দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে ভূগর্ভস্থ জল। দেশের ১৯৩টি জেলার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যে সমস্ত রাজ্যে জলের আকাল দেখা দেওয়া দিয়েছে, সেই তালিকায় শীর্ষে উত্তরপ্রদেশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আরও এক ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্য—রাজস্থান। তৃতীয় তামিলনাড়ু। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত বেশ কয়েক বছর ধরেই বৃষ্টির জল ধরে রাখার মতো কর্মসূচি রূপায়ণে হাত দিয়েছে কেন্দ্র। এই ব্যাপারে বিভিন্ন সময় রাজ্যগুলির কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকাও পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরে বাংলার নদীয়া জেলায় বৃষ্টির জল ধরে রাখার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে বাংলার তিনটি জেলা—ঝাড়গ্রাম, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল।
জলশক্তি মন্ত্রকের এহেন খতিয়ানে উদ্বিগ্ন তথ্যাভিজ্ঞ মহলের প্রশ্ন, শেষের সেদিন কি তাহলে আর বিশেষ দেরি নেই? ভূগর্ভস্থ জল যদি শেষ হয়ে যেতে থাকে, তাহলে প্রাণীজগতের অবলুপ্তি তো সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এই বিষয়ে আরও সচেতনতা প্রয়োজন বলে মত পরিবেশ বিজ্ঞানীদের। দেশের বিভিন্ন জেলায় জলের আকাল সম্পর্কে জানতে চেয়ে লিখিত প্রশ্ন করেছিলেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ ইন্দুবালা গোস্বামী। তারই লিখিত জবাবে জলশক্তি মন্ত্রকের কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী রাজভূষণ চৌধুরী যে পরিসংখ্যান পেশ করেছেন, তাতেই চোখ কপালে উঠেছে বিশেষজ্ঞ মহলের। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, ভূগর্ভস্থ জলের কী পরিস্থিতি, তা জানতে ২০২২ সাল থেকে সেন্ট্রাল গ্রাউন্ড ওয়াটার বোর্ড (সিজিডব্লুবি) এবং বিভিন্ন রাজ্য সরকার সম্মিলিতভাবে সমীক্ষার কাজ চালাচ্ছে। প্রতি বছরই এ সংক্রান্ত পর্যালোচনা হয়। তারই প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালে সেন্ট্রাল গ্রাউন্ড ওয়াটার বোর্ড ‘ন্যাশনাল কমপাইলেশন অব ডায়নামিক গ্রাউন্ড ওয়াটার রিসোর্সেস অব ইন্ডিয়া, ২০২৪’ নামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেই রিপোর্টে দেশের ১৯৩টি জেলায় জলের আকাল দেখা দিচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। এর মধ্যে ১০২টি জেলাকে ‘ওভার এক্সপ্লয়টেড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২২টি জেলাকে চিহ্নিত করা হয়েছে ‘ক্রিটিক্যাল’ হিসেবে। এবং ৬৯টি জেলাকে ‘সেমি ক্রিটিক্যাল’ আখ্যা দিয়েছে সেন্ট্রাল গ্রাউন্ড ওয়াটার বোর্ড। জলের আকাল দেখা দেওয়া জেলার সংখ্যা সামগ্রিকভাবে উত্তরপ্রদেশে বেশি হলেও ‘ওভার এক্সপ্লয়টেড’ জেলার নিরিখে দেশের শীর্ষে রয়েছে রাজস্থান। এ রাজ্যের ২৯টি জেলায় জল সবথেকে দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তবে দেশব্যাপী এই ১৯৩টি জেলার মধ্যে একটি রয়েছে বাংলারও। সেটিও ‘সেমি ক্রিটিক্যাল’ পর্যায়ে। যদিও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় সরকারি পরিসংখ্যানে কোনও জেলারই নাম উল্লেখ করেনি জলশক্তি মন্ত্রক।