Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গোষ্ঠীকোন্দল কমাতে মেদিনীপুরে অঞ্চল সম্মেলন শুরু করার পরিকল্পনা তৃণমূলের

গোষ্ঠীকোন্দল কমাতে মেদিনীপুরে অঞ্চল সম্মেলন শুরু করার পরিকল্পনা তৃণমূলের
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর : নতুন বছরের শুরু থেকেই ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এবার প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ‘অঞ্চল সম্মেলন’ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে অঞ্চল সম্মেলন শুরু হবে। মূলত গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গোষ্ঠী কোন্দলের পরিমাণ কমাতে ও সংগঠন আরও মজবুত করতেই সম্মেলন হবে বলে জানা গিয়েছে। প্রতিটি পঞ্চায়েত এলাকা ধরে সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা হবে সম্মেলনে। জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব জানাচ্ছে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে গ্রাম পঞ্চায়েতের উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরা হবে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে পঞ্চায়েত স্তরে নানা সমস্যার সমাধান করতেই এই উদ্যোগ। এছাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে প্রয়োজন অনুসারে সাংগঠনিক পরিবর্তন করার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। 
Advertisement
জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, আমাদের লক্ষ্য ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। এখন থেকেই দলের নেতা-কর্মীদের মাঠে ঝাঁপানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলার প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সম্মেলন হবেই। বিরোধীদের কোনও সুযোগ দেওয়া যাবে না। একইসঙ্গে দলের সঙ্গে যুক্ত কেউ অন্যায় কাজ করলে, তাকেও ছাড়া হবে না। 
প্রসঙ্গত, একসময় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা ছিল বামেদের শক্ত ঘাঁটি। সেই সময় মাওবাদী আন্দোলনের প্রভাবও পড়েছিল জেলাজুড়ে। যদিও ২০১১ সালে পর থেকে জেলাজুড়ে বামেদের ভোট ব্যাঙ্কে ধস নামতে শুরু করে। একইসঙ্গে তৃণমূলের উত্থান শুরু হয়। বর্তমানে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। এরফলে জঙ্গলমহলের এই জেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। তার প্রভাব পড়েছিল গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে। জানা গিয়েছে, পঞ্চায়েত নির্বাচনে জঙ্গলমহলের এই জেলায় বেশ চমকপ্রদ ফল করে তৃণমূল। এই জেলা থেকে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় বিরোধীরা। জেলা পরিষদ থেকে পঞ্চায়েত সমিতি, এমনকী গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে সর্বত্র দাগ কাটতে ব্যর্থ হয় বিরোধীরা। জেলা পরিষদের ৬০টির মধ্যে সবক’টি আসনে জিতে যায় তৃণমূল। পাশাপাশি পঞ্চায়েত সমিতি, গ্রাম পঞ্চায়েতে ভালো ফল করে ঘাসফুল শিবির। যারফলে গত লোকসভা ভোটেও বাজিমাত করে শাসক দল। জেলার মেদিনীপুর লোকসভা গিয়েছে তৃণমূলের দখলে। সেটা ছিল বিজেপির দখলে। তবে আগামী  বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক দল। কারণ, এখনও বেশ কিছু পঞ্চায়েতের বুথ এলাকায় তৃণমূল পিছিয়ে। এছাড়াও গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেও পিছিয়ে ছিল ঘাসফুল শিবির।
এক তৃণমূল নেতার কথায়, যা পরিস্থিতি দাড়িয়েছে, বিজেপি সহ বিরোধীদের কোনও অস্তিত্ব নেই। তবে তৃণমূলের শত্রু তৃণমূল। কেশপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় গোষ্ঠী কোন্দল একেবারে চরমে উঠেছে। দলের এক গোষ্ঠীর সমর্থকরা অপর গোষ্ঠীকে সহ্য করতে পারছে না। এনিয়ে জেলাস্তরে বৈঠকও হয়েছে। এছাড়া বহু স্থানীয় নেতৃত্বের উপর ক্ষোভ রয়েছে জেলার নেতা-কর্মীদের। তাই ২১১টি পঞ্চায়েত এলাকাতেই সম্মেলন হবে বলে আশাবাদী। 
সম্পর্কিত সংবাদ