Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গুরুত্ব হারানো ডাকঘরের থিমেই সেজেছে সরস্বতী পুজোর মণ্ডপ

গুরুত্ব হারানো ডাকঘরের থিমেই সেজেছে সরস্বতী পুজোর মণ্ডপ
  • ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সৌমিত্র দাস, কাঁথি: সময়ের নিয়মে আর প্রযুক্তির হাত ধরে হয়েছে স্মার্টফোনের আগমন। আর চালু হয়েছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার সহ নানা মাধ্যম। গুরুত্ব হারিয়েছে এককালে চিঠির আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে মানুষের বড় ভরসা ডাকঘর বা পোস্টঅফিসের। সেই ডাকঘরকেই সরস্বতী পুজোর মণ্ডপে তুলে ধরছে কাঁথি-৩ ব্লকের বাহিরীর রেড রোজ ক্লাব। আস্ত ডাকঘরের আদলে মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। সুউচ্চ মণ্ডপের কোণে কোণে চিঠির বস্তা কাঁধে নিয়ে ছুটতে থাকা ডাকবাহকের চিত্র ফুটে উঠেছে। উদ্দেশ্য, পুরনো এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে নতুন প্রজন্মকে বিশেষ বার্তা দেওয়া। প্রসঙ্গত, দেশের মধ্যে প্রথম ডাকঘর গড়ে উঠেছিল খেজুরিতে। থিমের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে মাইকে আবহসঙ্গীত হিসেবে বাজছে প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া ‘রানার ছুটেছে রানার’। 
Advertisement
মারিশদার বাহিরী ‘সরস্বতীর গ্রাম’ বলে প্রসিদ্ধ। এলাকায় ২০-২৫টি ক্লাব জমজমাট সরস্বতী আরাধনা করে। সরস্বতী পুজোতেই থাকে শারদোৎসবের জাঁক। নতুন নতুন থিমের বাহারে দর্শনার্থীদের চমক দেয়। রেডরোজ ক্লাবের পুজো প্রতিবছরই থাকে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। এবার ৩৪তম বর্ষে ডাকঘর থিম দর্শকদের নজর কাড়বে বলে ক্লাবের কর্মকর্তাদের দাবি। বাজেট ১৫লক্ষ টাকা। সোমবার ক্লাবের পুজোর উদ্বোধন হয়। মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ‘চাইনা আমি তিলোত্তমা হতে’ শীর্ষক মহিলা ক্যারাটে প্রদর্শন সহ নানা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির আয়োজন ছিল। আজ, মঙ্গলবার ও আগামীকাল বুধবার রয়েছে স্থানীয় এবং বহিরাগত শিল্পী সমন্বয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পুজো উপলক্ষে বসেছে মেলা, চলবে আগামী ৬জানুয়ারি পর্যন্ত। ক্লাবের সদস্যসংখ্যা ৫০।  কর্মকর্তারা বলেন, ডাকঘরের সঙ্গে এককালের  মানুষের সুখ-দুঃখ, ব্যথা বেদনা, প্রেম-ভালোবাসা, শ্রদ্ধা-সমীহ এবং আরও অনেক অভিব্যক্তি মিশে রয়েছে। রবি ঠাকুরের ‘পোস্টমাস্টার’ ছোটগল্প আমাদের মনে যে চিত্র ফুটিয়ে তোলে, তা আজ যেন সম্পূর্ণ অজানা, অচেনা। একটা সময় যা ছিল আপনজনের মতো, আজ সেসব দূর থেকে বহুদূরে। মণ্ডপের পরতে পরতে সেই নস্টালজিয়াই ফুটে উঠেছে। 
ক্লাব সম্পাদক সোমনাথ পণ্ডা বলেন, তবুও বুকের মধ্যে যেন নাড়া দিয়ে ওঠে সেই গমগম করা পোস্টঅফিস বা ডাকঘরের স্মৃতি। চোখের কোণ ছলছল করে উঠলেও এবং বুকের মধ্যে ব্যথাতুর অনুভূতি হলেও তা আর হয়তো ফিরবে না। কিন্তু মন চায়, আবার গমগম করুক সেই ডাকঘর, আবার দৌড়ে দৌড়ে এক জায়গা থেকে চিঠির বোঝা কাঁধে নিয়ে আর এক জায়গায় পৌঁছে যাক সকলের প্রিয় সেই রানার, পিওন। -নিজস্ব চিত্র
 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ