শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মায়াপুর: দেশজুড়ে সর্বত্র যখন ধর্ম-রাজনীতি নিয়ে জিগির তোলা হচ্ছে, ঠিক তখন শ্রীচৈতন্যধাম নবদ্বীপে সর্বধর্ম সমন্বয়ের অনন্য নজির স্থাপন করে চলেছে ভারতী চতুষ্পাঠী সংস্কৃত মহাবিদ্যালয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীর পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীরাও এখানে সংস্কৃত ভাষা শিক্ষার জন্য আসছেন। রয়েছেন মুসলিম অধ্যাপিকাও।
Advertisement
সংস্কৃত পঠনপাঠনের আদর্শ পীঠস্থান হিসেবে খ্যাত এককালের ‘অক্সফোর্ড অফ বেঙ্গল’ নবদ্বীপ। এখানে সংস্কৃত চর্চা প্রাক-চৈতন্য যুগ থেকেই প্রচলিত। সেই প্রাচীন গৌরব আজকের নবদ্বীপে অবশ্য অনেকটাই ম্লান। হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় ১৯৯৪ সালে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত পণ্ডিত রাজেন্দ্রচন্দ্র তর্কতীর্থ নবদ্বীপের আমপুলিয়া পাড়ায় প্রতিষ্ঠা করেন ভারতী চতুষ্পাঠী সংস্কৃত মহাবিদ্যালয়।
অধ্যক্ষ গৌতম শতপথী বলেন, কর্ণাটকের শৃঙ্গেরীতে রাজীব গান্ধী ক্যাম্পাসের এক অধ্যাপকের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানতে পারি, ওখানকার মানুষ নবদ্বীপকে চেনেন সংস্কৃত শিক্ষার অন্যতম পীঠস্থান হিসেবেই। শুধু মহাপ্রভুকে নিয়েই আমরা নবদ্বীপবাসী মেতে আছি। কিন্তু তাঁর আগে থেকেই নবদ্বীপে সংস্কৃত শিক্ষার ধারা বয়ে চলেছে। সেই ধারা যে আজ সম্পূর্ণ লুপ্ত, নবদ্বীপবাসী হিসেবে তার জন্য আমাদের লজ্জিত হওয়া উচিত। বাংলায় নয় বরং দেবনাগরী হরফেই আমাদের মহাবিদ্যালয়ে সংস্কৃত শিক্ষা দেওয়া হয়।
ইংরেজির অধ্যাপক হিমঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, নবদ্বীপের গৌরব সংস্কৃত ভাষাচর্চা। ভারতী চতুষ্পাঠী সেই ঐতিহ্যকেই বাঁচিয়ে রেখেছে। গর্বের বিষয়, এখানে ছাত্রীদের সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় অনেকটাই বেশি, প্রায় ৬০ শতাংশ। তার মধ্যে বহু মুসলিম সম্প্রদায়ের ছাত্রী আছেন।
সারা দেশে যখন ধর্মীয় বিভাজন চরমে, তখন এখানে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ছাত্রছাত্রীরা গীতা, ভাগবত, বেদান্তের মতো হিন্দু ধর্মের প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থগুলি অধ্যয়ন করছেন। বিশেষত, মুসলিম পড়ুয়াদের উপস্থিতি এখানে এক বিশেষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মহাবিদ্যালয়ের প্রধান সহায়ক সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, প্রধানত পূর্ব বর্ধমান, মালদহ, সালার, ব্যান্ডেল, করিমপুর, বহরমপুর থেকে ছাত্রছাত্রীরা এখানে পড়তে আসেন। করোনার আগে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৬০০-এর উপরে। তবে মূলত এসএসসিতে নিয়োগ স্থগিত হয়ে যাওয়ায় পড়ুয়ার সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৮০জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ২০ শতাংশই সংখ্যালঘু।
মুসলিম সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীরা যথেষ্ট আগ্রহ নিয়ে বেদান্ত, গীতা অধ্যয়ন করছেন। কলেজেরই প্রাক্তনী কালনার শাবানা খাতুন গত এক বছর ধরে এখানেই অদ্বৈত বেদান্তের অধ্যাপিকা হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন।
কলেজের এমএ দ্বিতীয় বর্ষে পাঠরতা বহরমপুরের মাসুমা সরকার বলেন, আমি মুসলিম হলেও সংস্কৃত ভাষার প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই বিষয় নিয়ে স্নাতকোত্তর পড়তে আসা। নিচু ক্লাস থেকেই সংস্কৃত শ্লোকগুলো খুব ভালো লাগত। ভবিষ্যতে পিএইচডি করার ভীষণ ইচ্ছা আছে। আমার দিদি হাইস্কুলের সংস্কৃতের শিক্ষিকা ছিলেন। তিনিই আমাকে এই ভাষা নিয়ে পড়তে উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেন, সংস্কৃত, আরবি, হিন্দি বা ইংরাজি সবই তো ভাষামাত্র। অনেক হিন্দুও তো আরবি নিয়ে পড়েন।
অধ্যক্ষ গৌতম শতপথী বলেন, কর্ণাটকের শৃঙ্গেরীতে রাজীব গান্ধী ক্যাম্পাসের এক অধ্যাপকের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানতে পারি, ওখানকার মানুষ নবদ্বীপকে চেনেন সংস্কৃত শিক্ষার অন্যতম পীঠস্থান হিসেবেই। শুধু মহাপ্রভুকে নিয়েই আমরা নবদ্বীপবাসী মেতে আছি। কিন্তু তাঁর আগে থেকেই নবদ্বীপে সংস্কৃত শিক্ষার ধারা বয়ে চলেছে। সেই ধারা যে আজ সম্পূর্ণ লুপ্ত, নবদ্বীপবাসী হিসেবে তার জন্য আমাদের লজ্জিত হওয়া উচিত। বাংলায় নয় বরং দেবনাগরী হরফেই আমাদের মহাবিদ্যালয়ে সংস্কৃত শিক্ষা দেওয়া হয়।
ইংরেজির অধ্যাপক হিমঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, নবদ্বীপের গৌরব সংস্কৃত ভাষাচর্চা। ভারতী চতুষ্পাঠী সেই ঐতিহ্যকেই বাঁচিয়ে রেখেছে। গর্বের বিষয়, এখানে ছাত্রীদের সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় অনেকটাই বেশি, প্রায় ৬০ শতাংশ। তার মধ্যে বহু মুসলিম সম্প্রদায়ের ছাত্রী আছেন।
সারা দেশে যখন ধর্মীয় বিভাজন চরমে, তখন এখানে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ছাত্রছাত্রীরা গীতা, ভাগবত, বেদান্তের মতো হিন্দু ধর্মের প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থগুলি অধ্যয়ন করছেন। বিশেষত, মুসলিম পড়ুয়াদের উপস্থিতি এখানে এক বিশেষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মহাবিদ্যালয়ের প্রধান সহায়ক সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, প্রধানত পূর্ব বর্ধমান, মালদহ, সালার, ব্যান্ডেল, করিমপুর, বহরমপুর থেকে ছাত্রছাত্রীরা এখানে পড়তে আসেন। করোনার আগে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৬০০-এর উপরে। তবে মূলত এসএসসিতে নিয়োগ স্থগিত হয়ে যাওয়ায় পড়ুয়ার সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৮০জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ২০ শতাংশই সংখ্যালঘু।
মুসলিম সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীরা যথেষ্ট আগ্রহ নিয়ে বেদান্ত, গীতা অধ্যয়ন করছেন। কলেজেরই প্রাক্তনী কালনার শাবানা খাতুন গত এক বছর ধরে এখানেই অদ্বৈত বেদান্তের অধ্যাপিকা হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন।
কলেজের এমএ দ্বিতীয় বর্ষে পাঠরতা বহরমপুরের মাসুমা সরকার বলেন, আমি মুসলিম হলেও সংস্কৃত ভাষার প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই বিষয় নিয়ে স্নাতকোত্তর পড়তে আসা। নিচু ক্লাস থেকেই সংস্কৃত শ্লোকগুলো খুব ভালো লাগত। ভবিষ্যতে পিএইচডি করার ভীষণ ইচ্ছা আছে। আমার দিদি হাইস্কুলের সংস্কৃতের শিক্ষিকা ছিলেন। তিনিই আমাকে এই ভাষা নিয়ে পড়তে উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেন, সংস্কৃত, আরবি, হিন্দি বা ইংরাজি সবই তো ভাষামাত্র। অনেক হিন্দুও তো আরবি নিয়ে পড়েন।



