নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জাল লাইসেন্সের বিনিময়ে বন্দুক কিনে গানম্যানের চাকরি পাওয়ার ঘটনায় এবার লালবাজারের নজরে বেশ কয়েকটি বৈধ অস্ত্রের দোকান। নকল লাইসেন্স জমা করে এখান থেকে বন্দুকগুলি কেনা হয়েছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু ওই দোকানগুলি বন্দুক ইস্যু করার আগে লাইসেন্স জাল না আসল, তা যাচাই করতে লালবাজারে পাঠাল না কেন, তা তদন্ত করে দেখছেন অফিসাররা। একইসঙ্গে এই সমস্ত বিপণিতে নিরাপত্তা রক্ষী পদে কর্মরতদের একাংশ জাল লাইসেন্স তৈরির চক্রে জড়িত বলে জেনেছেন তাঁরা। তাঁদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া চলছে।
কলকাতার একটি নামী স্বর্ণ বিপণিতে কর্মরত তিন নিরাপত্তা রক্ষীকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। অভিযোগ, তারা জাল লাইসেন্স তৈরি করে বন্দুক কিনেছিল। এমনকী, ওই লাইসেন্স দেখিয়ে তারা গানম্যানের চাকরিও জোগাড় করেছিল। এই ঘটনায় ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। বাকিরা এখনও পলাতক। জানা যাচ্ছে, এই লাইসেন্স তৈরি হচ্ছে লালবাজার সংলগ্ন
বৈধ বন্দুকের দোকান থেকে। সেখানকার
কর্মীদের একাংশ জেলাশাসক ও পুলিস সুপারদের সই নকল করে বন্দুকের জাল লাইসেন্স তৈরি
করছে বলে অভিযোগ। এরপর ওই লাইসেন্স দেখিয়ে বন্দুক কেনা হয়েছে। এমনও দেখা গিয়েছে যে, একাধিক ব্যক্তি একই নম্বরের লাইসেন্স পেয়েছেন। ধৃত নিরাপত্তা রক্ষীরা তদন্তকারীদের জানিয়েছে, ওই দোকানের কর্মীরা লাইসেন্স পাইয়ে দেবে বলেছিল। এমনকী, লাইসেন্স দেবে বলে আরও লোকজনকে ডেকে আনতে বলেছিল আমাদের। বলা হয়েছিল, জেলাশাসক ও পুলিস সুপারদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় বন্দুকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলে সঙ্গে সঙ্গে অনুমোদন হয়ে যাবে।
এই সমস্ত দোকানে বিভিন্ন লাইসেন্সধারী বন্দুক বা কার্তুজ কিনতে আসেন। তারজন্য লাইসেন্সের ফটোকপি জমা রাখতে বলা হয়। বিভিন্ন জেলার লাইসেন্স দেখে তারা জেনে নিত, সংশ্লিষ্ট জেলার ডিএম বা এসপি কীভাবে সই করেন এবং কোন স্ট্যাম্প ব্যবহার করেন। একই ধরনের স্ট্যাম্প ব্যবহার করা হতো জাল লাইসেন্স তৈরিতে। এমনকী আসল লাইসেন্সধারীদের নম্বরই বসানো হয়েছে জাল লাইসেন্সে। এভাবে কত লাইসন্সে ইস্যু হয়েছে এবং কতগুলি বন্দুক বিক্রি করেছে দোকানগুলি সেই তথ্য জোগাড়ের কাজ চলছে।