Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গতি নেই ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পের কাজে

গতি নেই ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পের কাজে
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: চলতি বছরের ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পের কাজ শেষের সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে। তবে এখনও নকশালবাড়ি ব্লকের একাধিক গ্রামে পানীয় জলের সংযোগই দিতে পারেনি পিএইচই। এতেই ক্ষোভ জমছে গ্রামবাসীদের মধ্যে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রতিনিধিদের এজন্য দায়ি করেছে বিরোধীরা। 
Advertisement
মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মন বলেন, কেন্দ্রের প্রকল্পের কাজটি রাজ্য সরকারের পিএইচই করছে। ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। রাজ্যে গতবছরের ডিসেম্বর মাসে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে তা না হওয়ায় বাড়িয়ে চলতি বছরের ২৪ ডিসেম্বর করা হয়েছে। কিন্তু এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে দেখছি, এখনও অধিকাংশ জায়গায় পরিষেবা চালু করতে পারেনি পিএইচই। এ নিয়ে বিধানসভায় ফের প্রশ্ন তুলব। 
পিএইচই’র কাছ থেকে কাজের বিবরণ জেনে এ বিষয়ে বলতে পারবেন বলে জানিয়েছেন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তৃণমূলের অরুণ ঘোষ। যদিও কাজের সময়সীমার কোনও বিষয় নেই বলে দাবি করেছেন পিএইচই’র শিলিগুড়ির অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার রাজু ভদ্র। তিনি বলেন, এলাকা ভিত্তিক কাজের সময়সীমা নির্ধারণ করা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্কিমের অধীনে ব্লকে ৩৪টি পানীয় জল প্রকল্পের কাজ রয়েছে। দু’টি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। এখনও চারটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। বাকিগুলির ক্ষেত্রে টিউবওয়েল ও পাইপ লাইনের কাজ চলছে। তাঁর সংযোজন, এই প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যেই ব্লকের ১০টি গ্রাম ‘সজল গ্রাম’ হিসেবে তকমা পেয়েছে। আরও দু’টি গ্রামকে এর মধ্যেই সজল গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করা হবে। 
শিলিগুড়ি মহকুমার চারটি ব্লকে ২২টি গ্রাম পঞ্চায়েত। মোট ৩৩২টি গ্রাম রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে কয়েকশো কোটি টাকার কাজ চলছে মহকুমাজুড়ে। চলতি মাসে কাজ শেষ করার কথা। তবে এখনও মহকুমার একাধিক গ্রাম ও চা বাগান এলাকার মানুষ বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের পরিষেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। প্রসঙ্গত, নকশালবাড়ির হাতিঘিষার কানু স্যানালের গ্রাম সেবদেল্লাজোতের বাসিন্দারা পানীয় জল না পাওয়ায় গতবছরের ডিসেম্বর মাসে হাইকোর্টে মামলা করেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ দেড়মাসের মধ্যে তাঁরা গ্রামে জল পান। পরে জল জীবন মিশন প্রকল্পের অধীনে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি সজল গ্রামের তকমা দেওয়া হয় গ্রামটিকে।  
সম্পর্কিত সংবাদ