Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্রেফ ৩ দাওয়াইয়ে গঙ্গায় তলিয়ে মৃত্যু রুখে নজির গুপ্তিপাড়া ১ পঞ্চায়েতের

গঙ্গার পাড়ে তৈরি হয়েছে রেলিং। বসানো হয়েছে একগুচ্ছ সিসি ক্যামেরা। এখানেই শেষ নয়, একজন কর্মীকেও রাখা হয়েছে এসব নজরদারির জন্য।

স্রেফ ৩ দাওয়াইয়ে গঙ্গায় তলিয়ে মৃত্যু রুখে নজির গুপ্তিপাড়া ১ পঞ্চায়েতের
  • ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: গঙ্গার পাড়ে তৈরি হয়েছে রেলিং। বসানো হয়েছে একগুচ্ছ সিসি ক্যামেরা। এখানেই শেষ নয়, একজন কর্মীকেও রাখা হয়েছে এসব নজরদারির জন্য। এই তিন বাঁধনেই গুপ্তিপাড়ায় গঙ্গার ঘাটে জলে তলিয়ে মৃত্যুর ঘটনা রুখে দিয়েছে গুপ্তিপাড়া ১ নম্বর পঞ্চায়েত। পঞ্চায়েতের পরিসংখ্যান, তিন বছর আগেও গুপ্তিপাড়া ঘাটে প্রায়ই গঙ্গায় তলিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটত। কিন্তু গত তিন বছরে এমন ঘটনা একটিও ঘটেনি। হুগলি জেলার বিস্তীর্ণ গঙ্গাপাড়ে সাম্প্রতিক সময়ে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে আকচার ঘটছে। সেখানেই ব্যতিক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে গুপ্তিপাড়া ঘাট।

Advertisement

গোটা পরিকল্পনার শুরু প্রায় চার বছর আগে। লাগাতার জলে ডুবে মৃত্যু মিছিল তৈরি হওয়ায় আতঙ্কের ভিন্ন নাম হয়ে উঠেছিল বলাগড়ের গুপ্তিপাড়া ঘাট। তখনই পঞ্চায়েতের তদানীন্তন কর্তারা প্রাণহানি এড়াতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করেন। সেই সময় গুপ্তিপাড়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ছিলেন বিশ্বজিৎ নাগ। তিনি এখন পঞ্চায়েত সদস্য। বিশ্বজিৎবাবু বলেন, করোনা পর্বের আগে বিভীষিকার অন্য নাম ছিল গুপ্তিপাড়া ঘাট। কেউ না কেউ প্রায়ই গঙ্গায় তলিয়ে যেত। আমরা সমস্যাকে চিহ্নিত করে সমাধানের পরিকল্পনা করি। প্রথমে গুপ্তিপাড়া ঘাটের বিস্তীর্ণ এলাকা ঘিরে দেওয়া হয়। সঙ্গে সিসি ক্যামেরাও বসানো হয়। এসব দেখভালের জন্য রাখা হয় একজন কর্মী। পঞ্চায়েত ও পুলিসের পক্ষ থেকেও নিয়মিত নজরদারি চালানো হয়। এরপর গত তিন বছরে একটি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি। স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য তথা প্রাক্তন বিধায়ক অসীম মাঝি বলেন, গুপ্তিপাড়ার জনপ্রতিনিধিরা পরিকল্পনা করেই মৃত্যুর আতঙ্ককে সরাতে পেরেছেন। গোটা হুগলির জন্য গুপ্তিপাড়া ১ নম্বর পঞ্চায়েত মডেল হতে পারে। সাম্প্রতিককালে কোন্নগর ও উত্তরপাড়ায় গঙ্গায় তলিয়ে মৃত্যুর একাধিক ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস বলেন, গুপ্তিপাড়ার বিষয়টি জানা নেই। সব জায়গায় সব পদক্ষেপ করা যায় না। তবুও গুপ্তিপাড়া মডেল সম্পর্কে খোঁজখবর নেব।
শ্মশান ও জেটি মিলিয়েই গুপ্তিপাড়া ঘাট। সেখানে গঙ্গার পাড় লোহার রেলিং দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া গঙ্গায় নামা যায় না। যেখানে গঙ্গায় নামা যায়, সেখানে আছে সিসি ক্যামেরার নজরদারি। আর আছে বাঁশিওয়ালা পাহারাদার। জলে নেমে বিপদসীমা অতিক্রম করলেই বেজে ওঠে পাহারাদারের বাঁশি। রুখে দেওয়া যায় তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ