নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দু’ বছর ধরে স্ত্রী আইনজীবী স্বামীর কাছে একটাই আব্দার করে যাচ্ছেন— ‘আইফোন চাই। নতুন মডেল বা লেটেস্ট মডেল দরকার নেই। শুধু রোজগোল্ড রঙের আইফোন হলেই চলবে।’ ত্রয়োদশ বিবাহ বার্ষিকীতে স্ত্রীর সেই আব্দার মেটান স্বামী। বউবাজারের একটি দোকান থেকে জিএসটি দিয়ে সেকেন্ড হ্যান্ড আইফোন কিনে আনেন তিনি। ফোনটি অন করার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই পুলিসের ফোন— ‘গুজরাত পুলিস বলছি, এই ফোনটি কোটি টাকা সাইবার প্রতারণায় জড়িত।’
এক লহমায় আইনজীবীর স্ত্রীর মুখের হাসি গায়েব। ফোন কিনে এ কোন বিড়ম্বনা! জেলের ঘানি টানতে হবে না তো? এমন অনেক প্রশ্ন সামনে আসায় মাথায় ওঠে বিবাহবার্ষিকীর সেলিব্রেশন। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে খাস কলকাতায়। বউবাজার থানা এলাকায় সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের কাছে অবস্থিত ওই দোকানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই আইনজীবী। ফোনটি ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করেছে গুজরাত পুলিস। প্রতারণায় যুক্ত আইফোন কীভাবে সেকেন্ড মার্কেটে জিএসটি সহ বিক্রি হয়ে গেল? তদন্তে নেমেছে বউবাজার থানা। দোকানের মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। কোথা থেকে ওই ফোন তিনি জোগাড় করেছেন? কে বা কোন সংস্থা ওই ফোন ডেলিভারি করেছে, তাও রয়েছে পুলিসের স্ক্যানারে। পুলিস সূত্রে খবর, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঘটনার সূত্রপাত। মোবাইলটি যখন কেনা হয়, তখন সেটি সিল-প্যাক বাক্সে ছিল। একেবারে হুবহু নতুনের মতো। রোজগোল্ড রঙের ফোনে কোথাও কোনও আঁচড় পর্যন্ত নেই। ঝকঝকে ক্যামেরা। ফোন হাতে পাওয়া মাত্রই স্বামীর সঙ্গে বিবাহবার্ষিকীর পার্টিতে একটি সেলফি তোলেন স্ত্রী। তাঁদের সল্টলেকের বাড়িতে চলছিল পার্টি। কলকাতার আইনজীবী গুজরাত পুলিসকে জানিয়েছেন, নতুন মোবাইলে কোনও সিমকার্ড ভরা হয়নি। বাড়িতে ফোন অন করতেই ‘অ্যাক্টিভ’ হয়ে যায় হ্যান্ডসেটের ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি বা আইএমইআই। সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ট পায় গুজরাত পুলিসের রাজকোট থানার সাইবার ক্রাইম বিভাগ। ফোন ব্যবহারকারী সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য নেন তদন্তকারীরা। ফোনটি চালু রাখার নির্দেশ দেন অফিসার। প্রাথমিকভাবে বিষয়টিতে আমল দেননি আইনজীবী। সম্প্রতি আইনজীবীর সল্টলেকের বাড়িতে আসেন রাজকোট থানার সাইবার বিভাগের তদন্তকারী আধিকারিক। সূত্রের দাবি, গুজরাতে দেড় কোটি টাকার একটি অনলাইন জালিয়াতিতে যুক্ত এই ফোনটি। কীভাবে যুক্ত? এই ফোন থেকেই যোগাযোগ করেছিল প্রতারক। সেই সূত্রে ফোনটি বাজেয়াপ্ত করে গুজরাত পুলিস। যদিও আইনজীবীর পরিচয় ও গোটা ঘটনাটি শুনে তাঁদের রেহাই দিয়েছেন তদন্তকারীরা।