হিসর: আর্মান্দো কোলাসো হাসছেন। বিমল ঘোষের চোখে তৃপ্তির ঝলক। হবে না’ই বা কেন? দেশের পোড়খাওয়া দুই ফুটবল ব্যক্তিত্বের চাপাচাপিতে খালিদ জামিলকে কোচের পদে নিয়োগ করে ফেডারেশন। কাফা নেশনস কাপের প্রথম ম্যাচেই বাঘের মুখে খালিদ-ব্রিগেড। তাজিকিস্তানের ঘরের মাঠে বুক চিতিয়ে লড়ল ব্লু টাইগার্স। জয় মিলল ২-১ গোলে। বিদেশি কোচের জমানায় এই লড়াইটাই ছিল না।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের(১৩৩) চেয়ে এগিয়ে তাজিকিস্তান (১০৬)। শক্তিশালী বিপক্ষের বিরুদ্ধে আল্ট্রা-ডিফেন্সিভ ফর্মেশনে দল সাজান খালিদ। সিঙ্গল স্ট্রাইকার ইরফানকে সামনে রেখে ফানেলের মতো গুটিয়ে রাখলেন রক্ষণ। এদিন হিসরের সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে শুরুতেই চমকে দেয় ভারত। বাঁ প্রান্ত থেকে লম্বা থ্রো করেছিলেন মহম্মদ উভেস। জটলা থেকে আনোয়ারের হেড প্রতিপক্ষ ফুটবলারের পায়ে লেগে গোলে ঢোকে (১-০)। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে থাকা ভারতের কাছে এই গোল অক্সিজেনের শামিল।১৩ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান সন্দেশ ঝিংগান। এক্ষেত্রে আনোয়ারের সেন্টারে হেড করেছিলেন রাহুল ভেকে। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক তা আংশিক প্রতিহত করলে ফিরতি বলে জাল কাঁপান সন্দেশ (২-০)। দু’গোলের লিড নিয়ে বেশ রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে খালিদের দল। ফলে বিনা বাধায় অনায়াসে ডিফেন্সিভ থার্ডে উঠে আসছিলেন তাজিকিস্তান ফুটবলাররা। ২৬ মিনিটে ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢুকে পড়েন শারম শামিয়েভ। তাঁকে কভার করতে ব্যর্থ হন সন্দেশ। গোল হজম করে ভুলের মাশুল দিতে হয় (২-১)। টুর্নামেন্টের আগে বেঙ্গালুরুতে ১০ দিনের আবাসিক শিবির করেন খালিদ। নতুন কোচের পক্ষে তা পর্যাপ্ত সময় নয়। তার উপর জাতীয় দলের জন্য ফুটবলার ছাড়েনি মোহন বাগান। লিস্টনদের অভাব বোঝা গেল বারবার।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একইসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন খালিদ। ক্লান্ত সুরেশ, জিকসন ও ছাংতের পরিবর্তে নিখিল প্রভু, দানিশ ফারুখ ও নাওরেম মহেশকে মাঠে নামান মুম্বইকর। ৭০ মিনিটে বিতর্কিত পেনাল্টি পায় তাজিকিস্তান। রুস্তমের স্পটকিক রুখে ম্যাচ বাঁচালেন গুরপ্রীত। জাতীয় দলের মতো তাঁর প্রত্যাবর্তনও স্মরণীয় হয়ে রইল। এদিকে, অন্য ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৩-১ গোলে পরাস্ত করে ইরান।
ভারত: গুরপ্রীত, ভেকে, আনোয়ার, সন্দেশ, উভেশ, সুরেশ (নিখিল), জিকসন (দানিশ), ছাংতে (মহেশ), আশিক (রোশন), ইরফান (চিঙ্গলসানা)ও বিক্রমপ্রতাপ (বরিস)।



