Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পর্যাপ্ত কর্মী নেই, বিভিন্ন ট্রেন ও স্টেশনে নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে জিআরপি

পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশকর্মী নেই। বিভিন্ন রেল স্টেশন ও ট্রেনে নজরদারি চালাতে রীতিমতো সমস্যায় পড়েছে রেল পুলিশ

পর্যাপ্ত কর্মী নেই, বিভিন্ন ট্রেন ও স্টেশনে নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে জিআরপি
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশকর্মী নেই। বিভিন্ন রেল স্টেশন ও ট্রেনে নজরদারি চালাতে রীতিমতো সমস্যায় পড়েছে রেল পুলিশ। ভিভিআইপি ট্রেন বাদে সিংহভাগ দূরপাল্লা ও লোকাল ট্রেনে দুই বা তিনজনের বেশি কর্মী দেওয়া যাচ্ছে না। এত বড়ো ট্রেনে এত কম পুলিশকর্মী দিয়ে সমস্ত কামরা পাহারা দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে জিআরপি থানাগুলির পক্ষে। বাড়তি ফোর্স চেয়ে নবান্নের কাছে চিঠি দিয়েছে তারা। সদ্য পুলিশে চাকরি পেয়েছেন যাঁরা, প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা কাজে যোগ দিলে সমস্যা মিটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

রেল যাত্রীদের সুরক্ষা ও অপরাধ মোকাবিলায় জিআরপি রয়েছে বিভিন্ন রেল স্টেশনে। চারটি রেল পুলিশ ডিস্ট্রিক্ট মিলিয়ে ৪৪টি জিআরপি থানা রয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে ৮৪টি জিআরপি পোস্ট। বাম জমানায় রেল পুলিশের থানাগুলি অবহেলিতই ছিল। এক সময়ে জিআরপি থানাগুলি ছিল বয়স্ক অফিসারদের ডাম্পিং রুম। যাঁরা এখানে পোস্টিং পেতেন, তাঁদের সিংহভাগেরই বয়স থাকত ৫৫ বছরের উপর। যে কারণে নতুন করে কাজ করার খুব একটা ইচ্ছা ছিল না তাঁদের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। নতুন অফিসার ও কনস্টেবলদের এখানে পোস্টিং দেওয়া শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রেল স্টেশনে অপরাধের প্রকৃতি বদলে যাওয়ায় এবং জঙ্গিদের নিশানা হওয়ায় পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসে। কিন্তু এই কাজের জন্য যত সংখ্যক পুলিশকর্মী দরকার, জিআরপির হাতে তত বাহিনী নেই।

রেল পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতি বছর ভালো সংখ্যক অফিসার ও কনস্টেবল অবসর গ্রহণ করছেন। সেই জায়গায় নতুন কেউ আসছেন না।  রেল পুলিশে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৫ হাজার ৭৫৭টি। কিন্তু বর্তমানে সেখানে রয়েছেন ৩ হাজার ৬০৫ জন। অর্থাৎ ২ হাজার ১৫৪টি পদ খালি পড়ে রয়েছে অনেকদিন ধরেই। যে কারণে জিআরপি থানাগুলিতে কর্মীর অভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষত হাওড়া, শিয়ালদহ, আসানসোল, দুর্গাপুর, খড়্গপুর, এনজেপির মতো বড়ো স্টেশনে থাকা জিআরপি থানাগুলিকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এই সমস্ত স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেন। সেই সঙ্গে একাধিক দূরপাল্লা ও লোকাল ট্রেনও এই স্টেশনগুলি থেকে ছাড়ে। স্টেশনে তল্লাশি, যাত্রীদের চেকিং করার জন্য একটা ফোর্সের প্রয়োজন হয়। আর একটা ফোর্স দরকার হয় বিভিন্ন দূরপাল্লা ও লোকাল ট্রেনের গার্ড দেওয়ার জন্য। রেল পুলিশের এক অফিসারের কথায়, একদিকে লোক বাড়াতে গেলে অন্যদিকে কমে যাচ্ছে। ভিভিআইপি ট্রেনে এমনিতেই পুলিশকর্মী একটু বেশি দিতে হয়। যে কারণে অন্য দূরপাল্লা বা লোকাল ট্রেনে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশকর্মী থাকছে না। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে অসুবিধা হচ্ছে। পুলিশকর্মী না থাকার সুযোগ নিয়ে ট্রেনে চুরি, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাই বাড়তি পুলিশকর্মী চওয়া হয়েছে নবান্নের

কাছে। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, নতুন পুলিশকর্মীরা কাজে যোগ দিলেই এই সমস্যা মিটিয়ে দেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ