Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গুরু কৃপাহি কেবলম! বিরাটের জার্সি নম্বরের সঙ্গে প্রাপ্ত নম্বরের মিল, আত্মহারা ইডেন চমকানো সেই কিশোর

গুরু কৃপাহি কেবলম! বিরাটের জার্সি নম্বরের সঙ্গে প্রাপ্ত নম্বরের মিল, আত্মহারা ইডেন চমকানো সেই কিশোর
  • ৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: জামালপুরের কালাপাহাড় গ্রামের ঋতুপর্ণ পাখিরা। সদ্য উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ। প্রাপ্ত নম্বর ৩১৮ নম্বর। আপাত দৃষ্টিতে এই নম্বর কিছুই না। ৮০ শতাংশ পাওয়া এখন জলভাত। কিন্তু ঋতুপর্ণর কাছে নম্বরটি গুরুত্ব অপরিসীম। মার্কশিট পেতেই তাঁর মুখে যেন যুদ্ধজয়ের হাসি। উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা তিনি। কারণ একটাই—নম্বরের শেষ দু’টি সংখ্যার সঙ্গে ঋতুপর্ণর আরাধ্য গুরু বিরাট কোহলির জার্সির নম্বরের মিল। সেটা ১৮। অনেকটা কাকতালীয়। আর তাতেই আত্মহারা। জনে জনে ডেকে ঋতুপর্ণ বলছেন, ‘রাজ্যে প্রথম হলেও আমার এতবেশি আনন্দ হতো না। নিজেকে সবার সেরা মনে হচ্ছে। এই নম্বর আগামী দিনে যাতে কেউ না পায়, সেই প্রার্থনাই করব। এটা আমার গুরুর আর্শীবাদ। তা না হলে এমন মিরাক্কেল হয় নাকি।’

Advertisement

‘মিরাক্কেল’-এর রহস্য ভেদ করতে হলে ফিরে যেতে হবে কলকাতার ইডেন ময়দানে। কেকেআর বনাম আরসিবি’র ম্যাচ চলছে। চোখের পলকে ব্যারিকেড টপকে মাঠে ঢুকে পড়ে এক কিশোর। রুদ্ধশ্বাসে ছুটছে সে। পাকড়াও করতে নাভিশ্বাস উঠছে নিরাপত্তারক্ষীদের। সব কিছু উপেক্ষা করেই সেই কিশোর পৌঁছে যায় বিরাট কোহলির কাছে। প্রথমে জড়িয়ে ধরা।  পরে সষ্টাঙ্গে প্রণাম। ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে পুলিস তাকে পাকড়াও করে। তবে, আফসোস  ছিল না ওই কিশোরের। বরং বুক ফুলিয়ে বলেছিল, ‘আমার জেলে যেতে আপত্তি নেই। আমার স্বপ্নপূরণ হয়ে গিয়েছে।’ সেই কিশোরই ঋতুপর্ণ পাখিরা। উচ্চ মাধ্যমিকে ৩১৮ পেয়ে বলছেন, ‘এটা আমার দ্বিতীয় স্বপ্নপূরণ। আমার ক্রিকেট গুরুর কৃপা। ১৮ সংখ্যা আমার জীবনের সঙ্গেও যোগ হয়ে গেল। এটাও আমার বড় প্রাপ্তি।
ছেলের ফলাফলে খুশি তাঁর পরিবার। বাবা মহাদেব পাখিরা বলেন, ‘ছেলে কেমন ফল করবে, তা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। দিনের বেশির ভাগ সময় ও খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। তারপরও প্রথম বিভাগে পাশ করেছে। এটা আমার কাছে বড় বিষয়। এখন ও আরও বেশি খেলাধুলায় মন দিলেও আর আপত্তি থাকবে না। ও কলেজে ভর্তি হবে। ওর প্রধান লক্ষ্য অবশ্য খেলাধূলা।’ বাড়ির লোকজনও বলছিলেন, ‘নিরাপত্তার বেষ্টনী টপকে মাঠে ঢুকে পড়ায় ঋতুপর্ণকে জেলেও যেতে হয়েছিল। তবে দমানো যায়নি। জামিনে মুক্ত হয়েই খেলায় মন দেয়। সঙ্গে পড়াশোনাও। স্কুলে নিয়মিত যেত। সুযোগ পেলেই ব্যাট বল হাতে মাঠে চলে যেত।’ 
ঋতুপর্ণ বলছেন, সুযোগ পেলে আবার বিরাট কোহলির সঙ্গে দেখা করব। আফটার অল উনি আমার ক্রিকেটের গুরু। সেদিন আমার মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করেছিলেন। আবারও আশীর্বাদ নিতে যাব। তবে, নিরাপত্তা বলয় টপকে নয়। আঠারো নম্বরের জোরে।’ আত্মবিশ্বাসী ঋতুপর্ণ। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ