! তার মূল্য বর্ণনা করা যায় না।
“সৎগুরুর অপার মহিমা।”
সৎগুরুর বড়ই মহিমা, তিনি চিরবিচ্ছিন্ন জীবকেও পরমাত্মার সঙ্গে পুনরায় মিলিত করতে পারেন। যখন প্রভু নিজেই আসেন, তখন তিনি সৎগুরুর সঙ্গে মিলিত কোরে নিজের সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি নিজের মূল্য নিজেই পান। হরির মূল্য কি উপায়ে পাওয়া যায়? হরি অপরম্পার, অগম্য ও অগোচর। কিন্তু কোন বিরল ব্যক্তি গুরুর শব্দের দ্বারা হরির সঙ্গে মিলিত হয়। কোন বিরল গুরুমুখই তাঁর মূল্য জানে। কোন বিরল ব্যক্তি পরমেশ্বরের কৃপা লাভ করে। উচ্চ স্তরের বাণীর জন্য জীব উচ্চাসন পায়। কোন বিরল গুরুমুখই গুরুর শব্দের মাধ্যমে তাঁর বর্ণনা করে।
নাম বিনা শরীরে দুঃখ ও যন্ত্রণা বিরাজ করে। সৎগুরুর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে সব ব্যাধি দূর হয়। গুরু লাভ না হলে জীবকে দুঃখ পেতে হয়। উন্মুখ জীব বহু সাজা পায়। হরির নাম মধুর ও অত্যন্ত রসপূর্ণ। যে এই নাম পান করে সে অন্যদেরও পান করায়। কিন্তু গুরুর কৃপাতে এর প্রাপ্তি হয়। হে নানক! নামেতে অনুরক্ত হলে তবেই মুক্তি লাভ হয়।
“অনুরাগী জীবই হরির দরবারে শোভা পায়।”
আমার প্রভু সত্য, গভীর ও গস্কীর। ‘তাঁর’ সেবা করলেই শরীরে সুখ ও শান্তি আসে। গুরুর শব্দের দ্বারা বহু জীব সগৌরবে তরে যায়। ‘তাঁর’ চরণে আমরা সর্বদা আনত হই।


